পরিবেশ সংরক্ষণ, সবুজায়ন সম্প্রসারণ এবং মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় একদিনে ২৬ হাজার ফলজ ও বনজ গাছের চারা বিতরণ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। একইসঙ্গে একটি মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিক্ষার্থীদের মধ্যে চারা ও শুকনো খাদ্যসামগ্রীও বিতরণ করা হয়েছে।
শনিবার (১৯ জুলাই) সকালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৪ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট (দ্য বেবি টাইগার্স) আওতাধীন দীঘিনালা জোন পৃথক দুটি কর্মসূচির মাধ্যমে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করে।
সেনাবাহিনী সূত্রে জানা গেছে, এদিন সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত দীঘিনালা উপজেলার মেরুং ইউনিয়নের ৪ নম্বর টাওয়ার টিলা এলাকায় অবস্থিত দারুল উলুম সাহিদা সুমাইয়া বালিকা মাদ্রাসা ও এতিমখানায় প্রথম কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে দীঘিনালা জোনের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আল-আমিন (৪ ইস্ট বেঙ্গল) উপস্থিত থেকে প্রতিষ্ঠানের ২৫০ জন ছাত্রীর মাঝে ৪০০টি বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ ও বনজ গাছের চারা বিতরণ করেন।
এ সময় শিক্ষার্থীদের জন্য খেজুর, চিড়া, বিস্কুট, মুড়িসহ বিভিন্ন ধরনের শুকনো খাদ্যসামগ্রীও বিতরণ করা হয়। সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা শিক্ষার্থীদের পরিবেশ রক্ষায় বেশি বেশি গাছ লাগানো ও পরিচর্যার আহ্বান জানান। তারা বলেন, একটি সবুজ ও বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। একই সঙ্গে অসহায় ও এতিম শিশুদের শিক্ষা ও কল্যাণে সেনাবাহিনীর মানবিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ দীঘিনালা জোনের এ উদ্যোগের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জানায়, গাছের চারা ও খাদ্যসামগ্রী শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত উপকারী হবে এবং এ ধরনের সহযোগিতা তাদের শিক্ষা ও পরিবেশ সচেতনতায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
এরপর সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ‘পরিকল্পিত বনায়ন গড়ি, সবুজ বাংলাদেশ গড়ি’ প্রতিপাদ্যে দীঘিনালা জোনে বৃক্ষরোপণ অভিযান-২০২৬-এর আওতায় ব্যাপক চারা বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আল-আমিন, নির্দেশনায় দীঘিনালা জোনে ৭ হাজার এবং সাব-জোনের মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আরও ১৯ হাজারসহ মোট ২৬ হাজার বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ ও বনজ গাছের চারা স্থানীয় জনগণের মাঝে বিতরণ করা হয়।
চারা বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন দীঘিনালা জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর শিহাবুন সাকিব রুশাদ, পিএসসি। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন জোনের অ্যাডজুট্যান্ট ক্যাপ্টেন আব্দুল্লাহ আল আজমী, কবাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নলেজ চাকমা, বোয়ালখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান চয়ন বিকাশ চাকমা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক, সেনাবাহিনীর সদস্য এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানায়, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, পাহাড়ের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বৃক্ষরোপণের সচেতনতা বৃদ্ধি করতেই এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। পাহাড়ি ও বাঙালি—উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের হাতে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ ও বনজ গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়।
এসময় মেজর শিহাবুন সাকিব রুশাদ বলেন, একটি গাছ শুধু পরিবেশকে সবুজ করে না, এটি মানুষের জীবন, স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎকেও নিরাপদ করে। তাই আমরা আজ দীঘিনালা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ২৬ হাজার ফলজ ও বনজ গাছের চারা বিতরণ করছি।
তিনি আরও বলেন, প্রত্যেকে যদি অন্তত একটি করে গাছ রোপণ করে তার সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করি, তাহলে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ, সুন্দর ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। পরিবেশ সংরক্ষণে সেনাবাহিনীর এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
চারা গ্রহণকারী স্থানীয় বাসিন্দারা সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, একদিকে পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়ন, অন্যদিকে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে দীঘিনালা জোন সামাজিক দায়িত্ববোধের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক ও পরিবেশবান্ধব কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
প্রবীর সুমন/কেএইচকে/জেআইএম






