খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার মধুমঙ্গল পাড়ায় সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে গুলিতে নিহত দুইজনের মরদেহ খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) বিকেল পর্যন্ত আত্মীয়-স্বজন কেউ তাদের মরদেহ নিতে আসেননি।
পানছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফেরদৌস ওয়াহিদ জানান, নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ নেওয়ার জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে তাদের আত্মীয়-স্বজনদের খোজা হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে ময়নাতদন্ড শেষে রিয়েল চাকমার মরদেহ তার ফুফু লোগাং এলাকার বাসিন্দা শেফালি চাকমা নিয়ে গেছে। অন্য দুইজনের মরদেহ কেউ নিতে না আসায় হাসপাতালের মর্গে পড়ে আছে।
সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে পানছড়ি উপজেলার চেঙ্গী ইউনিয়নের মধুমঙ্গলপাড়ায় গুলিবিদ্ধ হয়ে তিন তরুণ নিহত হয়। নিহত ব্যক্তিরা হলেন— পদ্ম চাকমা (১৮), ধনা চাকমা (১৮) ও রিয়েল চাকমা (১৮)।
ঘটনার পর পুলিশ জানায়, আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সংঘর্ষে তারা নিহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে পানছড়ি ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস ওয়াহিদ জানান, অটোরিকশা থেকে নামিয়ে ওই তিন তরুণকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, একটি অটোরিকশায় করে পাঁচজন যুবক পানছড়ির লোগাং এলাকা থেকে পানছড়ি বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে মধুমঙ্গলপাড়া এলাকায় তাঁদের অটোরিকশা থেকে নামান অস্ত্রধারী কয়েকজন। এরপর অস্ত্রধারীরা তিনজনকে গুলি করে হত্যার পর দুইজনকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। নিহত পদ্ম চাকমা ও ধনা চাকমার বাড়ি রাঙামাটিতে এবং রিয়েল চাকমার বাড়ি পানছড়ি উপজেলায়।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তিনটি লাশ উদ্ধারের পাশাপাশি লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়া দুটি গুলি, ১৪টি ব্যবহৃত গুলির খোসা এবং চারটি তাজা গুলি উদ্ধার করেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে বলে জানান পানছড়ি থানার ওসি ফেরদৌস ওয়াহিদ।
এ ঘটনায় ইউপিপিএফ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, পাঁচজন কর্মী জেএসএস ছেড়ে আসার কারণে তাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে তিনজনকে গুলি করে হত্যা করে এবং দুইজনকে নিয়ে চলে যায়। তবে এ ঘটনার জন্য জেএসএস (সন্তু লারমা) দলের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।








