ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর চোখে জল। পর্তুগালের জয়ের পরও তিনি মাঠ ছাড়ছেন মাথা নিচু করে। গায়ে তখন এক সাবেক সতীর্থের জার্সি। শুধু রোনাল্ডো নন, গোটা পর্তুগাল দল তখন স্মরণ করছে-তাদের ওই সাবেক সতীর্থকে। বেঁচে থাকলে তাকেও হয়তো এই বিশ্বকাপে খেলতে দেখা যেত। হয়তো তিনিও রোনাল্ডো-ব্রুনোদের সঙ্গে জয় উদযাপন করতেন।
এক বছর আগে একটি সড়ক দুর্ঘটনা শোকাহত করে তুলেছিল গোটা ফুটবলবিশ্বকে। পশ্চিম স্পেনে সড়ক দুর্ঘটনায় দিয়োগো জোতা এবং তার ছোট ভাই আন্দ্রে সিলভার মৃত্যু হয়। মাত্র ২৮ বছর বয়সে প্রয়াত হন পর্তুগাল ফুটবলের তারকা। রেখে যান স্ত্রী এবং তিন সন্তানকে। ২০২৫ সালের জুনে পর্তুগাল যে উয়েফা নেশন্স লিগ জিতেছিল, সেই দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন জোতা। তার পরবর্তী লক্ষ্য ছিল এবারের বিশ্বকাপ। বেঁচে থাকলে তিনি যে রবার্তো মার্তিনেজের দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হতেন, সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। জোতা আজ পৃথিবীতে নেই। কিন্তু পর্তুগাল শিবিরে তিনি যেন না থেকেও আছেন। তাই ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নামার আগে জোতাকে স্মরণ করেছেন পর্তুগিজ ফুটবলাররা। এই ম্যাচে তাদের জেতার তাগিদ যেন অনেকগুণ বেড়ে গিয়েছিল জোতার জন্য। জয়ের পর তাই আর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি রোনাল্ডোরা। ডাগআউট থেকে জোতার ২১ নম্বর জার্সি পরে নেমে আসেন মাঠে। উপরের দিকে হাত তুলে যেন জোতার উদ্দেশ্যে বলেন, ‘এই জয় তোমার জন্য।’ সতীর্থের কথা ভেবে চোখ ভিজে যায় ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর।
জোতাকে সম্মান জানিয়েছে খোদ ফিফাও। পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচে জায়ান্ট স্ক্রিনে ফুটে ওঠে তার ছবি। সঙ্গে পর্তুগিজ তারকাকে স্মরণ করার বার্তা। জোতার ক্লাব লিভারপুলও নিজেদের সাবেক তারকাকে ভোলেনি। লিভারপুল জানিয়েছে, অ্যানফিল্ডে স্মৃতিসৌধ হবে জোতার নামে।








