দেশের সবচেয়ে বেশি মঞ্চায়িত নাটক ‘কঞ্জুস’। শুক্রবার দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে রাজধানীর বেইলি রোড এলাকার মহিলা সমিতিতে নাটকটি মঞ্চায়ন করে লোক নাট্যদল বনানী। নাটকটির রূপান্তর করেন নাট্যজন তারিক আনাম খান এবং নির্দেশনা দেন নাট্যজন কামরুন নূর চৌধুরী। ফরাসি নাট্যকার মলিয়েরের বিখ্যাত কমেডি ‘দ্য মাইজার’ অবলম্বনে এটি প্রথম মঞ্চে আনে অবিভক্ত লোক নাট্যদল।
১৯৮১তে প্রতিষ্ঠিত এই দলটি মতবিরোধে ১৯৮৮ সালে প্রথম ভাঙে। নাম হয় লোকনাট্য দল (টিএসসি)। দুই অংশই ‘কঞ্জুস’-এর প্রথম প্রদর্শনীর হিসাব অনুযায়ী মঞ্চে আনতে থাকে। অবশ্য কিছুদিন পর লোকনাট্যদল (টিএসসি) প্রায় নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। পরবর্তীতে ২০০৫ সালে আরেক দফা ভাঙনের মুখে পড়ে দলটি। হয়ে যায় লোকনাট্য দল (বনানী)। আর অবশিষ্ট অংশের নাম হয় লোক নাট্যদল (সিদ্বেশ্বরী)। এই দুই দলই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ১৯৮১ সালের ৬ জুন পালন করে। আবার ‘কঞ্জুস’ মঞ্চায়নের হিসাব একইভাবে করে যায়। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার লোকনাট্যদল (বনানী) ‘কঞ্জুস’-এর ৭৯৭তম প্রদর্শনী করে। একই স্থানে ৬ জুলাই সন্ধ্যায় ‘কঞ্জুস’-এর ৭৯৮তম মঞ্চায়ন হবে। নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন আবদুল্লাহ আল হারুন, ইউজিন গোমেজ, সামসাদ বেগম, আনোয়ার কায়সার, মনিকা বিশ্বাস, তানজিনা রহমান, আবু তাহের লিটন আকাশ, বাসুদেব হালদার, মিনহাজুল হুদা দীপ, সাদেকুল ইসলাম, সোহেল মাসুদ প্রমুখ।
এদিকে জুলাই অভ্যুত্থানের পর লোকনাট্য দল (সিদ্ধেশ্বরীর) প্রধান লিয়াকত আলী লাকীসহ অনেকেই দেশের বাইরে। আবার অনেক শিল্পী অভিনয়ে নিষ্ক্রিয়। ফলে তাদেরকে মঞ্চায়ন করতে দেখা যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘কঞ্জুস’ নাটক মঞ্চায়নের সংখ্যা নিয়ে দুই দল নানা কথা বললেও এখন একমাত্র সক্রিয় লোকনাট্য দল (বনানী)। ফলে কঞ্জুসের নাটাই এখন তাদের হাতে। লোক নাট্যদল টিএসসি তো রীতিমতো বিলুপ্ত। আর লোকনাট্যদল (সিদ্ধেশ্বরী) কবে ‘কঞ্জুস’ নিয়ে মঞ্চে ফিরবে এখনো নিশ্চিতভাবে বলতে পারছে না কেউ।








