তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, যাদের আত্মত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, জাতি তাদের অবদান চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তিনি বলেন, সেই আত্মত্যাগের ধারাবাহিকতায় রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে সক্ষম হয়েছে বিএনপি।
‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে বুধবার (৫ আগস্ট) ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী ১৭ বছরের দীর্ঘ আন্দোলনে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলটির নেতাকর্মী এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সদস্যরা নিরলস সংগ্রাম করেছেন। তিনি বলেন, আজ বিএনপি সরকার গঠন করতে পেরেছে তাদের সেই ত্যাগ ও সংগ্রামের ফলেই।
নিজের রাজনৈতিক কর্মপন্থা তুলে ধরে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, আমি নীরব ও নিভৃতে নান্দাইলের সার্বিক উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। ফ্যাসিবাদের কঠিন সময়ে যখন কেউ নান্দাইলে বিএনপিকে নেতৃত্ব দেওয়ার সাহস পায়নি, তখন আমি নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে রাজপথে থেকে আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছি। এসময় মুহুর্মুহু করতালির মাধ্যমে উপস্থিত নেতাকর্মীরা তাতে সায় দেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী ১৭ বছরের আন্দোলনে অনেকেই কারাবরণ করেছেন, জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং অনেকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যে সংগ্রামের বীজ রোপণ করেছিলেন, তার ঐতিহাসিক পরিণতি অর্জিত হয় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। আজ সেই ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্ণ হয়েছে।
সভায় তিনি জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবার ও যোদ্ধাদের পুনর্বাসনে একাধিক উদ্যোগের ঘোষণা দেন। তালিকাভুক্ত জুলাই শহীদ পরিবারের জন্য আগামী দুই মাসের মধ্যে আধাপাকা ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হবে। এছাড়া আগামী সাত দিনের মধ্যে শহীদ পরিবারের বাড়িতে নলকূপ (টিউবওয়েল) স্থাপন করা হবে।
তিনি বলেন, নান্দাইলের শহীদ পরিবারগুলোর জন্য ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড প্রদান করা হবে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে শহীদ পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও জীবনমান উন্নয়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
নান্দাইলের প্রতিটি ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও পৌরসভার রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কালভার্ট, স্কুল ও মাদ্রাসার উন্নয়ন কাজের প্রতিনিয়ত খোঁজ রাখা হচ্ছে এবং এগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হবে।
নান্দাইল উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সালাহ উদ্দিন মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা সভায় বক্তব্য রাখেন শহীদ জুবায়ের ইসলামের ছোট ভাই মোহাম্মদ আলী, শহীদ হুমায়ুন কবিরের বড় ভাই মোহাম্মদ আলী, জুলাই যোদ্ধা শেখ সাদী, জুলাই যোদ্ধা রানা হোসেন, ছাত্রদল নেতা পিয়াস হোসেন, যুবদল নেতা হাকীকুজ্জাম নওফেল এবং জুলাই আন্দোলনের সমন্বয়ক ছাত্রনেতা সাইফুল ইসলাম শাহীন।
এছাড়া অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নান্দাইল প্রেস ক্লাবের সভাপতি এনামুল হক বাবুল, নান্দাইল উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান লিটন, উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা কে. এম. আবদুল্লাহ আল মামুন এবং নান্দাইল উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব এনামুল কাদের।
অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা, জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবারের সদস্য, সংবর্ধিত জুলাই যোদ্ধা, স্থানীয় সাংবাদিক, সিভিল প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আগে সকালে প্রতিমন্ত্রী নান্দাইল পৌঁছে শহীদ মিনার চত্বরে জুলাই শহীদদের স্মরণে বৃক্ষরোপণ করেন। এরপর উপজেলা পরিষদের সামনে জুলাইয়ের স্মৃতি ধরে রাখার জন্য গ্রাফিতিতে স্বাক্ষর করেন প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।
বিকেলে অডিটরিয়ামের সামনে উন্মুক্ত স্থানে ছবিতে জুলাই শিরোনামে ফটো প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী। এসময় জুলাই নিয়ে বিশেষ বই মেলারও উদ্বোধন করেন তিনি।
এরপর একই স্থানে স্মৃতির ক্যানভাস-এ নিজের অভিজ্ঞতা লিখে স্বাক্ষর করেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী। পরে অন্যরাও ক্যানভাসে জুলাই নিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা লেখেন।
পরে তিনি উপজেলা পরিষদে স্থাপিত 'জুলাই কর্নার'-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী নিজের পরিবারের পরলোকগত সদস্যদের কবর জিয়ারত, ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাত করেন।
এমএএস/এমএএইচ/








