যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজার আনুষ্ঠানিকতার প্রথম ধাপ শুরু করেছে ইরান। শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে তার মরদেহ সঙ্গীদেরসহ তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় নিয়ে আসা হয়। 

দুই দিনব্যাপী সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মরদেহটি এখন মূল প্রার্থনা কক্ষে রাখা হয়েছে। বিদেশি গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা গ্র্যান্ড মোসাল্লায় গিয়ে তাদের শেষ শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। প্রথম বিদেশি অতিথি হিসেবে শ্রদ্ধা নিবেদনকারীদের মধ্যে ছিলেন ইন্দোনেশিয়া ও আফগানিস্তানের ধর্মীয় পণ্ডিত ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা। খবর প্রেস টিভির।

শুক্রবার (৩ জুলাই) এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, শহীদ নেতার বিদায় অনুষ্ঠানে বিশ্বের প্রায় ১০০টি দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল, জননেতৃবৃন্দ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।

তিনি বলেন, “আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে অত্যন্ত উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল তেহরানে এসে পৌঁছেছেন। অন্তত আটটি দেশের প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রী এবং ১২টি দেশের পার্লামেন্ট স্পিকার এই শেষ বিদায়ে সশরীরে উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া অনেক দেশ তাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বা বিশেষ দূত পাঠিয়েছে।”

তবে ইউরোপের যেসব দেশ ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসনকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন করেছিল, তাদের এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর শুরু হওয়া ৪০ দিনব্যাপী যুদ্ধের প্রথম দিনেই মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সন্ধ্যায় তার কার্যালয়ের কর্মকর্তা ও যুদ্ধে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে একটি ঘরোয়া বিদায় অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।

এরপর আজ শুক্রবার সকাল থেকে জনসাধারণের জন্য গ্র্যান্ড মোসাল্লার দুয়ার খুলে দেওয়া হয়। 

ইরানি কর্মকর্তাদের অনুমান, ৬ দিনব্যাপী এই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানে প্রায় দেড় থেকে দুই কোটি শোকাহত মানুষের সমাগম ঘটবে।

দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় দল-মত নির্বিশেষে দেশের সর্বস্তরের মানুষকে এই জানাজায় শরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “ইসলাম ও বিপ্লবের এই একনিষ্ঠ সেবককে বিদায় জানাতে আমি জাতি, ধর্ম ও রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে সকল ইরানিকে ঐতিহাসিক সংখ্যায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। এর মাধ্যমে আমাদের জাতীয় ঐক্য ও ইসলামী ব্যবস্থার প্রতি আনুগত্যের এক চিরস্থায়ী চিত্র বিশ্ব দেখবে।”

ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, শনি ও রবিবার গ্র্যান্ড মোসাল্লায় খামেনির মরদেহ শায়িত থাকবে। আগামী সোমবার (৬ জুলাই) তেহরানে বিশাল জানাজার নামাজ ও শোক মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে ইরানের পবিত্র নগরী কোমে। সেখান থেকে শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতার জন্য মরদেহ ইরাকের বাগদাদ, কারবালা ও নাজাফে নিয়ে যাওয়া হবে। সবশেষে আগামী ৯ জুলাই ইরানের মাশহাদে তার দাফন সম্পন্ন হবে।

এদিকে ইরানের আইন ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদী এই শোকাবহ মুহূর্তটিকে মার্কিন শত্রুতার জলন্ত প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

কাকতালীয়ভাবে আজ ৩ জুলাই ১৯৮৮ সালে পারস্য উপসাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস ভিনসেন্স’ কর্তৃক ইরানের যাত্রীবাহী বিমান ‘ইরান এয়ার ফ্লাইট ৬৫৫’ ভূপাতিত করার ৩৮তম বার্ষিকী।

গারিবাবাদী এক্স-এ লিখেছেন, “আজকের এই দিনে ফ্লাইট ৬৫৫-এর ২৯০ জন শহীদের স্মরণের পাশাপাশি ইরানি জাতি তাদের শহীদ নেতার স্মৃতিকেও সম্মান জানাচ্ছে। এই হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুতার গভীরতা কতখানি।”