আদালতের আদেশে রাজধানীর অদূরে পূর্বাচলের জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের ‘জয়িতা’ ভবনে বরখাস্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের উপ-পরিচালক মো. হাফিজুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল বাড়িটির আট ও নয় তলায় থাকা মালামালের ইনভেন্টরি ও তালিকা তৈরির কাজ করছে। তল্লাশিকালে সেখানে দামি আসবাবপত্র, পোশাক, গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিপত্র এবং একাধিক ‘সাদা স্বর্ণের’ গহনা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। ​দুদক সূত্র জানায়, আপাতত মূল্যবান এসব স্বর্ণালংকারসহ অন্যান্য সামগ্রীর তালিকা তৈরির কাজ চলছে। তবে পাওয়া সোনা ও হোয়াইট গোল্ড হিসেবে চিহ্নিত সামগ্রীগুলো আসল কি না, তা বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে যাচাইয়ের পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাবে দুদক। যাচাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেগুলোকে মূল্যবান ধাতু হিসেবে চূড়ান্তভাবে তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে না এবং আপাতত এসব মূল্যবান সামগ্রীর স্থান হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে। ​এ বিষয়ে দুদকের সহকারী পরিচালক তানজির আহমেদ জানান, দুদক কর্মকর্তারা জিয়াউল আহসানের জলসিঁড়ির আট ও নয়তলার ডুপ্লেক্স ভবনে ইনভেন্টরির কাজ করছেন এবং ওই ভবনেই তিনি পরিবার নিয়ে থাকতেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুদকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ভবনটিতে থাকা আসবাব, ইলেকট্রনিক সামগ্রী, অলঙ্কার, শোপিস ও ব্যবহার্য সামগ্রীর তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে, তবে ইনভেন্টরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো সামগ্রীর সংখ্যা বা মূল্য সম্পর্কে চূড়ান্ত মন্তব্য করা যাচ্ছে না। দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আদালতের আদেশে ক্রোক করা সম্পত্তিতে থাকা প্রতিটি জিনিসের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করে তা যাচাই-বাছাই শেষে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। ​জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে ২০২৫ সালের ২৩ জানুয়ারি জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। এর আগে গত বছরের ২৪ এপ্রিল আদালতের আদেশে তার ১৮ কোটি টাকার জমি, বাড়ি ও ফ্ল্যাট ক্রোক এবং ৯টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। সর্বশেষ এনটিএমসির মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই কর্মকর্তা আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর বরখাস্ত হন এবং ২০২৪ সালের ১৫ আগস্ট খিলক্ষেত এলাকা থেকে গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে কারাগারে আছেন। জলসিঁড়ি প্রকল্পের ১২ নম্বর সেক্টরের ৫০৬ নম্বর সড়কের ১৪ নম্বর প্লটের ওই ভবনেই তিনি ও তার পরিবার বসবাস করতেন।