প্রায় ৩০ হাজার দর্শক একসঙ্গে ‘ওয়ান্ডারওয়াল’ ও ‘হেই জুদ’ গেয়ে ইংল্যান্ডের ২-১ ব্যবধানে নরওয়েকে হারানোর উদযাপন করছিল। তবে সে উৎসবের আবহ দ্রুতই ম্লান হয়ে যায়। জোড়া গোল করে দলের জয়ের নায়ক হওয়া জুদ বেলিংহ্যাম এবং ইংল্যান্ডের প্রধান কোচ টমাস টুখেলের মধ্যে কথার লড়াই নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়। আটলান্টায় আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সেমিফাইনালের আগে এই ঘটনা ইংল্যান্ড শিবিরে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে।

সবকিছুর শুরু হয় টুখেলের ম্যাচ-পরবর্তী মন্তব্য থেকে। মাঠেই ইংলিশ টেলিভিশনের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশের বদলে সমালোচনার সুরে কথা বলেন তিনি।

‘আমরা ভাগ্যবান ছিলাম’- মন্তব্য করেন টুখেল। ম্যাচে নরওয়ে একাধিক সুযোগ তৈরি করেছিল। তারা দ্বিতীয় গোলের খুব কাছাকাছিও পৌঁছেছিল, কর্নারের আগে ফাউলের নতুন ভিএআর প্রোটোকলের কারণে একটি গোল বাতিল হয়। এছাড়া একবার তাদের শট ক্রসবারেও লাগে।

টুখেল বলেন, ‘আমরাই নিজেদের জন্য ম্যাচটা কঠিন করে তুলেছি। ফলাফলটা অবশ্যই দারুণ। আমরা শেষ চারে উঠেছি, যা অসাধারণ। কিন্তু পারফরম্যান্সে আমি মোটেও সন্তুষ্ট নই। আমাদের খেলার ধরন এবং বাস্তবায়নে অনেক অসাবধানতা ছিল। অপ্রয়োজনীয় কারিগরি ভুল করেছি, গতি ছিল না, ধারাবাহিকতাও ছিল না।’

কিন্তু কোচের এই মন্তব্য ভালোভাবে নেননি বেলিংহ্যাম। সংবাদ সম্মেলন এলাকায় শুরুতে হাসিমুখেই আসেন জুদ বেলিংহ্যাম। তবে টুখেলের মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই তার মুখের অভিব্যক্তি বদলে যায়।

তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, ঠিক আছে, যাই হোক। মাঠে খেলাটা খুব কঠিন ছিল। সব খেলোয়াড়ই দারুণ পরিশ্রম করেছে। যারা মাঠে নিজেদের সর্বস্ব দিয়েছে, আমার শ্রদ্ধা আর ধন্যবাদ তাদের জন্য।’

ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়সহ ১২০ মিনিট পর্যন্ত গড়ায়। মিয়ামির প্রচণ্ড গরমে, ৬০ শতাংশের বেশি আর্দ্রতা এবং প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস অনুভূত তাপমাত্রায় খেলতে হয় দুই দলকে।

এরপর টুখেলকে উদ্দেশ্য করে বেলিংহ্যাম বলেন, ‘হয়তো তিনি জানেন না, এমন পরিস্থিতিতে আর্লিং হালান্ড, মার্টিন ওডেগার্ড, আন্তোনিও নুসা আর আলেক্সান্ডার সোরলথদের মতো খেলোয়াড়দের বিপক্ষে খেলাটা কতটা কঠিন। ওরা মোটেও সহজ প্রতিপক্ষ নয়। প্রতিটি ম্যাচ শুধু লম্বা পাস বা হাজারটা পাস খেলেই জেতা যায় না। কখনো কখনো কঠিন লড়াই করেই জিততে হয়, আর আজ আমরা সেটাই করেছি।’

এর কিছুক্ষণ পর এক নরওয়েজিয়ান সাংবাদিক, যিনি কেবল নিজের দলের ভালো পারফরম্যান্সের প্রসঙ্গ তুলতে গিয়েছিলেন, টুখেলের ‘ভাগ্যের সহায়তা’ মন্তব্য নিয়ে বেলিংহ্যামের প্রতিক্রিয়া জানতে চান। জবাবে রিয়াল মাদ্রিদের এই মিডফিল্ডার শুধু বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই।‘

এ কথা বলেই মাথা নাড়তে নাড়তে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলা শেষ করেন তিনি। যদিও জার্মান কোচ টুখেল দাবি করে আসছেন যে ড্রেসিংরুমের সমর্থন তার পাশেই রয়েছে এবং বাইরে থেকেও সেটাই দেখা যায়, তবুও বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সেমিফাইনালের আগে এমন পরিস্থিতি ইংল্যান্ডের জন্য মোটেও স্বস্তিদায়ক নয়।

আরএএইচইউএল/আইএইচএস/