কুমিল্লার লালমাইয়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না করেই খাল খনন সম্পন্ন হয়েছে। উপজেলার দরবেশপাড়া বাজারে খালের ওপর স্থাপনা রেখেই খনন করা হয় খাল। এতে ওই খাল দিয়ে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হবে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ওই বাজারে খালের ওপর ৪০টি দোকান নির্মাণ করা হয়েছে। প্রভাবশালীরা এসব পাকা দোকানের মালিক হওয়ায় খাল খননের সময় তা উচ্ছেদ করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়রা জানান, লালমাই উপজেলার পেরুল দক্ষিণ ইউনিয়নের দোশারীচোঁ থেকে ডাকাতিয়া নদীর সংযোগ পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার খাল খনন শুরু হয়। এটি কৃষি এবং পরিবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি খাল। এলাকার গুরুত্ব অনুধাবন করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খালটি খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

সম্প্রতি খালটি খননের উদ্বোধন করেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আমিনুর রশিদ ইয়াছিন। মন্ত্রী খালের ওপর গড়ে ওঠা সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করার ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু উপজেলার দরবেশপাড়া বাজার অংশে স্থাপনা উচ্ছেদ না করেই খনন কাজ চালায় কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা চলছে। সরেজমিন দেখা গেছে, দরবেশপাড়া বাজারে খালের ওপর প্রায় ৪০টি পাকা দোকান রয়েছে। এসব দোকান উচ্ছেদ করা হয়নি। আশপাশের অনেক স্থাপনা ভেঙে দেওয়া হলেও রহস্যজনক কারণে এসব দোকান ভিটি উচ্ছেদ করা হয়নি। এতে বাজারের ওই অংশে এসে পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হবে। বাজারের ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী জানান, ওই বাজারের বিপুল পরিমাণ ময়লা-আবর্জনা খালে ফেলা হয়। সেখানে যথাযথভাবে খননকাজ সম্পূর্ণ না হওয়ায় খালের পানিপ্রবাহ ওই বাজারে আটকে যেতে পারে। এতে খালটির সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়রা জানান, খালের প্রস্থ বা চওড়া কমপক্ষে ৩০ ফুট হওয়ার কথা থাকলেও বাজার অংশে এসে কোথাও ১০ ফুট হয়ে গেছে। প্রতি দোকান থেকে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা করে উৎকোচ নিয়ে ছোট ভেকু এনে খালের ওপর অবৈধ স্থাপনা অক্ষত রেখে নামমাত্র খনন করা হয়েছে। পেরুল দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওসমান গণি রিংকু বলেন, খালের ওপর স্থাপিত সব স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। কিন্তু দরবেশপাড়া বাজারের অংশে খাল খনন ঠিকভাবে হয়নি। এখানে নামকাওয়াস্তে খনন করা হয়েছে। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়নি। এতে পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হবে। লালমাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুব্রত বিশ্বাস দাস বলেন, দরবেশপাড়া বাজারে খাল খননের বিষয়টি আমি জেনেছি। সেখানে খালটি যথাযথভাবে খনন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রয়োজনে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ-সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া বলেন, খালের পানির প্রবাহ নিশ্চিত করতে সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে স্থানীয় প্রশাসনকে বলা হয়েছে।