পাকিস্তানের লাহোরে একটি বহুতল ভবনের ছাদ ধসে অন্তত ১৪ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার লাহোরের কাহনা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আরও বেশ কয়েকজন শিশু গুরুতর আহত হয়েছে, যাদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

লাহোর জেনারেল হাসপাতাল থেকে সরবরাহকৃত নিহতদের প্রাথমিক তালিকা অনুযায়ী, মৃত শিশুদের বয়স ৫ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে। পাকিস্তানের জরুরি উদ্ধারকারী সংস্থা ‘রেসকিউ ১১২২’-এর মুখপাত্র ফারুক আহমেদ ডন নিউজকে জানিয়েছেন, কাহনা এলাকার একটি আবাসিক ভবনের দুটি কক্ষে স্থানীয় এক নারী ব্যক্তিগত উদ্যোগে একটি কোচিং সেন্টার পরিচালনা করছিলেন। আজ হঠাৎ ওই কক্ষগুলোর ছাদ ধসে পড়ে। এতে ভেতরে থাকা শিশুরা নিচে চাপা পড়ে।

দুর্ঘটনার সময় সেখানে আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ জন শিশু ছিল। ঘটনার পর পরই স্থানীয় বাসিন্দা, রেসকিউ ১১২২ ও স্থানীয় উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে শিশুদের উদ্ধারে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে অনেক শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রাথমিক অনুসন্ধানের পর উদ্ধারকারী সংস্থা জানিয়েছে, ভেঙে পড়া ছাদটি টিআর গার্ডার ও দুর্বল উপাদান দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল। এর কারণে এই আকস্মিক ধস হতে পারে।

লাহোর পুলিশের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি-অপারেশনস) ফয়সাল কামরান জানিয়েছেন, যে ঠিকাদার বা রাজমিস্ত্রি সম্প্রতি এই বাড়িটি নির্মাণ করেছিলেন, তাঁকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি জানান, বাড়িটির একটি অংশে এখনো নির্মাণকাজ চলছিল এবং শ্রমিকেরা যখন কাজ করছিলেন, ঠিক তখনই এই ঘটনা ঘটে।

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি পুলিশ ও জেলা প্রশাসনকে ছাদ ধসে শিশু মৃত্যুর জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

লাহোর জেলা শিক্ষা কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তারেক মাহমুদ জানিয়েছেন, ভবনটিতে সম্পূর্ণ অবৈধ ও অনুমোদনহীনভাবে এই প্রাইভেট কোচিং সেন্টারটি চালানো হচ্ছিল। তিনি নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং এর পেছনে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন।

এদিকে, আহত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য নিকটবর্তী লাহোর জেনারেল হাসপাতালে জরুরি অবস্থা (হেলথ ইমার্জেন্সি) ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও প্যারামেডিকসদের কোনো বিলম্ব ছাড়া দ্রুত আহত শিশুদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।