আর্মেনিয়ার সঙ্গে মস্কোর সম্পর্ক নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার মন্তব্য করেছেন রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও প্রেস বিভাগের উপপরিচালক আলেক্সেই ফাদেয়েভ। তার ভাষ্য অনুযায়ী রাশিয়া মনে করে, মস্কোর সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থান আরও কঠোর এবং ‘ব্ল্যাকমেইল’ বা চাপ প্রয়োগের কৌশল অবলম্বন করছে আর্মেনিয়া।

এদিকে, আর্মেনিয়ার নতুন প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান আজ শুক্রবার(৮ আগস্ট) এ বিষয়ে মন্তব্য করেছেন। পাশিনিয়ান বলেন, আর্মেনিয়া বুঝতে পারছে, একই সঙ্গে ইউরেশীয় অর্থনৈতিক ইউনিয়ন (EAEU) ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) সদস্য হওয়া সম্ভব নয়।

কিরগিজস্তানের চোলপন-আতায় ইউরেশীয় আন্তঃসরকারি কাউন্সিলের বর্ধিত বৈঠকে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ কথা বলেন।

আরও পড়ুন

আবারও আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী হলেন নিকোল পাশিনিয়ান

পাশিনিয়ান বলেন, ইউরেশীয় অর্থনৈতিক ইউনিয়নের দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করা আর্মেনিয়ার অন্যতম বৈদেশিক নীতি ও অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার। নতুন সরকারের কর্মসূচিতেও এই বিষয়টি প্রতিফলিত হবে।

ইইউ না ইউরেশীয় ইউনিয়ন?

পাশিনিয়ান বলেন, আমরা বুঝতে পারছি, একই সঙ্গে ইইউ এবং ইউরেশীয় ইউনিয়ন-এর সদস্য হওয়া সম্ভব নয়।

তিনি জানান, ২০২৬ সালের ২৯ মে ইউরেশীয় অর্থনৈতিক ইউনিয়নের চার সদস্যদেশের নেতাদের দেওয়া বিবৃতিটির বিষয়ে আর্মেনিয়া অবগত হয়েছে।

তিনি জানান্ আর্মেনিয়ার ইইউতে যোগদানের প্রক্রিয়া শুরুর আইন পাসের কৌশলগত লক্ষ্য হলো একটি বিকল্প তৈরি করা। তবে, শুধু আইনটি পাস হওয়ার অর্থ এই নয় যে, আর্মেনিয়ার বর্তমানে ইইউ-এর সদস্য হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

পাশিনিয়ান আরও বলেন, ইইউর সঙ্গে আর্মেনিয়ার বর্তমান সম্পর্কের ক্ষেত্রে এমন কোনো আইনি, অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা নেই যা ইউরেশীয় অর্থনৈতিক ইউনিয়নে দেশটির অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

ইউরেশীয় অর্থনৈতিক ইউনিয়ন নিয়ে অসন্তোষ

ইউরেশীয় অর্থনৈতিক ইউনিয়নের কয়েকটি কৌশলগত লক্ষ্য এখনো পুরোপুরি অর্জিত হয়নি বলেও মন্তব্য করেন পাশিনিয়ান। তিনি বলেন, ইউনিয়নের অন্যতম মৌলিক নীতি হলো পুঁজি, পণ্য, সেবা ও শ্রমের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করা। কিন্তু বাস্তবে এসব নীতি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হচ্ছে না।

তার ভাষ্য, বিভিন্ন বিধিনিষেধ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা এখনো অভিন্ন বাজারের পূর্ণ কার্যকারিতায় বাধা দিচ্ছে। এতে ব্যাবসায়িক পরিবেশের পূর্বানুমানযোগ্যতা এবং একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা কমছে।

পাশিনিয়ান বলেন, আর্মেনিয়া ইএইইউ-এর সব সদস্যদেশের অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অনুকূল, সমান ও বৈষম্যহীন ব্যাবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করে আসছে।

তিনি আরও বলেন, সদস্যদেশগুলোর পণ্য ও সেবার অভিন্ন বাজারে প্রবেশাধিকারে প্রভাব ফেলতে পারে-এমন যেকোনো পদক্ষেপ অবশ্যই EAEU-এর আইন অনুযায়ী, সম্মত প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর গঠনমূলক সহযোগিতার মাধ্যমে নেওয়া উচিত।

সূত্র: তাস

কেএম