মাদকের মধ্যে কোনো ভেজাল না থাকলেও নিত্যদিনের খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল থাকাটা বড়ই আশ্চর্যজনক বলে মন্তব্য করেছেন সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহার। আজ বৃহস্পতিবার প্রশ্নোত্তর পর্বে খাদ্য প্রতিমন্ত্রীর কাছে এ প্রশ্ন করেন সাবিকুন্নাহার। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়।

অধিবেশনের নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিয়ে সাবিকুন্নাহার ফলের মৌসুমে বাজারে ফরমালিন ও ভেজালের আধিক্য নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বর্তমানে ফলের মৌসুমে বাজারে এত ফল থাকা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষ সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগে। কোন ফলটি কিনবে, কোনটি ফরমালিনমুক্ত আর কোনটি স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী—তা নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ভেজালের এই চাদরে ঢাকা দুনিয়ায় মাদকে কোনো ভেজাল না থাকাটা অত্যন্ত বিস্ময়কর মন্তব্য করে তিনি খাদ্যের মান সংরক্ষণ এবং ভেজালমুক্ত খাদ্য নিশ্চিতকরণে সরকারের সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের বিষয়ে খাদ্য প্রতিমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

জবাবে ভেজালের ভয়াবহতার কথা স্বীকার করে একে একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী। প্রতিমন্ত্রী জানান, খাদ্যে ভেজালের কারণে দেশে ক্যানসার ও কিডনি রোগের মতো মারাত্মক ব্যাধি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। তিনি নিজে বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন।

খাদ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গত কালই মোবাইল কোর্টের ম্যাজিস্ট্রেট ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা ব্যাপী একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। খাদ্যদ্রব্যকে ভেজালমুক্ত করতে এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদানের লক্ষ্যে জনপ্রশাসন উপদেষ্টার নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, ইতিমধ্যে সেই কমিটির প্রথম বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে এবং সেখান থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ সম্মিলিতভাবে এই অপতৎপরতা রোধে মাঠে নামবে। প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনা অনুযায়ী খাদ্যদ্রব্য পুরোপুরি ভেজালমুক্ত করতে সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে সরকার সচেষ্ট রয়েছে।

বর্তমান সরকার সব ক্ষেত্রেই জবাবদিহি ও সাফল্যের সঙ্গে কাজ করছে উল্লেখ করে খাদ্যমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন, খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধের এই লড়াইয়েও সরকার অবশ্যই সফল হবে।