২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ছুটি নিয়ে কর্মস্থল ছেড়ে যাওয়ার পর আর না ফেরায় পুলিশের তিন কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে সরকার। তাঁদের মধ্যে একজন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে, একজন নিজ বাড়িতে এবং আরেকজন ওমরাহ পালনে সৌদি আরব গিয়ে আর কর্মস্থলে ফেরেননি।

চাকরিচ্যুত তিন কর্মকর্তা হলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জুয়েল চাকমা, টেলিকম অফিসার (এএসপি) মো. মাহমুদুল হাসান এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিশু বিশ্বাস।

আজ বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পৃথক তিনটি প্রজ্ঞাপনে তাঁদের চাকরিচ্যুত করার আদেশ জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দীর্ঘদিন অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা, বারবার নোটিশ দেওয়ার পরও যোগদান না করা এবং বিভাগীয় মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে গুরুদণ্ড হিসেবে চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিশু বিশ্বাস ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার, জামালপুরে কর্মরত থাকাকালে ‘আয়রনম্যান ৭০.৩ মালয়েশিয়া ২০২৪’ আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে ১০ দিনের বহিঃবাংলাদেশ ছুটি নিয়ে গত ১৬ অক্টোবর ২০২৪ কর্মস্থল ত্যাগ করেন। ছুটি শেষে তাঁর কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি আর ফেরেননি। স্থায়ী ঠিকানায় তিন দফা নোটিশ পাঠানো হলেও তিনি যোগদান করেননি।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সরকারি চাকরির বিধি অনুযায়ী যোগাযোগের চেষ্টা, বিভাগীয় মামলা ও তদন্ত শেষে তাঁর বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’-এর অভিযোগ প্রমাণিত হয়। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় তাঁকে গুরুদণ্ড হিসেবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

অন্যদিকে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জুয়েল চাকমা র‍্যাব-১৪, ময়মনসিংহে কর্মরত অবস্থায় গত ১০ এপ্রিল ২০২৫ ছয় দিনের ছুটিতে নিজ বাড়িতে যান। ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি আর ফেরেননি। পরবর্তী সময়ে বিভাগীয় কার্যক্রম শেষে তাঁকেও চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।

এদিকে, পুলিশ টেলিকম সংস্থা, রাজারবাগে টেলিকম অফিসার (এএসপি) হিসেবে কর্মরত মো. মাহমুদুল হাসান ওমরাহ পালনের জন্য ১৫ দিনের বহিঃবাংলাদেশ ছুটি নিয়ে ২৮ আগস্ট ২০২৪ সৌদি আরব যান। ছুটি শেষ হলেও তিনি কর্মস্থলে যোগ দেননি।

নোটিশ প্রদান, বিভাগীয় মামলা ও তদন্ত শেষে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩ (গ) বিধি অনুযায়ী ‘পলায়ন’-এর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় একই বিধিমালার ৪ (৩) (ঘ) বিধি মোতাবেক তাঁকেও গুরুদণ্ড হিসেবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।