চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার চরলক্ষ্যা ইউনিয়নে কালভার্ট দখল করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ও সমতা গ্রুপের মালিক আজিজুর রহমানের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কালভার্ট দখল করে স্থাপনা নির্মাণের ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই সেখানে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে এবং ইউনিয়নের ১ হাজার ৭০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে কালভার্ট দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করায় সমতা গ্রুপের মালিক আজিজুর ও মনির সোলেমান ফকিরের বাড়ির পাশ দিয়ে বড় বিলের পানি খইন্যা খাল হয়ে মামা-ভাগিনা খালে যাওয়ার স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ফেরাং ফকির সড়ক ও আলতাফুর শাহ (রহ.) সড়কের কালভার্টও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তাদের দাবি, বড় বিলের পানি খইন্যা খাল হয়ে মামা-ভাগিনা খালে নিষ্কাশিত হতে পারছে না। ভারী বৃষ্টিপাত হলে বিস্তীর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানান, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কারণে সরকারি কালভার্ট দখল করে বাড়ি ও দেয়াল নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে কয়েক বছর ধরে তারা এই দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। তারা কালভার্ট দখলমুক্ত করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা সুগম করতে স্থানীয় সংসদ-সদস্য (এমপি) ও উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এলাকাবাসী আরও জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইতোমধ্যে জলাবদ্ধ স্থান পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তারা তার কাছে চারটি দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো-চরলক্ষ্যা বড় বিলের পানি নিষ্কাশনের প্রধান পথ খইন্যা খালের সঙ্গে সংযুক্ত মামা-ভাগিনা খাল ও নর্দমা দখলমুক্ত করা, চরলক্ষ্যা হাসপাতাল সড়কের জরাজীর্ণ অংশ দ্রুত সংস্কার, বাদামতলা এলাকায় নতুন কালভার্ট নির্মাণ এবং পানি চলাচল স্বাভাবিক রাখতে অবরুদ্ধ নালা-নর্দমা দ্রুত পরিষ্কার করা। এদিকে অভিযোগের বিষয়ে পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা আজিজুর রহমানের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ বলেন, স্থানীয়দের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইউএনওকে সঙ্গে নিয়ে জলাবদ্ধস্থান পরিদর্শন করেছি। তিনি ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছেন। একইসঙ্গে তিনি সরকারি কালভার্ট দখল করা হয়েছে, নাকি ব্যক্তিগত জায়গায় দেওয়াল নির্মাণের কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছেন। কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিদুয়ানুল ইসলাম বলেন, আমি সরেজমিন এলাকা পরিদর্শন করেছি এবং স্থানীয়দের অভিযোগ শুনেছি। ভুক্তভোগীদের লিখিত আবেদন করতে বলেছি। আবেদন পাওয়ার পর তদন্ত করে ভোগান্তি নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।