যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে দেওয়া ভাষণে দেশটির সামরিক শক্তি ও জাতীয় সক্ষমতার প্রশংসা করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি ‘কমিউনিস্ট’ মতাদর্শের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান ব্যক্ত করেছেন।
শনিবার (৪ জুলাই) রাতে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘স্বাধীনতার নিবাস’ এবং ‘মুক্তির ভূমি’। তিনি মার্কিন পতাকাকে ‘পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে অসাধারণ ও ব্যতিক্রমী জাতির প্রতীক’ বলে বর্ণনা করেন। ট্রাম্প বলেন, ‘কমিউনিজম ক্যানসারের মতো—এটিকে দ্রুত কেটে ফেলতে হবে।’
ভাষণে তিনি কমিউনিজমকে আমেরিকান মূল্যবোধের পরিপন্থি বলে উল্লেখ করেছেন। ট্রাম্প বলেন, ‘কমিউনিস্টদের এসব কথাবার্তার কোনো সুযোগ নেই। আমরা আমাদের দেশে কমিউনিস্ট চাই না। এটি কখনও কাজ করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘কমিউনিজম ক্যানসারের মতো—এটিকে দ্রুত কেটে ফেলতে হবে।’
ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, আইনের দৃষ্টিতে সমতা এবং অস্ত্র রাখার সাংবিধানিক অধিকার বিদ্যমান। তিনি তার প্রেসিডেন্সির সময় দ্বিতীয় সংশোধনী (Second Amendment) জোরালোভাবে রক্ষা করেছেন বলেও উল্লেখ করেন।
বিদেশনীতি প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘আপনি ভেনেজুয়েলা দেখুন, ইরানকে দেখুন—আমরা তাদের সামরিক শক্তি গুঁড়িয়ে দিয়েছি।’ তবে, তিনি এ দাবির পক্ষে ভাষণে কোনো নির্দিষ্ট সামরিক অভিযান বা ঘটনার উল্লেখ করেননি।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন সেনাবাহিনীতে যোগদানের আগ্রহ ব্যাপকভাবে বেড়েছে। তার ভাষায়, ‘দুই বছর আগে আমরা নিয়োগ পূরণ করতে পারতাম না, আর এখন যোগদানের জন্য ভিড় লেগে গেছে।’
ট্রাম্প পানামা খাল কে ‘সব সময়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রকৌশল কীর্তি’ বলে উল্লেখ করেন এবং দাবি করেন, এর নির্মাণে ৩৮ হাজার মার্কিন নাগরিক প্রাণ হারিয়েছিলেন।
পুরো ভাষণজুড়ে তিনি দেশপ্রেম, সামরিক শক্তি ও অর্থনৈতিক পুনরুত্থানের বিষয়গুলোকে একসঙ্গে তুলে ধরেন। ট্রাম্প বলেন, ‘আমেরিকান স্বপ্ন ফিরে এসেছে—খুব শক্তিশালীভাবে। আজ আমাদের দেশ আবার জয়ী হচ্ছে, এবং আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি জয়ী হচ্ছে।’
তার ভাষণের পর ওয়াশিংটনে বড় আকারের আতশবাজি প্রদর্শনী ও সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা পরে ট্রাম্পের ভাষণ শুরু হয়।
সূত্র: দ্য হিল/ আনাদোলু এজেন্সি
কেএম








