স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ছিটমহল সেউতায় (Ceuta) বিপুলসংখ্যক অভিবাসীর প্রবেশকে কেন্দ্র করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দুই সদস্য দেশ স্পেন ও ইতালির মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ প্রত্যাহার না করলে ইতালির বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে স্পেন।

গত ৩০ ও ৩১ জুলাই প্রতিবেশী মরক্কো থেকে প্রায় ৭৮ হাজার অভিবাসী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সাঁতরে বা সমুদ্রপথে সেউতায় প্রবেশ করেন। এই নজিরবিহীন ঢলে অন্তত ১০০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনার পর ইতালি স্পেনের সঙ্গে শেনজেন চুক্তির কিছু অংশ সাময়িকভাবে স্থগিত করে। এর আওতায় সমুদ্র ও আকাশপথে প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ এবং সীমান্তে অতিরিক্ত তল্লাশি শুরু করা হয়।

এই সিদ্ধান্তকে ‘অযৌক্তিক’ এবং ‘স্প্যানিশ জনগণের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক’ বলে অভিহিত করেছে স্পেন। দেশটি দাবি করেছে, ৯ আগস্টের মধ্যে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ তুলে নিতে হবে, অন্যথায় নিজেদের নাগরিকদের স্বার্থ ও মর্যাদা রক্ষায় ‘সমানুপাতিক পাল্টা ব্যবস্থা’ নেওয়া হবে। তবে সেই ব্যবস্থা কী হবে, তা স্পষ্ট করা হয়নি।

জবাবে ইতালি জানিয়েছে, তারা কোনো ‘আলটিমেটাম বা চাপ’ মেনে নেবে না। তাদের দাবি, অন্তত ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ বহাল থাকবে, কারণ ওই সময় সেউতায় আরও একটি অভিবাসী ঢল নামতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

তবে স্পেন সরকার এমন কোনো নতুন ঢলের পূর্বাভাস দেয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মরক্কোর কিছু ব্যবহারকারীর নতুন করে সীমান্ত অতিক্রমের আহ্বান জানানো হলেও স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের কার্যালয় বলেছে, পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে এবং গত সপ্তাহের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে বলে তারা মনে করছে না।

ইতালির যুক্তি, সেউতায় প্রবেশ করা অভিবাসীরা পরে ইউরোপের অন্য দেশে, বিশেষ করে ইতালিতে পৌঁছাতে পারে। কিন্তু স্পেন এই ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, এটি ভিত্তিহীন যুক্তি। কারণ সেউতায় প্রবেশ করা অভিবাসীদের শেনজেন অঞ্চলে প্রবেশের সুযোগ নেই এবং অধিকাংশকেই ইতিমধ্যে মরক্কোতে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকট স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির মধ্যে বিদ্যমান রাজনৈতিক মতপার্থক্যকে আরও প্রকট করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিবাসন কমিশনার ম্যাগনুস ব্রুনার মনে করেন, ভুয়া তথ্য ছড়ানো অপরাধী চক্রের প্ররোচনায় এত বিপুলসংখ্যক মানুষ সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করেছে।

এদিকে সেউতায় এখনো প্রায় ১ হাজার ৪০০ অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু অবস্থান করছে। স্পেনের যুবমন্ত্রী সিরা রেগো জানিয়েছেন, পরিস্থিতি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসছে এবং সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের অগ্রাধিকার দিয়ে সহায়তা করা হচ্ছে।