মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কমলগঞ্জ জোনাল অফিসের অধীনের গ্রাহকরা ভূতুড়ে বিলের কারণে ভোগান্তিসহ দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। নতুন বিদ্যুৎ বিলে আগের চেয়ে তিন থেকে চারগুণ বেশি বিল এসেছে। এভাবে উপজেলার অসংখ্য বিদ্যুৎ গ্রাহক ভৌতিক বিল নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। ভূতুড়ে এ বিল সংশোধন করতে গিয়ে এবং বিদ্যুৎ অফিসে দিনের পর দিন ধরনা দিয়েও মিলছে না প্রতিকার, উলটো চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে গ্রাহকদের। ফলে গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ ও চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। জানা যায়, মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কমলগঞ্জ জোনাল অফিসের অধীনে প্রায় ৮০ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। এর মধ্যে ২২টি চা বাগানও রয়েছে। ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ, বাস্তবে ব্যবহৃত ইউনিটের সঙ্গে বিদ্যুৎ অফিসের তৈরি করা বিলের কোনো মিল নেই। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, গত মাসের তুলনায় জুন মাসে বিল এসেছে তিন থেকে চারগুণ বেশি। ভানুগাছ বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল অদুদ বলেন, ‘আমার প্রতিষ্ঠানের বিল পরিশোধ করা থাকলেও জুন মাসের বিলের সঙ্গে ২০২৪ সালের মার্চ মাসের একটি বিল যুক্ত করে দিয়েছে। এখন এ দায়ভার আমার নাকি বিদ্যুৎ অফিসের? এখন আমাকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ফেলে রেখে বিদ্যুৎ অফিসে ধরনা দিতে হচ্ছে।’ উপজেলার সদর ইউনিয়ন এলাকার গ্রাহক ইমরান মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার ছোট একটি দোকানে প্রতি মাসে সাধারণত ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা বিল আসে। কিন্তু এবার কোনো কারণ ছাড়াই জুন মাসে বিল এসেছে চার হাজার ৮০০ টাকা। মিটারের রিডিং চেক করে দেখলাম, বিলে অনেক বেশি ইউনিট লিখে রাখা হয়েছে। অফিসে গেলে তারা সমন্বয় করে ১৮শ টাকার বিল ধরিয়ে দিয়েছে।’ একই অবস্থা উপজেলার ভানুগাছ, মুন্সিবাজার, পতনঊষার, আলীনগর, মাধবপুরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের। সাধারণ নিু আয়ের মানুষ ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো এ বাড়তি বিলের বোঝা টানতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। জানা গেছে, মাঠপর্যায়ে গিয়ে মিটারের প্রকৃত রিডিং না দেখেই অফিসে বসে অনুমানের ওপর ভিত্তি করে এ বিল তৈরি করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগের রিডাররা নিয়মিত বাড়ি বাড়ি না গিয়ে একবারে কয়েক মাসের রিডিং একসঙ্গে দিয়ে দিচ্ছেন, যার ফলে গ্রাহকরা ‘স্ল্যাব’ পরিবর্তনের গ্যাঁড়াকলে পড়ে যাচ্ছেন। বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ একটি নির্দিষ্ট সীমা পার হলেই ইউনিটের দাম বেড়ে যায়, আর মাঠপর্যায়ের কর্মীদের গাফিলতির খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ গ্রাহককে। অস্বাভাবিক এ বিলের কপি নিয়ে গ্রাহকরা যখন স্থানীয় বিদ্যুৎ অফিসে যাচ্ছেন, তখন সেখানে তাদের পড়তে হচ্ছে আরেক দফায় ভোগান্তিতে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও কোনো সুরাহা মিলছে না। অভিযোগ রয়েছে, কোনো কোনো গ্রাহককে বিল সংশোধনের নামে হয়রানি এবং ধমক দিয়ে বিদায় করে দেওয়া হচ্ছে। সময়মতো বিল পরিশোধ না করলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অনেকে। মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কমলগঞ্জ জোনাল অফিসের ডিজিএম রঞ্জন কুমার ঘোষ গ্রাহকের ভোগান্তির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘আমাদের সফটওয়্যার পরিবর্তনের কারণে অনেক গ্রাহকেরই সমস্যা হয়েছে। পুরাতন বিল লেজারে উঠে গেছে, এ সমস্যার দ্রুত সমাধান হবে। এছাড়া মিটারে কোনো ত্রুটি বা রিডিংয়ে ভুল হলে তা খতিয়ে দেখে দ্রুত সংশোধনের আশ্বাস দেন তিনি। তিনি আরও বলেন, ‘গ্রাহকদের অযথা হয়রানি করার কোনো উদ্দেশ্য নেই। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আমরা অবশ্যই বিল সংশোধন করে দেব।’