শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, শিশুশ্রম নিরসনে কেবল সরকারের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়। এক্ষেত্রে সমাজের প্রতিটি মানুষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

‘বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং চাইল্ড লেবার এলিমিনেশন প্ল্যাটফর্ম (CLEP)-এর যৌথ উদ্যোগে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ অনুষ্ঠানে শ্রমমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

দিবসটির এ বছরের প্রতিপাদ্য হলো-“শিশুশ্রমকে ‘না’ বলি, শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করি।”

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর মি. ম্যাক্স টুনন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব জনাব মো. আব্দুর রহমান তরফদার। স্বাগত বক্তব্য দেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক জনাব মো. ফরহাদ সিদ্দিক।

অনুষ্ঠানে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তর-সংস্থার প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা, CLEP-এর সদস্য, শ্রমিক ও মালিক সংগঠনের নেতারা, গণমাধ্যমকর্মী এবং শ্রমিক প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী বলেন, শিশুশ্রম নিরসনে কেবল সরকারের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়। এক্ষেত্রে সমাজের প্রতিটি মানুষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। নিজেদের পরিবার ও আশপাশে কর্মরত শিশুদের শিশুশ্রম থেকে প্রত্যাহার এবং তাদের পুনর্বাসনে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। যেসব এলাকায় ও সেক্টরে শিশুশ্রম বিদ্যমান, সেসব এলাকা ও সেক্টরে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শিশুশ্রম নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এছাড়া, ধর্মীয় ও সামাজিক নেতৃত্বকে সম্পৃক্ত করে এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

এ সময় মি. ম্যাক্স টুনন বলেন, শিশুশ্রম নির্মূলে তিনটি বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে- সব শিশুর জন্য বাধ্যতামূলক ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা, কার্যকর সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং দক্ষ ও শক্তিশালী শ্রম পরিদর্শন ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

সভাপতির বক্তব্যে শ্রম সচিব বলেন, আলোচনা সভায় প্রাপ্ত সুপারিশসমূহ শিশুশ্রম নিরসনে সরকারের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি এ কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত সব অংশীজনকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

স্বাগত বক্তব্যে ডাইফের মহাপরিদর্শক বলেন, বাংলাদেশ সরকার শিশুশ্রম নিরসনে দৃঢ় অঙ্গীকার নিয়ে কাজ করছে। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর শ্রম আইনের সংশ্লিষ্ট বিধানসমূহ কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে শিশুশ্রম প্রতিরোধে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি জানান, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে গঠিত শিশুশ্রম বিষয়ক কমিটির মাধ্যমে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ৪৩টি খাত হালনাগাদ করা হয়েছে এবং এরইমধ্যে ৮টি খাতকে শিশুশ্রমমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

তিনি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, মালিক ও শ্রমিকপক্ষসহ সব অংশীজনের সম্মিলিত উদ্যোগে শিশুশ্রমমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

আলোচনা সভায় বক্তারা শিশুশ্রমমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকারের জাতীয় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি জোরদার এবং শ্রম আইন কার্যকর প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) অর্জনে শিশুশ্রম নিরসনের গুরুত্বও তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে শিশুদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া, শিশুশ্রম নিরসনের বিভিন্ন দিক নিয়ে একটি প্যানেল আলোচনা আয়োজন করা হয়, যেখানে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনরা মতামত দেন।

এ বছর ২৯ জুন জাতীয়ভাবে দিবসটি উদযাপন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে দেশব্যাপী সচেতনতামূলক প্রচারণা, গণমাধ্যমে বিশেষ বার্তা প্রচার, পোস্টার বিতরণ, টেলিভিশনে প্রচার কার্যক্রম, জেলা পর্যায়ে আলোচনা সভা ও সেমিনারসহ বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়। একইসঙ্গে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ের সব কার্যালয় এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সমন্বয়ে সারাদেশে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হয়।

এএমএ