মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগ খারিজ করে দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার (৩০ জুন) দেওয়া এক রায়ে আদালত ট্রাম্পের জারি করা নির্বাহী আদেশকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের নাগরিকত্বের দীর্ঘদিনের সাংবিধানিক অধিকার বহাল থাকল।

সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক ও আইনি ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে তথাকথিত ‘বার্থ টুরিজম’ বা সন্তানকে মার্কিন নাগরিকত্ব দেওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার প্রবণতার সমালোচনা করে আসছিলেন। অবৈধ ও বৈধ—উভয় ধরনের অভিবাসন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের প্রতিশ্রুতিও ছিল তাঁর রাজনৈতিক কর্মসূচির অন্যতম প্রধান অংশ।

রায়ে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নেওয়া যে কোনো ব্যক্তি নাগরিকত্ব লাভ করবে, তার বাবা-মায়ের অভিবাসন অবস্থান যাই হোক না কেন। অর্থাৎ, শিশুটির বাবা-মা অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলেও জন্মসূত্রে সেই শিশু মার্কিন নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি পাবে।

প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামত লিখেছেন। তাঁর সঙ্গে রায়ে একমত হয়েছেন আদালতের রক্ষণশীল ও উদারপন্থী—উভয় ধারার বিচারপতিরা। তবে তিন রক্ষণশীল বিচারপতি—ক্লারেন্স থমাস, স্যামুয়েল আলিটো এবং নিল গরসাচ—এই রায়ের বিরুদ্ধে ভিন্নমত পোষণ করেছেন।

রায়ে জন রবার্টস বলেন, ‘অতীতে যেমন ছিল, আজও নাগরিকত্ব মানে হলো অধিকার ভোগের অধিকার—আমাদের রাজনৈতিক সমাজে স্বাধীনভাবে অংশগ্রহণের অধিকার।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর প্রণেতারা এই প্রতিশ্রুতি দেশের ‘প্রত্যেক স্বাধীনভাবে জন্মগ্রহণকারী মানুষের’ জন্য সম্প্রসারিত করেছিলেন এবং আদালত আজও সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছেন।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের সাংবিধানিক ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করল। একই সঙ্গে এটি অভিবাসন নীতিকে কেন্দ্র করে চলমান রাজনৈতিক বিতর্কে সুপ্রিম কোর্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানও স্পষ্ট করেছে।

ফলে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের নাগরিকত্বের অধিকার নিয়ে দীর্ঘদিনের প্রচলিত ব্যাখ্যা বহাল থাকছে এবং ট্রাম্পের এই সংক্রান্ত উদ্যোগ কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা আপাতত বন্ধ হয়ে গেছে।