বগুড়ার গাবতলী উপজেলার খাল খনন কর্মসূচিতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে, অতিদরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিতে নেওয়া এই প্রকল্পে শ্রমিকের তালিকায় ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার, স্কুলশিক্ষক, প্রবাসীসহ সচ্ছলদের নাম দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পে শ্রমিক হিসেবে নাম থাকলেও বেশির ভাগ লোকজন মাঠে কাজ করছেন না।

উপজেলার খুপি হাড়িভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছ থেকে আটবাড়িয়া আশ্রয়ণ প্রকল্প পর্যন্ত খাল পুনঃখননের কাজ চলছে। গত ২০ জুন স্থানীয় সংসদ সদস্য মোরশেদ মিলটন এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। ১ দশমিক ৮৬০ মিটার দৈর্ঘ্যের খাল খনন কাজে শ্রমিকের তালিকায় ৩০০ জনের নাম পাওয়া গেছে।

সম্প্রতি খুপি হাড়িভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কয়েকজন শ্রমিক কোদাল দিয়ে খালের পাড় বাঁধার কাজ করছেন। খাল খননে খননকারী যন্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে।

শ্রমিকেরা জানান, কর্মসূচি উদ্বোধনের দিন প্রায় ১৫০ জন শ্রমিক উপস্থিত ছিলেন। পরদিন থেকেই শ্রমিকের সংখ্যা কমে যায়। তালিকায় ৩০০ জনের নাম থাকলেও বাস্তবে মাঠে কাজ করছেন ৫০ থেকে ৬০ জন শ্রমিক।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শ্রমিক তালিকায় উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের জামিরবাড়িয়া গ্রামের মামুনের নাম আছে। তিনি মালয়েশিয়া প্রবাসী। তালিকায় দেওয়া মোবাইল নম্বরটি তাঁর ছোট ভাই সুমনের।

শ্রমিক তালিকায় থাকা জামিরবাড়িয়া গ্রামের রুহুল আমিন আকন্দ ও স্কুলশিক্ষক রবিউল ইসলাম সোনারায় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হজরত আকন্দের ছেলে। শ্রমিকের তালিকায় মেম্বার হজরত আকন্দেরও নাম আছে। তালিকার শ্রমিক হিসেবে থাকা গ্রামের কবির হোসেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন।

সোনারায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাজা মন্ডলের নামও তালিকায় পাওয়া গেছে। জানতে চাইলে রাজা মন্ডল বলেন, ‘অফিস থেকে দ্রুত সময়ের মধ্যে শ্রমিকের তালিকা দিতে বলা হয়েছিল। শ্রমিক না পাওয়ায় আমার নামসহ অনেকের নাম দিতে হয়েছে। পরে আমার নাম বাদ দিয়ে ছোট ভাই রাজু মন্ডলের নাম দেওয়া হয়েছে।’

ইউপি সদস্য হজরত আলীর ছেলে স্কুলশিক্ষক রবিউল ইসলাম বলেন, ‘এই প্রকল্পে দুইজন ভিআইপি শ্রমিক রয়েছেন, তাঁদের মধ্যে আমি একজন।’

গাবতলী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মজিদুল ইসলাম বলেন, তালিকায় চেয়ারম্যান, মেম্বার, তাঁদের ছেলে, প্রবাসী কিংবা স্কুলশিক্ষকের নাম থাকার কথা নয়। তালিকা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।