বিশ্বকাপ শুরুর আগে গোল্ডেন বুটের অন্যতম দাবিদার ভাবা হয়েছিল লামিনে ইয়ামালকে। কিন্তু ছয় ম্যাচ শেষে স্পেনের তরুণ সেনাপতির নামের পাশে গোল মোটে একটি। সেটিও গ্রুপপর্বে সৌদি আরবের বিপক্ষে। তবে গোলের রেসে লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে, হ্যারি কেইন, আর্লিং হলান্ডদের সঙ্গে টক্কর দিতে না পারলেও কার্যকারিতায় একটুও পিছিয়ে নেই ইয়ামাল। ১৮ বছর বয়সি এই বার্সেলোনা উইঙ্গারকে ঘিরে ছন্দময় ফুটবলের পসরা সাজিয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছে স্পেন। বেলজিয়ামের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে জেতা শেষ আটের লড়াইয়ে গোল না করেও ম্যাচসেরা হয়েছেন ইয়ামাল। তার গতি, ড্রিবলিং, নিখুঁত পাস ও জাদুকরী ফুটবল প্রতিপক্ষকে ধাঁধায় ফেলে দেয়। তাকে কড়া মার্কিংয়ে রাখতে গিয়ে স্পেনের আক্রমণ ভাগের অন্য খেলোয়ড়দের জায়গা করে খেলার সুযোগ করে দেয় প্রতিপক্ষ। এখানেই শেষ নয়। স্পেনের অধিকাংশ ম্যাচেই গোলের সুযোগ সবচেয়ে বেশি তৈরি করেছেন ইয়ামাল।

নিজে গোল না পেলেও তাই চিন্তা নেই স্পেনের প্রাণভোমরার। ইয়ামালের চাই বিশ্বকাপ ট্রফি। গত পরশু রাতে সেমিতে ওঠার পর নিজের গোলখরা নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘অবশ্যই আমি গোল করতে চাই, কিন্তু শুধু গোলের চিন্তা নিয়ে মাঠে নামি না। ভাবি কীভাবে দলকে সাহায্য করা যায়। যদি আমরা বিশ্বকাপ জিততে পারি, কেউ মনে রাখবে না যে, আমি কয়টা গোল করেছি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো জেতা। আমি ট্রফি পেলেই খুশি।’

সেমিফাইনালে স্পেনের প্রতিপক্ষ উইরোপের আরেক পরাশক্তি ফ্রান্স। ২০২৪ ইউরো ও ২০২৫ নেশন্স লিগের সেমিফাইনালে কিলিয়ান এমবাপ্পের ফ্রান্সকে হারানোর মুখস্মৃতি থাকায় এবারও জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ইয়ামাল। দুই বছর আগে ইউরোজয়ের পথে সেমিতে ফ্রান্সের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় গোলটি করেছিলেন তিনি। সেই প্রসঙ্গ টেনে ইয়ামাল বলেছেন, ‘দুই বছর আগে আমি মাত্র একটি গোল করার পরও আমরা ইউরো জিতেছিলাম। বিশ্বকাপেও আমার গোল একটি। আমি তাই নির্ভার। জানি, গোল করতে না পারলেও অন্যভাবে দলের জয়ে অবদান রাখতে পারি। আমি প্রতিপক্ষের মনোযোগ ধরে রাখতে পারলে আমার সতীর্থদের কাজ সহজ হয়ে যায়।’

ফ্রান্সের আক্রমণ ভাগ এই বিশ্বকাপের সেরা হলেও নিজেদের পিছিয়ে রাখতে নারাজ ইয়ামাল, ‘দুটি সম্ভাবনা আছে। হয় তারা টানা তৃতীয়বার বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠবে, নয়তো টানা তিনটি সেমিফাইনালে তারা আমাদের কাছে হারবে। দেখা যাক কী হয়। যদি ফ্রান্সের কাউকে ভয় পেতে হয়, সেটা আমরা। আগেও ওদের বিদায় করেছি আমরা। আমাদের কোনো ভয়-ডর নেই। অনেকদিন পর সেমিফাইনালে উঠে আমরা ভীষণ খুশি। ফাইনালের আগে বিদায় নেওয়ার কোনো ইচ্ছা নেই।’