জিম্বাবুয়ের পেসাররা তখন শেষ উইকেটের খোঁজে। হঠাৎ ক্যামেরার লেন্স খুঁজে নিল ডাগআউটে থাকা বাংলাদেশের প্রধান কোচ ফিল সিমন্সকে। মুখে হাত দিয়ে বিমর্ষ চিত্তে বসে আছেন সাবেক ওয়েস্ট ইন্ডিজ তারকা। তাঁর চোখে-মুখে যেন রাজ্যের হতাশা।
সিমন্সের এমন মনমরা হয়ে থাকার কারণ বুঝতে কষ্ট হওয়ার কথা না কারও। হারারে টেস্টের দুই ইনিংসেই বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইন যেভাবে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়েছে, তাতে মন খারাপ হওয়াটাই স্বাভাবিক। এমন বাজে ব্যাটিং প্রদর্শনীতে সফরকারীদের সঙ্গী হয়েছে লজ্জা। জিম্বাবুয়ের কাছে ইনিংস এবং ৮৫ রানে হেরেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
অল্প কথায় বললে, এই টেস্টে ন্যূনতম লড়াই করতে পারেনি বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের বাজে ব্যাটিংয়ের পরই ম্যাচের ভবিষ্যৎ টের পাওয়া যাচ্ছিল। শুরুর সে ব্যর্থতার পর আর নাটকীয় কিছু করে দেখাতে পারেনি অতিথিরা। জিম্বাবুয়ে একমাত্র টেস্ট জিতে নিল মাত্র আড়াই দিনেই।
এ নিয়ে দ্বিতীয়বার জিম্বাবুয়ের কাছে ইনিংস ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ। এর আগে ২০০১ সালের এপ্রিলে বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাব মাঠে স্বাগতিকদের কাছে ইনিংস ও ৩২ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ। আফ্রিকার দলটির কাছে ২৫ বছর আগের সেই লজ্জা আবার পেল শান্তরা।
প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ব্যাট করতে পেরেছিল ৪৭.২ ওভার। সফরকারীদের ১৪০ রানে গুটিয়ে দিয়ে জিম্বাবুয়ে থামে ৪১০ রানে। ২৭০ রানে পিছিয়ে থাকায় ইনিংস হারের শঙ্কায় পড়েছিল বাংলাদেশ। এই লজ্জা এড়াতে দ্বিতীয় ইনিংসে ঘুরে দাঁড়াতে হতো ব্যাটারদের। কিন্তু আরও একবার বাংলাদেশে ব্যাটিং ব্যর্থতার চিত্র আলগা হলো হারারের উইকেটে। আগের ইনিংসের চেয়ে কিছুটা ভালো হলেও ১৮৫ রানের বেশি করতে পারেনি বাংলাদেশ।
আরও একবার ব্যর্থ হয়েছে ওপেনিং জুটি। প্রথম ইনিংসে ফিফটি করলেও এ যাত্রায় হতাশার গল্প এঁকেছেন মুমিনুল হক। দুই ইনিংসেই ব্যর্থ হয়েছেন অভিষিক্ত তাওহীদ হৃদয় ও অমিত হাসান। দ্বিতীয় ইনিংসে ২৫ রান করে অমিত তাও নিজের ব্যর্থতার পাল্লাটাকে কিছুটা কমিয়ে এনেছেন। কিন্তু দুই ইনিংসে ৩ ও ৯ রান করে টেস্ট ক্যারিয়ারের শুরুতেই মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখলেন হৃদয়।
দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ইনিংস হার এড়ানোর সুযোগ ছিল শান্ত, মুশফিকের সামনে। ক্রিজে টিকে গেলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি তাঁরা। শান্ত ৩০ ও মুশফিকের ৩৪ রান দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে সেরা। এই তথ্যই সাক্ষ্য দেয়, জিম্বাবুয়ের বোলারদের সামনে কতটা অসহায় ছিল বাংলাদেশ। অতিথিদের অলআউট করার পথে ব্লেসিং মুজারাবানি ৪ ও রিচার্ড এনগারাভা নেন ৩ উইকেট। এ ছাড়া নিউম্যান নিয়ামহুরির শিকার দুটি।








