দেওয়ালে রঙের প্রলেপ উঠে গেছে অনেক আগে। প্রায়ই খসে পড়ে পলেস্তারা। দেওয়াল, ছাদ ও পিলারের স্থানে স্থানে ফাটল। কোথাও কোথাও বেরিয়ে এসেছে রড। ছাদ বেয়ে পড়ছে পানি। এমনই বেহাল লাকসাম উপজেলার আজগরা ইউনিয়নের হাজী আলতাফ আলী হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ ভবনের। দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকাসত্ত্বেও শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান চলছে জরাজীর্ণ এই ভবনে। পুরোনো ভবনের পাশে আরেকটি ভবন থাকলেও সেটির ও নেই জানালা এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে বই-খাতা ভিজে যাওয়াসহ নানা সমস্যায় পড়ছে শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৬৭ সালে প্রায় ১৮১ শতক জায়গা নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়টি ১৯৮৩ সালে পাকা ভবন নির্মাণ করা হয়। ২০০৪ সালে প্রায় ৭ শতক জায়গায় মধ্যে কলেজ প্রশাসনিক দোতলা ভবনটি নির্মাণ করা হয়। খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ৬ বছর আগে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটিতেই চলছে পাঠদান। বিদ্যালয় ও কলেজ শাখা মিলিয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৮১১ জন, শিক্ষক-শিক্ষিকা মোট ৩৪ জন ও কর্মচারী ৮ জন। এ প্রতিষ্ঠানে দিন দিন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারী বাড়লেও বাড়েনি ক্লাসরুমের সংখ্যা। প্রয়োজনের তুলনায় কক্ষের সংখ্যা অত্যন্ত অপ্রতুল। এক একটি ছোট রুমে ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ শিক্ষার্থীকে গাদাগাদি করে বসতে হচ্ছে। ক্লাসরুম সংকটের কারণে অনেক সময় বাধ্য হয়ে একাধিক সেকশনকে একসঙ্গে ক্লাস করাতে হয়, যার ফলে পড়াশোনার স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বিদ্যালয়ের ভবন এমন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সন্তানকে পড়তে পাঠিয়ে আতঙ্কে থাকতে হয়। একাধিক শিক্ষার্থী ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, আমরা প্রতিদিন অজানা আতঙ্ক নিয়ে ক্লাসে আসি। পড়ার চেয়ে মাথার ওপরের ছাদের দিকেই বেশি নজর রাখতে হয়। একটু বৃষ্টি হলেই বই-খাতা ভিজে যায়। ক্লাসরুমে ঢুকে পড়ে পানি। আমরা নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশে পড়াশোনা করতে চাই। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বিল্লাল হোসেন বলেন, স্কুল ও কলেজ শাখার ভবনগুলো দীর্ঘ সময় পার হলেও নতুন করে কোনো টেকসই একাডেমিক ভবন নির্মাণ হয়নি। বিকল্প উপায় না থাকায় বাধ্য হয়েই ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীদের এসব ভবনে পাঠদান করানো হচ্ছে। ইউএনও নার্গিস সুলতানা যুগান্তরক বলেন, জরাজীর্ণ ভবনের বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নতুন ভবন দ্রুত মেরামতের জন্য শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে।








