বিশ্বকাপ ফুটবলে দল বিদায় নেয়; কিন্তু সমর্থকদের আবেগ থেমে যায় না। প্রিয় দল ছিটকে গেলেও অনেকে মুখ ফিরিয়ে নেন না। নতুন দল বেছে নিয়ে বিশ্বকাপের আনন্দে ডুবে থাকেন। বিশ্বকাপে জার্মানির বিদায়ের পর সেই দৃশ্য দেখা গেল। একসময় কালো-লাল-হলুদ জার্সিতে ভরা ছিল যে বাজার, সেখানে এখন স্পেন ও পর্তুগালের লাল জার্সি। রাজধানীর গুলিস্তান, বায়তুল মোকাররম, গুলশান ও উত্তরার বিভিন্ন জার্সির দোকান ঘুরে দেখা গেছে, জার্মানির বিদায়ের পর অনেকে স্পেন ও পর্তুগালের জার্সি খুঁজছেন। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে দুই দলের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স এর বড় কারণ। গুলিস্তানের পাইকারি ব্যবসায়ী শহিদুজ্জামান বলেন, ‘জার্মানি বাদ পড়ার পর কেউ স্পেনের, আবার কেউ পর্তুগালের জার্সি চান। কয়েকদিন আগেও জার্মানির জার্সি বেশি বিক্রি হয়েছে, এখন স্পেন ও পর্তুগালের জার্সি বেশি বিক্রি হচ্ছে।’

বায়তুল মোকাররমের বিক্রেতা আয়নাল বলেন, ‘বিশ্বকাপে যে দল ভালো খেলে বাংলাদেশের বাজারও সেই দিকে ঝুঁকে যায়। জার্মান সমর্থকদের অনেকেই এবার স্পেন ও পর্তুগালের জার্সি কিনছেন।’

গুলশানের একটি স্পোর্টস স্টোরের ব্যবস্থাপক মতিউর রহমান বলেন, ‘অফিশিয়াল জার্সির ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে স্পেন ও পর্তুগালের জার্সির চাহিদা গত এক সপ্তাহে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।’ শুধু ব্যবসায়ীরাই নন, সমর্থকরাও একই কথা বলছেন। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাফিন হাসান বলেন, ‘বন্ধুদের সঙ্গে ফাইনাল পর্যন্ত খেলা দেখব। জার্মানি বাদ পড়েছে। তাই এখন পর্তুগালকে সমর্থন করছি। রোনাল্ডোর খেলা দেখে বড় হয়েছি। তাই পর্তুগালের জার্সি কিনলাম।’ গুলশানের চিকিৎসক আফরোজা আলভী জার্মানির সমর্থক। হাসতে হাসতে বলেন, ‘জার্মানি বাদ পড়ার পর ছেলেমেয়েরা বলল, খেলা তো শেষ হয়নি। চলো আমরা স্পেনকে সমর্থন করি। পুরো পরিবারের জন্য স্পেনের চারটি জার্সি কিনেছি।’

মোহাম্মদপুরের স্কুল শিক্ষিকা রোকসানা কান্তা বলেন, ‘আমি কখনো জার্সি কিনিনি। এবার মেয়েকে নিয়ে পর্তুগালের জার্সি কিনলাম। জার্মানি না থাকলেও বিশ্বকাপের আনন্দটা ধরে রাখতে চাই।’ শুধু জার্সি নয়, স্পেন ও পর্তুগালের পতাকা, ক্যাপ, স্কার্ফ এবং টি-শার্টের বিক্রিও বেড়েছে। অনেকে জার্মানির পতাকার পাশে নতুন করে স্পেন বা পর্তুগালের পতাকা টাঙাচ্ছেন। জার্মানির সমর্থক সাবেক তারকা ফুটবলার আব্দুল গাফফার বলেন, ‘জার্সি বদলেছে, ফুটবলের প্রেম বদলায়নি। জার্মানির জন্য মন খারাপ। তবে বিশ্বকাপের আনন্দ থেমে থাকে না। নতুন স্বপ্ন নিয়েই আবার খেলা দেখি।’ গাফফার বলেন, ‘বিশ্বকাপের প্রতিটি আসরই নতুন নায়ক তৈরি করে, নতুন ইতিহাস লেখে। বাংলাদেশও বিশ্বকাপ ফুটবলের অংশ হয়ে ওঠে। কোনো দল বিদায় নেয়, আবার কোনো দল জায়গা করে নেয় হৃদয়ে। জার্সির রং বদলায়, পতাকা বদলায়, ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা বদলায় না।’