জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে লক্ষ্মীপুরে জেলা প্রশাসনের আয়োজিত সরকারি অনুষ্ঠান হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। অনুষ্ঠানে ছাত্রশিবিরের এক নেতার বক্তব্য ঘিরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা প্রতিবাদে ফেটে পড়লে সভাকক্ষে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সভায় প্রথমে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা সাইফুল ইসলাম মুরাদ বক্তব্য দেন। পরে ছাত্রশিবির নেতা সারোয়ার হোসেন বক্তব্য দিতে গিয়ে পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে নিয়ে সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, ২৫ জুলাই শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি গ্রেফতার হওয়ার পর আন্দোলনের নেতৃত্ব কে দিয়েছেন? আমাদের সাইফুল ইসলাম মুরাদকে তিনি নাকি চেনেন না। কিন্তু লক্ষ্মীপুর ও সারা দেশের মানুষ মুরাদকে চেনে।
এ বক্তব্যের পর জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নাছিরুজ্জামান রাহাতসহ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ জানালে সভাকক্ষে হট্টগোল শুরু হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উপস্থিত রাজনৈতিক নেতারা হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
এ সময় সারোয়ার হোসেন উপস্থিতদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা শান্ত হন। বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করবেন না।
ঘটনার পর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবুল বারাকাত সৌরভ অভিযোগ করে বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদের কোনো দাওয়াত দেওয়া হয়নি। এরপরও আমাদের কয়েকজন নেতা সেখানে যান। অনুষ্ঠানে শিবিরের নেতাকর্মীরা উসকানিমূলক ও অশালীন বক্তব্য দেওয়ায় আমাদের নেতারা তার প্রতিবাদ করেছেন।
জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ বলেন, জুলাইযোদ্ধা হিসেবে আমিও এখানে দাওয়াত পাওয়ার কথা। কিন্তু আমি দাওয়াত পাইনি। জুলাই নিয়ে যে কমিটি করা হয়েছে, সেখানে বৈষম্য করা হয়েছে। এখনো যদি বৈষম্য করা হয়, তবে তা দুঃখজনক ব্যাপার।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা বলেন, ঘটনার সময় ডিসি ও এসপি স্যারসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। আয়োজনটি ছিল জেলা প্রশাসনের। সরকারি প্রোগ্রাম হলে বক্তাদের কিছুটা রাজনৈতিক বক্তব্য নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। পরে তা স্বাভাবিক হয়।
জেলা পুলিশ সুপার আবু তারেক সাংবাদিকদের বলেন, দু’পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়েছে। তবে তেমন বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসান, লক্ষ্মীপুর পৌর প্রশাসক সম্রাট খীসা, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা, চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াসমিন নিপা, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এ আর হাফিজ উল্লাহ, জেলা ইসলামী আন্দোলনের সেক্রেটারি জহির উদ্দিন, জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি সাহেদুর রহমান রাফি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক আরমান হোসেন ও মুখ্য সংগঠক সাইফুল ইসলাম মুরাদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা।
কাজল কায়েস/কেএইচকে/জেআইএম








