শাহরুখ খান ও কাজল অভিনীত সিনেমা ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’। সিনেমাটিতে শাহরুখ-রানীর মেয়ে ছিল অঞ্জলি। এই চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন ৮ বছর বয়েসি সানা সাঈদ। রানী মুখার্জি-সালমান অভিনীত জনপ্রিয় এই সিনেমা ১৯৯৮ সালে মুক্তি পায়। এ সিনেমা মুক্তির পর সময় অনেক গড়িয়েছে। সেই অঞ্জলি বা সানা সাঈদ এখন আর ছোট্ট নেই। বরং সংসার বাঁধতে যাচ্ছেন। কয়েক বছর আগে প্রেমিকের সঙ্গে বাগদান সেরেছেন। তার হবু বরের নাম কাসাবা ওয়াগনার।
সানা সাঈদ এখন অভিনয় থেকে দূরে রয়েছেন। এবার নিজের জীবনের কঠিন একটি অধ্যায় প্রকাশ্যে এনে আলোচনার জন্ম দিলেন। সানা জানান—দীর্ঘদিন বুলিমিয়া নার্ভোসা নামে ইটিং ডিসঅর্ডারে ভুগেছেন। এটি খাদ্যাভ্যাসজনিত মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা। যার প্রধান লক্ষণ—অতিরিক্ত খাওয়া।
বিষয়টি নিয়ে ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন সানা সাঈদ। সমস্যাটি তার ব্যক্তিগত জীবনে গভীরভাবে প্রভাব ফেলেছিল। এসব তথ্য স্মরণ করে এই অভিনেত্রী বলেন, “আমি সবসময় লুকিয়ে খেতে চাইতে পারি না। কিংবা এই ভয়ে থাকতে চাই না যে, কেউ আমার ঘরে ঢুকে ভাববে—আমি অতিরিক্ত খাচ্ছি।”
‘দ্য বুলিমিয়া হেল্প মেথড’ বইটি পড়ার পর সানা উপলদ্ধি করতে পারেন, কীসের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এ বিষয়ে সানা সাঈদ বলেন, “আপনি ভীষণ ভীত থাকেন। অবশেষে সমস্যাটা চিহ্নিত করতে পারেন। কিন্তু সেটার মুখোমুখি হতে চান না। এতদিন ধরে এটি নিয়ে বেঁচে থাকার কারণে আপনি বিশ্বাস করতে শুরু করেন যে, আপনার মধ্যেই হয়তো গুরুতর কোনো সমস্যা রয়েছে।”
বুলিমিয়া নার্ভোসা একটি গুরুতর খাদ্যাভ্যাসজনিত মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা। নিজের সমস্যাটি মেনে নেওয়াই ছিল সানার জীবনের সবচেয়ে কঠিন কাজ। এ অভিনেত্রী বলেন, “বহু বছর আমি জানতামই না আমার ইটিং ডিসঅর্ডার (খাদ্যাভ্যাসজনিত মানসিক ব্যাধি) ছিল। আমি যে কষ্ট পাচ্ছিলাম, তা নয়—বরং এই রোগের নামটাই কখনো শুনিনি। আমি যখন বড় হচ্ছিলাম, তখন এসব নিয়ে কেউ কথা বলেনি। তাই দীর্ঘদিন সম্পূর্ণ একা, নীরবে এই যন্ত্রণা সহ্য করেছি। কারণ আমার অনুভূতি বোঝানোর ভাষা ছিল না।
রোগটি সম্পর্কে জানার পরও লজ্জার কারণে তা স্বীকার করেননি সানা। এটি স্বীকার করতেও তার অনেক বছর লেগেছে। এসব তথ্য স্মরণ করে সানা বলেন, “আমি যদি আগে থেকেই জানতাম এটি কী, তাহলে সঙ্গে সঙ্গেই এই সমস্যার চিকিৎসা বা সমাধানের চেষ্টা করতাম।”
বুলিমিয়া নার্ভোসা থেকে এখন পুরোপুরি সেরে উঠেছেন সানা। এ অভিনেত্রীর ভাষায়—“আমার শরীর কিংবা আমার জীবন, কোনো কিছুর সঙ্গেই কখনো এতটা স্বস্তি ও আপন অনুভব করিনি, যতটা এখন করি। কারণ আমি এখন সম্পূর্ণ সুস্থ।” এ ধরনের সমস্যায় যারা ভুগছেন, তাদের উদ্দেশ্যে সানা বলেন, “এ ধরনের পরিস্থিতিতে অবশ্যই কোনো বিশেষজ্ঞ বা বিশ্বস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলা উচিত।”
বুলিমিয়া নার্ভোসা কী বুলিমিয়া নার্ভোসা গুরুতর খাদ্যাভ্যাসজনিত একটি মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা। এতে আক্রান্ত ব্যক্তি অল্প সময়ে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি খাবার খেয়ে ফেলেন, যাকে বলে ‘বিঞ্জ ইটিং’। এরপরই অতিরিক্ত খাওয়া নিয়ে তার ভেতরে খারাপ লাগা কাজ করতে শুরু করে। এই খারাপ লাগা মূলত মানসিক। সেখান থেকে শুরু হয় অতিরিক্ত খাওয়ার ‘ক্ষতিপূরণমূলক আচরণ’। এরপর ওজন বেড়ে যাওয়ার ভয়ে বমি করা, অতিরিক্ত ব্যায়াম করা, দীর্ঘ সময় না খাওয়া বা জোলাপের অপব্যবহারের মতো কর্মকাণ্ডও করে থাকেন।
*ডিএনএ অবলম্বনে








