যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দেওয়া ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন সামরিক শক্তি ও জাতীয় ক্ষমতার প্রশংসা করেছেন। একইসঙ্গে তিনি ‘কমিউনিস্ট’দের তীব্র নিশানা করে দেশের অভ্যন্তরীণ আদর্শিক হুমকির বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা দিয়েছেন।

রবিবার (৫ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে তুরস্কের সংবাদমাধ্যম আনাদোলু। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় শনিবার রাতে ওয়াশিংটনে আয়োজিত ‘স্যালুট টু আমেরিকা’ উৎসবে দেওয়া এক দীর্ঘ ভাষণে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে ‘স্বাধীনতার আবাসস্থল’ এবং ‘মুক্তির ভূমি’ হিসেবে বর্ণনা করেন। মার্কিন পতাকার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “এই পতাকাটি পৃথিবীর বুকে অস্তিত্বশীল সবচেয়ে অসাধারণ, সবচেয়ে ব্যতিক্রমী এবং সবচেয়ে অবিশ্বাস্য একটি জাতির প্রতীক।” 

নিজের ভাষণে ট্রাম্প আমেরিকার সনাতন মূল্যবোধের সুরক্ষায় কমিউনিস্ট ভাবধারাকে বড় হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, “আমরা আমাদের দেশে কোনো কমিউনিস্ট চাই না। এই ব্যবস্থা কখনো সফল হয়নি, আর কখনো হবেও না।” 

কমিউনিজমকে ‘ক্যানসারের মতো’ আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প আরো বলেন, “আপনাকে এটি দ্রুত কেটে বাদ দিতে হবে।”

ভাষণে ট্রাম্প সরাসরি কারো নাম উল্লেখ না করলেও, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাইমারিতে জয়ী কয়েকজন ‘সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট’ প্রার্থীর উদ্দেশ্যেই তিনি এই মন্তব্য করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের অনন্য বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “বিশ্বের অন্যান্য অনেক দেশের মতো নয়, আমাদের দেশে বাকস্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, আইনের চোখে সমান বিচার... এবং অস্ত্র রাখার ও বহন করার অধিকার রয়েছে।”

ট্রাম্প তার মেয়াদে বন্দুকের অধিকার রক্ষার বিষয়টিও তুলে ধরে বলেন “আমি প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রায় ছয় বছর অত্যন্ত শক্তিশালীভাবে আপনাদের দ্বিতীয় সংশোধনীকে পাহারা দিয়েছি। তারা এর কোনো ক্ষতি করতে পারেনি।”

মার্কিন প্রেসিডেন্ট সামরিক বাহিনীতে নিয়োগের ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তনের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমাদের সামরিক বাহিনীতে এখন প্রবেশ করা বেশ কঠিন। দুই বছর আগে যেখানে আমরা সামরিক বাহিনীর শূন্যপদ পূরণ করতে পারছিলাম না, আজ সেখানে ভর্তির প্রতিযোগিতা উপচে পড়ছে।”

বিদেশে মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের সাফল্য তুলে ধরে ট্রাম্প ইরান ও ভেনেজুয়েলার প্রসঙ্গ টানেন। তিনি বলেন, “আপনারা ভেনেজুয়েলা এবং ইরানের দিকে তাকান, আমরা তাদের নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছি, তাদের সামরিক বাহিনীকে গুঁড়িয়ে দিয়েছি।”

পাশাপাশি মার্কিন ইতিহাস ও আত্মত্যাগের প্রতীক হিসেবে পানামা খাল নির্মাণের গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় স্মরণ করেন ট্রাম্প। তিনি এটিকে সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রকৌশল কীর্তি হিসেবে উল্লেখ করে জানান, এই খাল নির্মাণে ৩৮ হাজার আমেরিকান প্রাণ হারিয়েছিলেন।

পুরো ভাষণজুড়ে ট্রাম্প দেশপ্রেম, সামরিক শক্তি এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতাকে একসূত্রে গেঁথে দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন এক নতুন পরাক্রমশালী যুগে প্রবেশ করছে।

তিনি বলেন, “আমেরিকান স্বপ্ন অত্যন্ত শক্তিশালী এবং সুন্দরভাবে ফিরে এসেছে। আজ আমাদের দেশ আবারো জয়ী হচ্ছে এবং আমরা এমনভাবে জিতছি যা আগে কখনো দেখা যায়নি।”

উল্লেখ্য, ওয়াশিংটনে তীব্র দাবদাহ এবং পরবর্তীতে ঝড়-বৃষ্টির কারণে অনুষ্ঠানটি বিঘ্নিত হয় এবং নির্ধারিত সময়ের চেয়ে প্রায় এক ঘণ্টা পর ট্রাম্প মঞ্চে ওঠেন। তার বক্তব্য শেষ হওয়ার পর এক জাঁকজমকপূর্ণ আতশবাজি প্রদর্শনী এবং কনসার্টের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার আড়াইশ বছর পূর্তি উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।