কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে গর্ভের সন্তান নষ্ট এবং বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানানোর জেরে এক তরুণীর বিরুদ্ধে এক তরুণকে ছুরি মেরে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। আজ সোমবার ভোরে পৌরসভার লক্ষ্মীপুর গ্রামে ওই তরুণ খুন হওয়ার পর ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্ত তরুণীকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত সাইয়েদ আবদুল্লাহ ওরফে সিয়াম (২২) ওই গ্রামের এনামুল হকের ছেলে। আটক নাইমা জাহানের বাড়ি ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায়। গতকাল রোববার রাতে তিনি লক্ষ্মীপুর গ্রামে আসেন। হত্যাকাণ্ডের পর নাইমা ও নিহত সিয়ামের বন্ধু আরিয়ান খানকে (মাহিদ) আটক করেছে পুলিশ।
আটক করার পর নাইমা জাহান উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, মুঠোফোনে সিয়ামের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে তাঁদের শারীরিক সম্পর্ক হয়। তিনি তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন; কিন্তু গর্ভের সন্তান নষ্ট করেন সিয়াম। পরে বিয়ের জন্য চাপ দিলে তিনি টালবাহানা করতে থাকেন। পরে তিনি ২০ হাজার টাকা নিয়ে লক্ষ্মীপুর গ্রামে তাঁর বাড়িতে আসতে বলেন। রোববার রাতে সিয়ামের কথামতো লক্ষ্মীপুর গ্রামে আসেন। সেখানে সিয়াম ও তাঁর বন্ধু আরিয়ান ছাড়া অন্য কেউ ছিলেন না। আজ ভোরে সিয়াম তাঁকে বাসা থেকে চলে যেতে বলেন। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ঘরে থাকা একটি ছুরি দিয়ে তিনি সিয়ামের পেটে আঘাত করেন।
সিয়ামের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন নাইমা ও আরিয়ানকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। গুরুতর আহত অবস্থায় সিয়ামকে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরিফ হোসাইন বলেন, ঘটনাস্থল থেকে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই তরুণী ও সিয়ামের বন্ধু আরিয়ান খানকে আটক করা হয়েছে। সিয়ামের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান।








