​ফিফা বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও হ্যারি কেইনের অসাধারণ জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানে শ্বাসরুদ্ধকর জয় পেয়েছে ইংল্যান্ড। ২ জুলাই (বাংলাদেশ সময় বুধবার রাতে) আটালান্টা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে জয় পেয়ে ১৯৬৬ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা টুর্নামেন্টের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে, যেখানে ঐতিহাসিক এস্তাদিও অ্যাজতেকা স্টেডিয়ামে তারা মুখোমুখি হবে স্বাগতিক মেক্সিকোর। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম প্রথমার্ধে পিছিয়ে থাকার পরও জয় তুলে নিয়ে নতুন রেকর্ড গড়লো থ্রি লায়ন্সরা। ​ম্যাচের শুরুতেই চমক দেখায় ডিআর কঙ্গো। ৭ম মিনিটে অধিনায়ক শঁসেল এমবেম্বার নিখুঁত ক্রস থেকে বেনি সিপেঙ্গা জোরালো শটে বল জালে জড়িয়ে কঙ্গোকে এগিয়ে নেন। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এটিই কঙ্গোর প্রথম গোল। গোল হজমের পর মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালায় ইংল্যান্ড। তবে কঙ্গোর গোলরক্ষক লিওনেল ম্পাসি প্রথমার্ধে জুড বেলিংহাম ও হ্যারি কেইনের একের পর এক নিশ্চিত গোল রুখে দিয়ে কঙ্গোর দুর্গ অক্ষত রাখেন। বিরতির ঠিক আগে কঙ্গোর ইয়োয়ান উইসার একটি শট পোস্টে লেগে ফিরে এলে ব্যবধান দ্বিগুণ করা সম্ভব হয়নি। প্রথমার্ধের ৪৪ মিনিটে কেইন ডি-বক্সে পড়ে গেলে পেনাল্টির আবেদন করে ইংল্যান্ড, তবে ভিএআর পরীক্ষার পর রেফারি তা নাকচ করে দেন। প্রথমার্ধে ৫৮ শতাংশ বলের দখল রেখেও ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যায় টমাস টুখেলের দল। ​দ্বিতীয়ার্ধেও একই ছন্দে আক্রমণ বজায় রাখে ইংল্যান্ড, কিন্তু ম্পাসির দুর্দান্ত গ্লাভস বারবার বাধা হয়ে দাঁড়ায়। অবশেষে ম্যাচের ৭৫ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় অ্যান্থনি গর্ডনের চমৎকার ক্রস থেকে লাফিয়ে উঠে নিখুঁত হেডে গোল করে ইংল্যান্ডকে ১-১ সমতায় ফেরান অধিনায়ক হ্যারি কেইন। সমতায় ফেরার পরপরই ৭৬ মিনিটে কঙ্গোর কোচ কৌশলগত পরিবর্তন এনে বেনি সিপেঙ্গা ও নোয়া মুকাউকে তুলে নেন এবং মাঠে নামান থিও বংগোন্ডা ও এদো কায়েম্বেকে। তবে সেই পরিবর্তন কাজে আসেনি। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে হ্যারি কেইন নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে ইংল্যান্ডের ২-১ ব্যবধানের নাটকীয় জয় নিশ্চিত করেন। এই গোলের মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপে নিজের চতুর্থ গোল করার পাশাপাশি বিশ্বকাপে হেডে সর্বোচ্চ গোলের তালিকায় মিরোস্লাভ ক্লোসা ও জার্ড মুলারের পাশে জায়গা করে নিলেন কেইন। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত হ্যারি কেইনের জোড়া গোলের কাছে হৃদয় ভাঙে আফ্রিকার দেশটির।