বনের জমি রক্ষার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই উঠেছে বন উজাড়ে মদদ দেওয়ার অভিযোগ। লামা বন বিভাগের সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা এম কবির উদ্দিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অবৈধ জোত পারমিট বাণিজ্যের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।
তাদের মতে, নিয়ন্ত্রণের বদলে তিনি নিজেই গড়ে তুলেছেন কাঠ পাচারের একটি সংঘবদ্ধ চক্র, যার প্রভাবে দ্রুত বৃক্ষশূন্য হয়ে পড়ছে লামার সংরক্ষিত বনাঞ্চল। স্থানীয়দের অভিযোগ, বনে স্থাপনা নির্মাণ, গাছ কাটা, জোত বিক্রি ও পারমিট সরকারিভাবে নিষিদ্ধ হলেও লামায় এসবই চলছে রেঞ্জ কর্মকর্তা এম কবির উদ্দিনের ইশারায়। তার সংশ্লিষ্টতায় একের পর এক সংরক্ষিত বনাঞ্চল শূন্য হয়ে পড়ছে। রেঞ্জ কর্মকর্তা যোগদানের পর থেকেই এলাকার কিছু অসাধু গাছ ব্যবসায়ীকে নিয়ে একটি চক্র গড়ে তুলেছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন বাগানে ভুয়া জোত পারমিট দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে গাছ কাটা ও বিক্রিতেও সহযোগিতা করছেন। শুধু লামার বনাঞ্চল থেকেই প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার কাঠ পাচার হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের। তারা জানান, বন বিভাগের কর্মকর্তারা ঘুস নিয়ে এসব অবৈধ সুবিধা করে দেন। এর আগের কর্মকর্তাদের এমন নজির রয়েছে। প্রতিদিন কাঠ পাচারের ফলে অধিকাংশ পাহাড় ও বনে গাছের সংখ্যা কমে আসছে। দূর থেকে দেখলে বন-পাহাড় ঘন-নিবিড় মনে হলেও কাছে গেলে দেখা যায় ভেতরে ফাঁকা, উজাড় হওয়া ভূমি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কাঠ ব্যবসায়ী বলেন, যতগুলো জোত পারমিট ইস্যু করা হয়েছে, কাগজপত্র অনুযায়ী শুধু সেই গাছ কাটা হলে বাস্তবে এত পরিমাণ কাঠ আসার কথা নয়। তার মতে, একটি জোত পারমিট ব্যবহার করেই বিভিন্ন বাগানের গাছ পাচার করা হয়ে থাকে। বড় ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে সাধারণত সমস্যা হয় না কিন্তু ছোট ব্যবসায়ীদের কাঠই বেশি আটক হয়। তিনি আরও জানান, একবার কাঠ গাড়িতে উঠে ডিপো পার হয়ে গেলে পরে সেটি কোন জোতের কাঠ, সেটি প্রমাণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। জানা গেছে, ২৩ জুন রূপসীপাড়ায় আর্মি ক্যাম্পের সদস্যরা সন্দেহভাজন হিসেবে কাঠবোঝাই দুটি গাড়ি আটক করেছেন। আটকের সময় সেনাবাহিনীর সদস্যরা জোতের মালিক শফিককে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি গাছগুলো তার নয় বলে দাবি করেন। শফিক বলেন, গাছগুলো জহিরের সে আমার জোত নিয়ে রুপসীপাড়া থেকে গাড়িতে লোড করেছে। বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জব্দ কাঠের বৈধতা যাচাই এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনায় বন আইনে একটি মামলাও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত জোতের মালিক শফিক বলেন, নির্ধারিত ডিপো থেকে কাঠ লোড না করাটা তার ভুল হয়েছে। এদিকে প্রায় প্রতিদিন সন্ধ্যার পর লামা বন বিভাগের কার্যালয়ে বিভিন্ন কাঠ ব্যবসায়ীর আনাগোনা দেখা যায়। স্থানীয়দের দাবি, এসব বৈঠকে কাঠ পরিবহণ ও জোত পারমিটসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়। তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে বন বিভাগের কর্মকর্তারা নির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য করেননি। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে লামা সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা এম কবির উদ্দিন বলেন, রূপসীপাড়ায় বন বিভাগের কোনো কাঠের ডিপো নেই। আর গাছ ব্যবসায়ীরা সেখান থেকে গাড়িতে কাঠ তুলে নিয়ে যাচ্ছিলেন, পরে সেনাবাহিনী গাড়ি দুটি আটক করে খবর দিলে বন বিভাগ সেগুলো জব্দ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়। একজনের নামে ইস্যু করা জোত পারমিট ব্যবহার করে অন্য কেউ গাছ পরিবহণ করতে পারেন কিনা এই প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, যার নামে পারমিট থাকবে কেবল তিনিই ওই জোতের গাছ পরিবহণের অধিকারী এবং নির্ধারিত ডিপোতে বন বিভাগের সদস্যদের উপস্থিতিতেই কাঠ লোড হওয়ার নিয়ম রয়েছে। তবে অবৈধ জোত পারমিট প্রদান কিংবা অর্থের বিনিময়ে অনিয়মের অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।








