ঘর শুধু থাকার জায়গা নয়, এটি এখন ব্যক্তিত্ব প্রকাশেরও একটি মাধ্যমও বটে। তাই ঘর সাজানোর ক্ষেত্রেও বদলে যাচ্ছে মানুষের রুচি। একসময় ভারী আসবাব, উজ্জ্বল রং কিংবা অতিরিক্ত সাজসজ্জাই ছিল জনপ্রিয়।

কিন্তু এখনকার তরুণ প্রজন্ম ঝুঁকছে এমন এক ইন্টেরিয়র স্টাইলের দিকে, যেখানে রয়েছে সরলতা, আরাম এবং প্রকৃতির ছোঁয়া। আর এই কারণেই বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে জাপান্ডি স্টাইল।

জাপানি মিনিমালিজম এবং স্ক্যান্ডিনেভিয়ান নকশার সমন্বয়ে তৈরি এই ইন্টেরিয়র স্টাইল এখন আধুনিক ঘর সাজানোর অন্যতম ট্রেন্ড। ছোট ফ্ল্যাট থেকে বড় বাড়ি-সব ধরনের জায়গাতেই এটি সহজে মানিয়ে যায়।

jago

কী এই জাপান্ডি স্টাইল?

'জাপান্ডি' শব্দটি এসেছে জাপান এবং স্ক্যান্ডিনেভিয়া এই দুই অঞ্চলের নকশা দর্শনের সমন্বয় থেকে। জাপানি নকশায় যেমন থাকে সরলতা, ভারসাম্য এবং প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধা, তেমনি স্ক্যান্ডিনেভিয়ান ডিজাইনে গুরুত্ব দেওয়া হয় আরাম, কার্যকারিতা এবং উষ্ণ পরিবেশকে। এই দুই ধারার মিলনেই তৈরি হয়েছে জাপান্ডি স্টাইল।

এখানে অপ্রয়োজনীয় কিছু রাখার জায়গা নেই। প্রতিটি আসবাবের নির্দিষ্ট কাজ থাকে, আবার দেখতে হয় নান্দনিক।

jago

তরুণদের এখন পছন্দ

বর্তমান সময়ে অনেকেই ছোট অ্যাপার্টমেন্টে থাকেন। তাই ঘরকে প্রশস্ত ও গোছানো দেখানো বড়
জাপান্ডি স্টাইল সেই সমস্যার সহজ সমাধান দেয়।এই স্টাইলে কম আসবাব ব্যবহার করা হয়, ফলে ঘর খোলামেলা দেখায়। একই সঙ্গে প্রতিটি জিনিস নির্দিষ্ট জায়গায় থাকায় অগোছালো ভাবও কমে যায়।

এ ছাড়া এখন অনেকেই মানসিক প্রশান্তিকে গুরুত্ব দেন। গবেষণায়ও দেখা গেছে, পরিপাটি ও কম জিনিসপত্র থাকা পরিবেশ মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে। তাই শান্ত, পরিচ্ছন্ন এবং স্বস্তিদায়ক পরিবেশের জন্য অনেকেই এই স্টাইল বেছে নিচ্ছেন।

jago

জাপান্ডি স্টাইলের প্রধান বৈশিষ্ট্য

জাপান্ডি ঘরে সাধারণত সাদা, অফ-হোয়াইট, বেইজ, ধূসর, হালকা বাদামি কিংবা মাটির রঙের ব্যবহার বেশি দেখা যায়। এসব রং ঘরে শান্ত ও আরামদায়ক পরিবেশ তৈরি করে। আসবাবপত্রও হয় সাধারণ নকশার। অতিরিক্ত কারুকাজ বা অলংকরণ থাকে না। কাঠের টেবিল, নিচু সোফা, বাঁশের ঝুড়ি কিংবা লিনেন কাপড় এই স্টাইলের সঙ্গে দারুণ মানিয়ে যায়।

ঘরে প্রাকৃতিক আলো প্রবেশের সুযোগ রাখা হয়। ভারী পর্দার বদলে হালকা রঙের পর্দা ব্যবহার করা হয়, যাতে ঘর আরও উজ্জ্বল ও প্রশস্ত দেখায়।

jago

প্রকৃতির ছোঁয়া

জাপান্ডি স্টাইলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ইনডোর গাছ। ছোট মানিপ্ল্যান্ট, স্নেক প্ল্যান্ট, বাঁশ কিংবা অন্য সবুজ গাছ ঘরের সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি সতেজ অনুভূতিও এনে দেয়। মাটির ফুলদানি, সিরামিকের শোপিস কিংবা হাতে তৈরি কাঠের সাজসজ্জাও এই স্টাইলের সঙ্গে ভালো মানিয়ে যায়।

ছোট ঘর সাজানো

অনেকেই মনে করেন সুন্দর ইন্টেরিয়রের জন্য বড় বাড়ি দরকার। বাস্তবে জাপান্ডি স্টাইল ছোট ঘরেই সবচেয়ে বেশি কার্যকর।

ওয়াল শেলফ, মাল্টিফাংশনাল ফার্নিচার, ভাঁজ করা টেবিল কিংবা স্টোরেজযুক্ত বেঞ্চ ব্যবহার করলে কম জায়গাতেও ঘর অনেক বেশি গোছানো থাকে।

যেভাবে সাজাবেন

জাপান্ডি স্টাইল অনুসরণ করতে পুরো ঘর নতুন করে সাজানোর প্রয়োজন নেই। প্রথমে অপ্রয়োজনীয় জিনিস সরিয়ে ফেলুন। এরপর নিরপেক্ষ রঙের কুশন, কাঠের ছোট টেবিল, একটি ইনডোর প্ল্যান্ট বা মাটির ফুলদানি দিয়ে ধীরে ধীরে পরিবর্তন আনতে পারেন। একসঙ্গে অনেক সাজসজ্জা না করে কম কিন্তু মানসম্পন্ন জিনিস ব্যবহার করাই এই স্টাইলের মূল দর্শন।

আরও পড়ুন

ক্রোকারি ইউনিটে বদলে যাবে খাবার ঘরের লুক

জাপান্ডি শুধু একটি ইন্টেরিয়র ট্রেন্ড নয়, এটি একটি জীবনধারা। কম জিনিসে স্বাচ্ছন্দ্যে থাকা, অপ্রয়োজনীয় জিনিস কমানো এবং প্রকৃতির কাছাকাছি থাকার যে ধারণা এটি তুলে ধরে, তা আধুনিক ব্যস্ত জীবনের সঙ্গে দারুণভাবে মানিয়ে যায়।

আরও পড়ুন

সরু মুখের কাচের বোতল যেভাবে পরিষ্কার করবেন 

তাই যারা ঘরে শান্ত, পরিচ্ছন্ন, আরামদায়ক এবং সময়ের সঙ্গে মানানসই একটি পরিবেশ তৈরি করতে চান, তাদের কাছে জাপান্ডি স্টাইল এখন সবচেয়ে জনপ্রিয় পছন্দ হয়ে উঠছে।

সূত্র: দ্য স্প্রুস, হাউজ বিউটিফুল

এসএকেওয়াই