নির্মাণাধীন ভবন, বেজমেন্ট, লিফটের গর্ত বা জমে থাকা পানিতে সহজে ব্যবহারযোগ্য নিরাপদ লার্ভানাশক (আইজিআর) ট্যাবলেট সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য করা হলে এডিস নিয়ন্ত্রণ আরও কার্যকর হবে বলে মনে করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও কীটতত্ত্ববিদ কবিরুল বাশার।

তিনি বলেন, শুধু কীটনাশক ছিটিয়ে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। অনেক প্রজননস্থলে স্প্রে কার্যকর হয় না। বরং ওয়াসার ওয়াটার মিটার হোলের মতো জায়গায় ইনসেক্ট গ্রোথ রেগুলেটর (আইজিআর) ট্যাবলেট ব্যবহার করলে তা কয়েক মাস কার্যকর থাকে।

শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর বাড্ডায় নিজস্ব কার্যালয়ে জাগো নিউজ আয়োজিত ‘ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও আমাদের করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি একথা বলেন।

আরও পড়ুন

ডেঙ্গু চিকিৎসায় কিটসহ সরঞ্জামের কোনো ঘাটতি নেই

কবিরুল বাশার বলেন, মানুষের ঘরে রাখা পানির ড্রাম বা বালতিতে সিটি করপোরেশন কীটনাশক ব্যবহার করতে পারে না। তাই এসব ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো মানুষের আচরণ পরিবর্তন।

নাগরিকদের পরামর্শ দিয়ে এই কীটতত্ত্ববিদ বলেন, প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার পানির পাত্র খালি করে ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। যেমন একসময় হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা হয়েছিল, তেমনি পানির পাত্র পরিষ্কার রাখাও দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত করতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ জানেন এডিস মশা ডেঙ্গু ছড়ায়, কিন্তু নিজেদের বাড়িতে কোথাও মশার প্রজনন হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত পরীক্ষা করেন না। প্রত্যেক পরিবারকে নিশ্চিত করতে হবে, তাদের বাড়ি বা আঙিনায় যেন কোনোভাবেই এডিস মশার প্রজনন না হয়।

ডেঙ্গুগোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের পুরো দায়িত্ব শুধু সিটি করপোরেশনের নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, নির্মাণাধীন ভবনের মালিক, আবাসিক ভবনের বাসিন্দা ও নগরবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অধ্যাপক বলেন, এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ করা গেলে ডেঙ্গু কমবে। আবার ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে মশারির ভেতরে রাখা গেলে মশা তাকে কামড়াতে পারবে না, ফলে অন্য মানুষের মধ্যে ভাইরাস ছড়াবে না। একইভাবে যেখানে মশার প্রজনন হয়, সেই পরিবেশ ধ্বংস করতে পারলেও সংক্রমণ রোধ করা সম্ভব।

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, পুকুরে ঢিল ছোড়ার ফলে ঢেউ যেমন ধীরে ধীরে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে, ডেঙ্গুও তেমনি একটি কেন্দ্র থেকে বিস্তার লাভ করে।

আরও পড়ুন

ডেঙ্গু হলে অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন নেই: ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ

কবিরুল বাশার আরও বলেন, মেয়র বদলায়, প্রতিশ্রুতি বদলায়, কিন্তু ডেঙ্গু থেকে যায়। কারণ এখনো সম্মিলিত উদ্যোগ গড়ে ওঠেনি। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্র, সিটি করপোরেশন, নাগরিকসহ সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে। তাহলেই দীর্ঘমেয়াদে এডিস মশা ও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।

গোলটেবিল আলোচনার শুরুতে জাগো নিউজের সম্পাদক কে. এম. জিয়াউল হক আমন্ত্রিত অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে জাগো নিউজে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদন তুলে ধরেন।

আলোচনায় আরও অংশ নেন অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. ফোয়ারা তাসমীম, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট টিবি হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আয়েশা আক্তার, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এপিডেমিওলজিস্ট ও মেডিকেল অফিসার ডা. মো. তারিকুল ইসলাম লিমন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উপ-প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নিশাত পারভিন এবং বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি প্রতীক ইজাজ।

এছাড়া জাগো নিউজের প্ল্যানিং এডিটর মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল, ডেপুটি এডিটর ড. হারুন রশীদ, প্রধান প্রতিবেদক ইব্রাহীম হুসাইন অভিসহ অন্যরা এসময় উপস্থিত ছিলেন।

আরএএস/এএসএ/ এমএফএ