কখনও কখনও নায়ক হওয়ার জন্য সবচেয়ে বেশি আলো নিজের ওপর টেনে আনতে হয় না। শুধু ঠিক সময়ে, ঠিক জায়গায় দাঁড়িয়ে ইতিহাসের দরজায় একবার কড়া নাড়লেই হয়। হুলিয়ান আলভারেজ ঠিক সেটাই করলেন।

ক্যানসাস সিটির রাত তখন টানটান উত্তেজনায় জমে আছে। সুইজারল্যান্ড একের পর এক আক্রমণ সামলে আর্জেন্টিনাকে অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে গেছে। ম্যাচ যত গড়াচ্ছে, ততই বাড়ছে উদ্বেগ। এমন সময় ১১২তম মিনিটে যেন বজ্রপাতের মতো হাজির হলেন আলভারেজ। দূরপাল্লার দুর্দান্ত এক শটে তিনি ভেঙে দিলেন সুইসদের স্বপ্ন। মুহূর্তেই বদলে গেল ম্যাচের গল্প। শেষ পর্যন্ত ৩-১ জয়ে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করল আর্জেন্টিনা। আর রাতের সবচেয়ে উজ্জ্বল নাম হয়ে উঠলেন হুলিয়ান আলভারেজ।

শুধু একটা গোল বললে হয়তো ভুল হবে, এটা ছিল এমন একজন স্ট্রাইকারের স্বাক্ষর, যিনি সবসময় দলের প্রয়োজনের মুহূর্তে সামনে এসে দাঁড়ান। তিনি হয়তো প্রতিদিন শিরোনাম হন না, কিন্তু যখন দল বিপদে পড়ে, তখনই তার পায়ে যেন লুকিয়ে থাকে সমাধান।

এই বিশ্বকাপেও আলভারেজের গল্প ঠিক এমনই। লিওনেল স্কালোনি নকআউট পর্বে তার ওপর আস্থা রেখেছেন। মিসরের বিপক্ষে শেষ ষোলোর লড়াইয়েও তিনি শুরুর একাদশে ছিলেন, আর সেই পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতায় কোয়ার্টার ফাইনালেও সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে একাদশে জায়গা ধরে রাখেন। কোচের সেই বিশ্বাসের মূল্য তিনি শোধ করলেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে জয়ের গোল করে।

আলভারেজের ফুটবল জীবনের সৌন্দর্য এখানেই। তিনি শুধু গোলের অপেক্ষায় থাকা একজন স্ট্রাইকার নন। সামনে থেকে প্রেসিং করা, সতীর্থদের জন্য জায়গা তৈরি করা, প্রতিপক্ষের রক্ষণকে ব্যস্ত রাখা এবং সুযোগ এলেই নির্মম ফিনিশিং, সব মিলিয়ে তিনি আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগের সবচেয়ে পরিশ্রমী সৈনিকদের একজন। সেই কারণেই বড় ম্যাচে বারবার তার দিকেই ফিরে তাকান স্কালোনি।

এই বিশ্বকাপে মেসি আলো কেড়েছেন, ম্যাক অ্যালিস্টার গুরুত্বপূর্ণ গোল করেছেন, লাউতারো মার্টিনেজ ম্যাচ শেষ করে দিয়েছেন। কিন্তু সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে যখন আর্জেন্টিনার দরকার ছিল একজন নীরব ঘাতকের, তখন সামনে এলেন হুলিয়ান আলভারেজ। নায়কের সংজ্ঞা সবসময় সবচেয়ে বেশি কথা বলা মানুষ নয়। অনেক সময় নায়ক সেই মানুষ, যিনি সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তে সবচেয়ে বড় কাজটি করে ফেলেন।

হুলিয়ান আলভারেজ আবারও প্রমাণ করলেন, তিনি শুধু আর্জেন্টিনার একজন ফরোয়ার্ড নন। বড় মঞ্চে বড় মুহূর্তের জন্য জন্ম নেওয়া এক যোদ্ধা।