বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশে পর্তুগালের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর লড়াই শেষে বিতর্কের আবহে বিদায় নিতে হয়েছে ক্রোয়েশিয়াকে। টরন্টোতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ২-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যায় লুকা মদরিচের দল। তবে ম্যাচের ফলের চেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে রেফারিং ও ভিএআরের একাধিক সিদ্ধান্ত। ইতিহাসে এই প্রথম বিশ্বকাপের একটি নকআউট ম্যাচে চারটি গোল বাতিল হয়। এর মধ্যে তিনটিই ছিল ক্রোয়েশিয়ার। আর এটাকেই হারের অন্যতম কারণ বলেছেন মদরিচ।

ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে ইভান পেরিসিচের গোলে এগিয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া। কিন্তু কিছুক্ষণ পর ভিএআর রিভিউয়ের ভিত্তিতে নিকোলা ভলাসিচের ফাউলের সিদ্ধান্ত দিয়ে পর্তুগালকে পেনালটি দেন রেফারি। স্পটকিক থেকে গোল করে সমতা ফেরান ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো।

এরপর ইনজুরি টাইমের চতুর্থ মিনিটে গনসালো রামোসের গোলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় পর্তুগাল। কিন্তু ম্যাচের সবচেয়ে নাটকীয় মুহূর্ত আসে শেষ বাঁশির ঠিক আগে। ইয়োশকো গভার্দিওলের করা সমতাসূচক গোলটি অফসাইডের কারণে বাতিল করে দেয় ভিএআর। রিপ্লেতে বলের স্পর্শ স্পষ্টভাবে দেখা না গেলেও বলে লাগানো সেন্সর জানায়, বলটা ইগর মাতানোভিচ পেরিসিচের ক্রসে সামান্য পা ছুঁইয়েছিল। সেই মুহূর্তে মারিও পাসালিচ অফসাইডে থাকায় গভার্দিওলের গোল বাতিল হয়। সিদ্ধান্তটি ঘিরেই তৈরি হয় তীব্র বিতর্ক।

ম্যাচ শেষে ক্রোয়েশিয়ার অধিনায়ক লুকা মদরিচ ক্ষোভ উগরে দেন। তার দাবি, ভলাসিচের ঘটনাটি কোনোভাবেই পেনালটি ছিল না। ‘এমন ম্যাচে এত সহজে পেনালটি দেওয়া যায় না। ভিএআর তখনই ব্যবহার করা উচিত, যখন ভুলটি ২০০% নিশ্চিত,’ বলেন তিনি। মদরিচের মতে, এমন সিদ্ধান্ত তরুণ ফুটবলারদের মানসিকভাবে ভেঙে দেয় এবং এর খেসারত বারবার ক্রোয়েশিয়াকেই দিতে হয়। ক্রোয়েশিয়া কোচ জ্লাতকো দালিচও রেফারিংয়ের সমালোচনা করে বলেন, ম্যাচে আরও কয়েকটি ফ্রিকিক তাদের প্রাপ্য ছিল। তবে তিনি অজুহাত না দেখিয়ে স্বীকার করেন, ‘আমরা চাইলে ম্যাচটা আগেই জিতে নিতে পারতাম।’ অন্যদিকে পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেজ ভিএআরের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। তার দাবি, ‘কোনো ভুল সিদ্ধান্ত হয়নি। প্রযুক্তি স্পষ্টভাবে অফসাইড দেখিয়েছে এবং পেনালটিও পরিষ্কার ছিল।’