২০২৮ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগ দিতে পারে আইসল্যান্ড ও মন্টেনিগ্রো। ইউরোপের এই দুটি দেশ একসঙ্গে ইইউ-তে যোগ দিতে পারে সংবাদ প্রকাশ করেছে পলিটিকো।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ২৯ আগস্ট আইসল্যান্ডে একটি গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এতে দেশটির নাগরিকরা ইইউতে যোগদানের আলোচনা পুনরায় শুরু করার পক্ষে ভোট দিলে সদস্যপদ নিয়ে আলোচনা আবার শুরু হতে পারে।

ইউরোপীয় কমিশনের সম্প্রসারণবিষয়ক কমিশনার মার্তা কোস আইসল্যান্ডকে একটি বিশেষ ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কারণ দেশটি ইউরোপীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল (EEA) ও শেনজেন আঞ্চলিক জোটের সদস্য। আইসল্যান্ডের নাগরিকরা আলোচনা পুনরায় শুরুর পক্ষে ভোট দিলে সদস্যপদ নিয়ে আলোচনা শেষ করতে এক থেকে দুই বছর সময় লাগতে পারে বলে তিনি ধারণা দিয়েছেন।

পলিটিকোর প্রতিবেদনে বলা হয়, এতে মন্টেনিগ্রোর সঙ্গে একই সময়ে আইসল্যান্ড ইইউতে যোগ দেওয়ার অবস্থানে চলে আসতে পারে। মন্টেনিগ্রো এরই মধ্যে ৩৩টি আলোচ্য অধ্যায়ের অর্ধেকের বেশি সাময়িকভাবে সম্পন্ন করেছে এবং ২০২৮ সালের মধ্যে ইইউতে যোগদানের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

ইইউর এক কর্মকর্তা বলেছেন, দুই দেশের একসঙ্গে সদস্যপদ লাভের সম্ভাবনা খুবই বেশি। অর্থনৈতিকভাবে উন্নত দেশ হওয়ায় আইসল্যান্ড ইইউ বাজেটে নিট অবদানকারী হতে পারে। এর ফলে মন্টেনেগ্রোর সদস্যপদের আর্থিক ব্যয় সামাল দিতে সহায়তা মিলতে পারে। অন্যদিকে, মন্টেনিগ্রো ইইউর অন্যতম দরিদ্র সদস্যে পরিণত হবে।

মন্টেনিগ্রোর ইউরোপীয় বিষয়ক মন্ত্রী মাইদা গোরচেভিচ বলেছেন, আইসল্যান্ডের সদস্যপদ প্রক্রিয়ার সঙ্গে নিজেদের প্রক্রিয়া যুক্ত করে একসঙ্গে ইইউতে যোগ দিতে পারলে তা স্বাগত জানাবে পোদগোরিচা (মন্টিনিগ্রোর রাজধানী)।

আইসল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী থোরগেরদুর ক্যাটরিন বলেছেন, আলোচনা কতটা এগোয় তার ওপর নির্ভর করে দুই দেশের একসঙ্গে ইইউতে যোগ দেওয়া পুরোপুরি সম্ভব।

প্রায় ৪ লাখ জনসংখ্যার আইসল্যান্ড ইইউতে যোগ দিলে এই দেশটিই হবে জোটটির সবচেয়ে কম জনসংখ্যার দেশ। বর্তমানে প্রায় ৫ লাখ ৯০ হাজার জনসংখ্যার মাল্টা কম জনসংখ্যার দেশের তালিকায় এই অবস্থানে রয়েছে।

একসঙ্গে একাধিক দেশের ইইউতে যোগ দেওয়ার নজির অবশ্য রয়েছে। ১৯৮৬ সালে স্পেন ও পর্তুগাল একসঙ্গে ইইউতে যোগ দেয়। ২০০৭ সালে বুলগেরিয়া ও রোমানিয়া একই চুক্তির মাধ্যমে জোটে প্রবেশ করে। এছাড়া ২০১০ সালে একটি চুক্তির অধীনে একসঙ্গে ১০টি দেশ ইইউতে যোগ দেয়।

কেএম