কিশোরগঞ্জ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে সনদ জালিয়াতি, দায়িত্বে অবহেলা, শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও প্রশাসনিক অসঙ্গতিসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগে ওই শিক্ষককে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
সোমবার (২৯ জুন) এ ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
এর আগে ২৮ জুন উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিপদ ভঞ্জন বণিক স্বাক্ষরিত এক নোটিশে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক তরুণ কান্তি করকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে লিখিতভাবে অভিযোগগুলোর ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
নোটিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষকের অনুমতি ছাড়া ছুটি ভোগ, নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকা, শিক্ষার্থীদের পাঠদানে অবহেলা, পরীক্ষা-সংক্রান্ত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করা, সহকর্মীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, বিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এবং প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক শিক্ষা পরিবেশ ব্যাহত করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এছাড়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, চাকরিজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে যোগদান, এমপিওভুক্তি এবং অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রমে তিনি ভিন্ন ভিন্ন শিক্ষাগত সনদের তথ্য ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়েও তার কাছে বিস্তারিত লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযোগগুলোর যথাযথ ব্যাখ্যা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাখিল করতে ব্যর্থ হলে কিংবা ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হলে প্রচলিত বিধি-বিধান অনুযায়ী পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কিশোরগঞ্জ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিপদ ভঞ্জন বণিক জানান, বদলিজনিত সফটওয়্যারে তথ্য পাঠানোর সময় সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের কাগজপত্রে অসঙ্গতি ধরা পড়ে। তার চাকরিতে যোগদান ও এমপিওভুক্তির তারিখে গরমিল থাকায় মূল কাগজপত্র জমা দিতে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, ওই শিক্ষক নিজেই পরে সংশোধিত তথ্যের জন্য আবেদন করেন। পরে বিষয়টি তদন্তে নোটিশে উল্লিখিত অভিযোগগুলোর সত্যতা পাওয়ায় পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। নোটিশে যা উল্লেখ করা হয়েছে, তার একটি অভিযোগও মিথ্যা নয়। পুরো প্রক্রিয়াটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিধিমালা অনুসরণ করেই পরিচালিত হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
সব অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক তরুণ কান্তি কর বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
এসময় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আপনি এসব তথ্য কোথা থেকে পেলেন। বিষয়টি তো অফিসিয়াল। এ বিষয়ে আপনাকে কে জানিয়েছেন বলেই তিনি ফোনের সংযোগ কেটে দেন।
এসকে রাসেল/এনএইচআর/এমএস








