ট্রান্সকম গ্রুপের প্রয়াত চেয়ারম্যান লতিফুর রহমান ও তাঁর নাতি ফারাজ আইয়াজ হোসেনের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন জেলায় বিনা মূল্যে মেডিক্যাল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফারাজ হোসেন ফাউন্ডেশন ও এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস আজ বুধবার দিনব্যাপী দেশের ৩৫টি স্থানে এই আয়োজনে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ পেয়েছেন প্রায় ১৬ হাজার মানুষ।

বিনা মূল্যে মেডিক্যাল ক্যাম্পে আসা চিকিৎসাপ্রার্থীদের অধিকাংশই নিম্ন আয়ের এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষজন। চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ পেয়ে তাঁদের মুখে হাসি ফুটেছে।

ট্রান্সকম গ্রুপের চেয়ারম্যান লতিফুর রহমান ২০২০ সালের ১ জুলাই কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের নিজ বাড়িতে ইন্তেকাল করেন। তিনি ছিলেন দেশের অন্যতম শীর্ষ শিল্পপতি। তাঁর নাতি ফারাজ আইয়াজ হোসেন ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে ঢাকার গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে উগ্রপন্থীদের এক হামলায় নিহত হন। তিনি ট্রান্সকম গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সিমিন রহমানের ছেলে।

তাঁদের মৃত্যুবার্ষিকীতে আয়োজিত বিনা মূল্যে মেডিক্যাল ক্যাম্পের খবর পাঠিয়েছেন প্রথম আলোর বিভিন্ন জেলার নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিরা।

কুমিল্লা

কুমিল্লা নগরের উনাইসার চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকায় আজ সকাল ৯টায় মেডিক্যাল ক্যাম্প শুরু হয়। এটি চলে বিকেল চারটা পর্যন্ত। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা এতে চিকিৎসা দেন।

বেলা ১১টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, মেডিক্যাল ক্যাম্পটিতে সেবাপ্রত্যাশী মানুষের ভিড়। চিকিৎসকেরা একের পর এক রোগীদের সেবা দিচ্ছিলেন। চিকিৎসা পেয়ে ফেরার পথে বিনা মূল্যে ওষুধ পেয়ে খুশি ছিলেন রোগীরা।

মৌসুমি আক্তার নামের এক নারী কাজ করেন কুমিল্লা ইপিজেডে। তাঁর গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরে। তিনি এসেছেন ডায়াবেটিস এবং জ্বরের সমস্যা নিয়ে। মৌসুমি বলেন, ‘অনেকে দিন ডাক্তার দেখাব দেখাব বলে টাকার সমস্যার কারণে ডাক্তার দেখাতে পারছিলাম না। আজকে বিনা টাকায় সেবা পেয়ে আমি খুশি। আমি লতিফুর রহমান ও ফারাজ হোসেনের জন্য দোয়া করব।’

ট্রান্সকম গ্রুপের প্রয়াত চেয়ারম্যান লতিফুর রহমান ও তাঁর নাতি ফারাজ আইয়াজ হোসেনের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিনা মূল্যে মেডিক্যাল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। খুলনা নগরের জলিল সরণির বয়রা ক্লিনিকে

খুলনা

খুলনায় চিকিৎসাশিবিরের আয়োজন করা হয় নগরের জলিল সরণির বয়রা ক্লিনিকে। সকাল ১০টার দিকে সেখানে দেখা যায়, চিকিৎসা নিতে আসা মানুষের ব্যাপক ভিড়। তাঁদের কেউ বুকে ব্যথা, কেউ উচ্চ রক্তচাপ, কেউ ডায়াবেটিস, কেউ জ্বর আবার কেউ অ্যালার্জিজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। তাঁদের চিকিৎসাসেবা দেন এম হারুন-অর-রশিদ।

লতিফুর রহমানের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী আজ

দুর্বলতা ও বমি ভাবের চিকিৎসা নিতে আসা মেহেদী হাসান (৫৫) বলেন, ‘শরীর চলতে চায় না। বুকে ও মাথায় ব্যথা হয়। প্রায়ই বমি বমি ভাব হয়। এখানে বিনা মূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ দেওয়া হচ্ছে জেনে এসেছিলাম। ডাক্তার দেখিয়েছি, ওষুধ পেয়েছি।’

এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের জ্যেষ্ঠ ডেপুটি সেলস ম্যানেজার মনিরুজ্জামান মনির বলেন, ‘প্রয়াত লতিফুর রহমান ও ফারাজ আইয়াজ হোসেনের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আমরা দিনব্যাপী ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পের আয়োজন করেছি। আগে থেকেই এলাকায় মাইকিং করা হয়েছিল। সকাল ৯টায় চিকিৎসাসেবা শুরু হয়েছে। দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২৫০ জন রোগী নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে শতাধিক রোগীকে বিনা মূল্যে ওষুধ ও ব্যবস্থাপত্র দেওয়া হয়েছে।’

বগুড়া সদর উপজেলার পলাশবাড়ী গ্রামে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান কার্যক্রম

বগুড়া

বগুড়ায় দিনব্যাপী আয়োজিত দুটি আলাদা চিকিৎসাশিবিরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে বিনা মূল্যে সেবা পেয়েছেন ১ হাজার ২০০ জন মানুষ। সকাল ৯টা থেকে বগুড়ার ধুনট উপজেলার যমুনা নদীর ভাঙনকবলিত গোসাইবাড়ি ইউনিয়নের চুনিয়াপাড়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা এবং বগুড়া সদর উপজেলার পলাশবাড়ী গ্রামে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নবজাগরণ যুবসংঘ কার্যালয়ে একযোগে চিকিৎসাসেবা প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়। পাশাপাশি রোগীদের প্রয়োজনীয় ওষুধও বিনা মূল্যে বিতরণ করা হয়।

যমুনা নদীর ভাঙনকবলিত বিভিন্ন এলাকা থেকে হতদরিদ্র ৬ শতাধিক মানুষ স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসেন। তাঁদের একজন গোসাইবাড়ি ইউনিয়নের চুনিয়াপাড়া গ্রামের ডালিম খাতুন (৪৫)। তিনি বলেন, ‘যমুনা হামাকেরে বসতভিটা সব গিলে খাচে। মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও নেই। গরিব মানুষ। অসুখের চিকিৎসা করামো ক্যাংকা করে? নানা অসুখত ভুগিচ্চি। টেকার জন্যি এত দিন ডাক্তার দেকাপার পারিনি। এটি আসে মাগনা ডাক্তার দেকাপার পারিচি, ওষুধডাও মাগনা পাচি। হামার খুবই উপকার হচে।’

ফরিদপুর শহরের দক্ষিণ চর কমলাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিনা মূল্যে মেডিকেল ক্যাম্প

ফরিদপুর

ফরিদপুর শহরের দক্ষিণ চর কমলাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সকাল ১০টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত বিনা মূল্যে চিকিৎসাশিবিরের আয়োজন করা হয়। সেখানে সাত শতাধিক রোগীকে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ প্রদান করা হয়। সেখানে রোগীদের দেখে ব্যবস্থাপত্র দেন হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস ও মেডিসিন চিকিৎসক সৌরভ দাস এবং ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তানজিন রহমান।

ছোটুর চলে যাওয়ার এক দশক, নানাভাই নেই ৬ বছর

দুপুর ১২টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, দূরদূরান্ত থেকে নারী, পুরুষ, শিশুসহ সব বয়সের রোগীরা ক্যাম্পে ভিড় করছেন। তাঁরা চিকিৎসকদের কাছ থেকে ব্যবস্থাপত্র নিচ্ছেন এবং আসার সময় এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ওষুধ বিনা মূল্যে নিয়ে খুশি মনে ফিরে যাচ্ছেন।

চরকমলাপুর এলাকার শেখ মোসলেমের স্ত্রী মিনু বেগম (৪৫) জানান, তিনি ডায়াবেটিক, থাইরয়েড, উচ্চ রক্তচাপ, বাতব্যথাসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। তিনি বলেন, ‘গতকাল মঙ্গলবার মাইকিং শুনে এসেছি। ডাক্তার পাঁচ ধরনের ওষুধ লিখে দিয়েছেন। এখান থেকে আমাকে চার ধরনের ওষুধ ফ্রি দিয়েছে। আমি খুব খুশি।’ দক্ষিণ চরকমলাপুর এলাকার বাসিন্দা মো. সাইফুল্লাহ (৪২) বলেন, ‘পেট বড় হয়ে যায়, ফ্যাটি লিভার সমস্যা। বউ জানায়, বিনা মূল্যে চিকিৎসা দিচ্ছে। তাই ডাক্তার দেখাতে চলে এসেছি।’

ফারাজ হোসেন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর সীমান্তবর্তী আজাদনগর চর আবদুল্লাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিনা মূল্যে মেডিকেল ক্যাম্প

নোয়াখালী

নোয়াখালীর সীমান্তবর্তী লক্ষ্মীপুরের আজাদনগর চর আবদুল্লাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিনা মূল্যে মেডিক্যাল ক্যাম্প হয়েছে। সেখানে দুই জেলার সীমান্তবর্তী চরাঞ্চলের তিন শতাধিক অসহায়, দুস্থ ও সাধারণ মানুষকে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদান করা হয়।

দিনব্যাপী এই ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত ছিলেন মেডিসিন বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তৌহিদুল ইসলাম এবং গাইনি বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নুসরাত জাহান অনু। তাঁরা আগত রোগীদের আন্তরিকতার সঙ্গে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন।

ক্যাম্পে উপস্থিত থেকে সার্বিক কার্যক্রম তদারকি ও পরিচালনা করেন এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক খায়রুল বাশার। তিনি বলেন, ‘ফারাজ হোসেন ফাউন্ডেশন ও এসকেএফ সব সময়ই মানবতার কল্যাণে কাজ করে আসছে। চরাঞ্চলের মানুষ ভৌগোলিক ও যাতায়াত ব্যবস্থার নানা সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক সময় সঠিক সময়ে উন্নত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হন। তাঁদের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতেই আমাদের এই আয়োজন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’

বরিশাল

সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বরিশালের উজিরপুর উপজেলার প্রত্যন্ত ডাবেরকূল ইউনিয়নে এই মেডিক্যাল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে আয়োজিত ক্যাম্পে অন্তত ৩০০ দরিদ্র রোগীকে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধও দেওয়া হয়। এতে চিকিৎসাসেবা দেন ইসতিয়াক আহমেদ ইমন ও সাইদুর রহমান।

স্থানীয় গাজীরপাড় গ্রামের বৃদ্ধ আবদুস সত্তার (৮৫) দীর্ঘদিন ধরে নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। কিন্তু দারিদ্র্যের কারণে ঠিকমতো চিকিৎসক দেখাতে পারেননি। মেডিক্যাল ক্যাম্পের মাইকিং শুনে তিনি এই ক্যাম্পে আসেন। চিকিৎসকের পরামর্শ ও ওষুধ পেয়ে খুশি আবদুস সত্তার বলেন, ‘মোগো গরিব মাইনসের লইগ্যা য্যারা এই আয়োজন করছে, হ্যাগো আল্লায় রহমত করুণ, প্রাণখুইল্লা দোয়া হরি।’

মালিকান্দা গ্রামের মমতাজ বেগম (৪৫) দীর্ঘদিন ধরে অ্যালার্জি, শারীরিক ব্যথাসহ নানা সমস্যায় ভুগছেন। শহরে গিয়ে চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য নেই। এখানে এসে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পেয়ে খুশি মমতাজ বেগম বললেন, ‘এহন যদি আল্লায় একটু আছান দেয়।’

টাঙ্গাইল

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার কোলাহা শহীদ স্মৃতি উচ্চবিদ্যালয়ে এই চিকিৎসাশিবিরের আয়োজন করা হয়। এতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা মেডিসিন, সার্জারি, গাইনি অ্যান্ড অবস, নাক–কান–গলা, দন্ত, হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস, বক্ষব্যাধি, শিশুরোগের চিকিৎসা প্রদান করেন। রোগীদের মধ্যে বিনা মূল্যে ওষুধও বিতরণ করা হয়।

চিকিৎসাশিবিরে উপস্থিত ছিলেন এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালসের সিনিয়র রিজিওনাল সেলস ম্যানেজার শেখ মো. রবিউল ইসলাম ও অন্য কর্মকর্তারা। এই ক্যাম্পে প্রায় ৪০০ জন রোগীকে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ প্রদান করা হয়।

ফারাজ হোসেনের জন্মদিনে বিনা মূল্যে চিকিৎসা পেলেন দরিদ্র মানুষেরা
ফারাজ হোসেন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মেডিকেল ক্যাম্পে রোগী দেখছেন চিকিৎসকেরা। বুধবার সকালে সিলেটের জৈন্তাপুর ‍উপজেলায়

সিলেট

সিলেটের দুই উপজেলায় সহস্রাধিক মানুষকে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দিয়েছে ফারাজ হোসেন ফাউন্ডেশন। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার গৌরীনগরের আল বারাকা মোহাম্মদীয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসায় এবং জৈন্তাপুর উপজেলার রাংপানি ক্যাপ্টেন রশিদ উচ্চবিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজে আলাদা দুটি চিকিৎসাশিবিরের আয়োজন করা হয়।

কোম্পানীগঞ্জের মেডিক্যাল ক্যাম্পে পার্ক ভিউ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা সুদীপ্ত মজুমদার এবং পাইওনিয়ার হাসপাতালের রেদওয়ানা তাবাসসুম বহ্নি রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেন। আর জৈন্তাপুরের মেডিক্যাল ক্যাম্পে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা আবদুল মালেক চৌধুরী, আনোয়ারুল আজিম ও মঞ্জুর এলাহি চিকিৎসাসেবা দেন। চিকিৎসার পাশাপাশি রোগীদের বিনা মূল্যে ওষুধও বিতরণ করা হয়।

আজ দুপুর ১২টার দিকে কোম্পানীগঞ্জের মেডিক্যাল ক্যাম্পে আসা ৯১ বছর বয়সী শওকত আলী বলেন, বয়সের কারণে দূরে গিয়ে চিকিৎসা করানো তাঁর জন্য কষ্টকর। বাড়ির কাছেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সেবা পেয়ে তিনি উপকৃত হয়েছেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ ও ভিটামিন পেয়েছেন।

একই এলাকার ৮২ বছর বয়সী মজর আলী বলেন, বৃষ্টির পানিতে চলাচল করতে গিয়ে তাঁর পায়ে ঘা হয়েছে। সেটির চিকিৎসা করাতে তিনি মেডিক্যাল ক্যাম্পে এসেছেন। আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এলাকাটি উপজেলা ও জেলা শহর থেকে দূরে। ফলে অসুস্থ হলে চিকিৎসক দেখাতে কিছুটা সমস্যা হয়। এ জন্য ছোটখাটো সমস্যা হলেও চিকিৎসকের কাছে যান না। এলাকাতে ডাক্তার আসায় আর দূরে যেতে হয়নি।

ফারাজ হোসেন ফাউন্ডেশন ও এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালসের আয়োজনে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে চা-শ্রমিক রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কালিটি চা-বাগান, কুলাউড়া, মৌলভীবাজার

মৌলভীবাজার

কুলাউড়া উপজেলার কালিটি চা-বাগানে এই বিনা মূল্যে চিকিৎসাশিবিরের আয়োজন করা হয়। এতে দুস্থ চা-শ্রমিক পরিবারের ৬০০ রোগীকে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ প্রদান করা হয়েছে।

বেলা ১১টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, কালিটি বাগানের বন্ধ থাকা হাসপাতালের একটি কক্ষে মেডিক্যাল ক্যাম্প চলছে। বাগানের বিভিন্ন বয়সী মানুষ চিকিৎসা নিতে ভিড় জমিয়েছেন। একজন পুরুষ ও একজন নারী চিকিৎসক রোগীদের শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছিলেন। এরপর ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী রোগীদের হাতে ওষুধ তুলে দেওয়া হয়।

চিকিৎসা নিয়ে ফেরার পথে বাগানের শ্রমিক রেখা রবিদাস (৪৫) বলেন, ‘সারা দিন পাতা তুলি। বাড়ি গেলে সারা শরীল ব্যথা করে, মাথা ঘুরায়। ঘরের কামকাজ করতে পারি না। এইখানে ডাক্তার দেখিয়া কইলেন, অসুখ কমব। সময়মতো ওষুধ খাইতে কইলেন।’

শ্রীমনি রবিদাস (৫০) নামের আরেক শ্রমিক বললেন, ‘হামরা গরিব মানুষ। বাগানের আসপাতালটাও অনেক দিন ধরি বন্ধ। বেমার হইলে চিকিৎসার সুযোগ নাই। আইজ ফ্রিতে ডাক্তার দেখাইলাম। এইটা যারা করল, ভগবান যেন তারার মঙ্গল করে।’

নড়াইল

লোহাগড়া উপজেলার নোয়াগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদে আজ সকাল নয়টায় শুরু হয়ে বিকেল পর্যন্ত চিকিৎসা ক্যাম্প চলে। এতে উপজেলার ৬০০ রোগীকে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ প্রদান করা হয়। মেডিক্যাল ক্যাম্পে মেডিসিন, প্রসূতি ও স্ত্রীরোগসহ বিভিন্ন রোগবিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা সেবা প্রদান করেন।

সেবাগ্রহীতারা বলেন, বিনা মূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ সেবার এই আয়োজন তাঁদের খুব ভালো লেগেছে। কারণ, গ্রামের অনেক মানুষ টাকার অভাবে এবং বয়স্ক অনেকে ভোগান্তির জন্য শহরে গিয়ে চিকিৎসা নিতে পারেন না। এখানে বাড়ির পাশে বিনা মূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে সবার উপকার হচ্ছে।

শারীরিক সমস্যা নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসা শামুকখোলা গ্রামের সাতরি বেগম (৬৫) বলেন, ‘টাকার অভাবে নড়াইল বা লোহাগড়ায় ডাক্তার দেহাতি যাতি পারিনে। এখানে টাহাপয়সা ছাড়া ডাক্তার দেহাইছি, ওষুধ পাইছি।’

নাটোর

নাটোরে ফারাজ হোসেন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ১৫০ জন রোগীকে বিনা মূল্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। রোগীদের প্রয়োজনীয় ওষুধও বিনা মূল্যে সরবরাহ করা হয়। আজ সকাল নয়টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত জেলার বাগাতিপাড়া উপজেলার দয়রামপুর ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে অনুষ্ঠিত ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পে এই চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়।

প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধসামগ্রী পেয়ে রোগীরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। সেবাগ্রহীতা মেছের উদ্দিন বলেন, ‘অনেক দিন ধরে আমার পেটের সমস্যা। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছি; কিন্তু পুরোপুরি সুস্থ হতে পারিনি। আজ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখাইছি। ডাক্তার ওষুধ দিছে। আশা করছি সুস্থ হতে পারব।’ আম্বিয়া বেওয়া নামের এক নারী জানান, তাঁর স্বামী নেই। শহরে গিয়ে বড় ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা করানো তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। বাড়ির পাশে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা পেয়ে তিনি ভীষণ খুশি।

নরসিংদীর চরাঞ্চল করিমপুর ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সে এ মেডিক্যাল ক্যাম্প

নরসিংদী

নরসিংদীর চরাঞ্চল করিমপুরে দরিদ্র অসহায় রোগীদের সেবায় বিনা মূল্যে চিকিৎসাশিবির হয়। আজ সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত করিমপুর ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সে এ মেডিক্যাল ক্যাম্প হয়। দিনভর আড়াই শতাধিক রোগী সেখান থেকে সেবা নিয়েছেন।

চিকিৎসাসেবা দেন মো. গোলাম শাকিল শাওন ও তানিয়া জামান স্বর্ণা নামের দুজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। তাঁদের সহযোগিতা করেন আটজন স্বেচ্ছাসেবী। কার্যক্রমটির সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড নরসিংদীর কর্মকর্তারা।

দুপুর ১২টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছেন সেবাপ্রার্থীরা। তাঁরা কক্ষে প্রবেশের পর সহযোগীরা রোগীর কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের পর চিকিৎসকের কাছে পাঠাচ্ছেন। পরে চিকিৎসক ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছেন। ওই ব্যবস্থাপত্র দেখিয়ে একটি নির্দিষ্ট বুথ থেকে তাঁরা বিনা মূল্যে ওষুধ নিচ্ছেন।

আয়োজকেরা জানান, মেডিক্যাল ক্যাম্প সম্পর্কে স্থানীয় লোকজনকে দুই দিন আগেই জানানো হয়। আজ আড়াই শতাধিক রোগী সেবা নিয়েছেন।

ওষুধ ও ব্যবস্থাপত্র পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন শিউলি বেগম (৩২) নামের একজন নারী। তিনি বলেন, ‘এখানে এসে টাকা ছাড়াই চিকিৎসা পাইছি। আবার ওষুধও দিছে ফ্রি। আমার মতো অনেকের খুব উপকার হইছে।’

নীলফামারী শহরের ডালপট্টি এলাকায় বিশ্বাস মেডিক্যাল সেন্টারে দিনব্যাপী মেডিকেল ক্যাম্প

নীলফামারী

নীলফামারী শহরের ডালপট্টি এলাকায় বিশ্বাস মেডিক্যাল সেন্টারে দিনব্যাপী এই চিকিৎসাশিবির হয়। এখানে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ পেয়েছেন তিন শতাধিক নারী-পুরুষ ও শিশু। সেখানে চিকিৎসাসেবা দেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক শুধাংসু রঞ্জন বিশ্বাস, এম এম প্রতীক হোসেন ও পারুল রানী রায়।

চিকিৎসা নিতে আসাদের একজন শহরের দেবীরডাঙ্গা মুন্সিপাড়া মহল্লার সৈয়দ আলী (৭০)। তিনি দীর্ঘদিন শ্বাসকষ্ট, শারীরিক দুর্বলতা ও বুকের ব্যথায় ভুগছিলেন। তিনি বলেন, বাজার থেকে মাঝেমধ্যে ওষুধ কিনে খান। সাময়িক উপকার হয়; কিন্তু পারিবারিক দৈন্যের কারণে কোথাও গিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেখাতে পারেননি। তাই মেডিক্যাল ক্যাম্পের মাইকিং শুনে এখানে এসেছেন। চিকিৎসকের পরামর্শ ও বিনা মূল্যে ওষুধ পেয়ে খুশি হয়ে সৈয়দ আলী বলেন, ‘পকেটে রিকশাভাড়াও নাই। অনেক কষ্ট করি আইসছি। বিনা টাকায় ডাক্তার দেখল, ওষুধও দিল। আমাদের গরিবের জন্য যারা এই আয়োজন করেছে, আল্লায় তাদের ভালো করুক। আমি তাদের জন্য দোয়া করি।’

ডিমলা উপজেলার ডালিয়া থেকে মাথাব্যথার চিকিৎসা নিতে এসেছে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী আনিকা কাওছার (১৫)। সে বলে, ‘বাবা কোম্পানিতে চাকরি করেন। আমার ছোটবেলা থেকে মাথাব্যথা। অনেক চিকিৎসা করেও ভালো হচ্ছে না। আমার এক আত্মীয় আমাকে খবর দিয়ে এখানে এনেছেন। এখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আমাকে ভালো করে দেখলেন। বিনা টাকায় ওষুধও দিলেন। চিকিৎসকের কথায় মনে হলো তাঁরা আমার অসুখটা ধরতে পেরেছেন।’

লতিফুর রহমান ও ফারাজ হোসেনের মৃত্যুবার্ষিকীতে রোগীদের বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার মোল্লারহাট এলাকায়

লক্ষ্মীপুর

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার মোল্লারহাট এলাকার আল কারিম ডায়াগনস্টিক সেন্টারে দিনব্যাপী চিকিৎসাশিবিরে প্রায় ৪০০ রোগীকে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসক জাহিদুল ইসলাম ও সাবরিনা ইসলামের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি মেডিক্যাল টিম রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেয়। এ সময় রোগীদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ বিনা মূল্যে বিতরণ করা হয়।

চিকিৎসাসেবা গ্রহণকারী ৭০ বছর বয়সী নুরুল ইসলাম জানান, এ ধরনের আয়োজন তাঁদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য অনেক উপকারী। বিনা মূল্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ও ওষুধ পেয়ে তিনি খুবই উপকৃত হয়েছেন বলে জানান।

ফারাজ হোসেন ফাউন্ডেশন আয়োজিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে চিকিৎসা সেবা নিতে আসেন বিভিন্ন বয়সী নারী পুরুষ। ১ জুলাই, আলোকদিয়া, মাগুরা সদর

মাগুরা

মাগুরা সদর উপজেলার বগিয়া ইউনিয়ন পরিষদে দিনব্যাপী বিনা মূল্যে চিকিৎসাশিবিরে ৪৭০ জন মানুষ চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। রোগীদের চিকিৎসা পরামর্শ দেন প্রসূতিবিশেষজ্ঞ চিকিৎসক জাকিয়া আফরিন আলিশা, মেডিসিনবিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পার্থ প্রতিম বিশ্বাস এবং দন্তবিশেষজ্ঞ সায়মা শারমিন প্রেমা। সকাল নয়টা থেকে সেখানে আলোকদিয়া, বগিয়া, পুখুরিয়াসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করেন। ক্যাম্পে আসা রোগীদের বিনা মূল্যে ২২ ধরনের জরুরি ওষুধ সরবরাহ করে এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড।

সরেজমিনে দেখা যায়, চিকিৎসাশিবিরে নারী, শিশু ও বয়স্কদের উপস্থিতি বেশি ছিল। রোগীর চাপ সামলাতে নির্ধারিত সময় দুপুর দুইটা পেরিয়ে চিকিৎসাসেবা চলে বিকেল চারটা পর্যন্ত।

সেবা নিতে আসা আলোকদিয়া গ্রামের সুফিয়া বেগম বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে শরীরে ব্যথাসহ নানা অসুখে ভুগছিলাম। গতকাল মাইকিং শুনে বৃষ্টির মধ্যিও আইছি।’ একই গ্রামের সীমা খাতুন তাঁর কয়েক মাস বয়সী সন্তানকে নিয়ে এসেছিলেন। মা ও শিশু দুজনই ভুগছেন চর্মরোগে। সীমা বলেন, ‘কোলের শিশুকে নিয়ে জেলা হাসপাতালে যাওয়া আমাদের জন্য খুব কষ্টসাধ্য। বাড়ির কাছে এই ফ্রি চিকিৎসা আর ওষুধ পেয়ে খুব উপকার হলো।’

ফেনীতে ফারাজ হোসেন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এসকেএফ এর সহায়তায় চিকিৎসা নিতে এসেছেন রোগীরা। আজ দুপুরে ফেনী শহরের শান্তি কোম্পানি রোড এলাকায়

ফেনী

ফেনী শহরের শান্তি কোম্পানি রোড এলাকায় হাজী ইসাক ভূঁইয়া ফাউন্ডেশনের কার্যালয়ে দিনব্যাপী চিকিৎসাশিবিরে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ পেয়েছেন তিন শতাধিক মানুষ।

সেখানে চিকিৎসা নিতে আসাদের একজন শান্তি কোম্পানি এলাকার বাসিন্দা সত্তরোর্ধ্ব রোকসানা খানম। তিনি দীর্ঘদিন ডায়াবেটিস ও বুকের ব্যথায় ভুগছিলেন। তিনি বলেন, ‘ডাক্তারের চেম্বারে গেলে অনেক টাকা ফিশ লাগে। এখানে বিনা মূল্যে চিকিৎসা নিতে পেরে ভালো লাগছে। বিনা মূল্যে চিকিৎসার পাশাপাশি আমাকে বেশ কিছু ওষুধ দিয়েছে।’

চিকিৎসকের পরামর্শ ও বিনা মূল্যে ওষুধ পেয়ে খুশি হয়ে রোকসানা খানম বলেন, ‘আন্ডা মতো গরিব মানুষের লাই এমন আয়োজন যারা কইচ্চে, হেতাগো আল্লাহ ভালো করুক। আঁই মন খুলি হেতাগো লাই দোয়া করুম।’

দিনব্যাপী এই চিকিৎসাশিবিরে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন ফেনী ডায়াবেটিক হাসপাতালের ডায়াবেটিক, মেডিসিন, বাতব্যথা ও শিশুরোগবিশেষজ্ঞ মো. তাওহীদুল ইসলাম; চর্ম ও শিশুরোগবিশেষজ্ঞ মিজানুর রহমান এবং গাইনি, প্রসূতি ও স্ত্রীরোগবিশেষজ্ঞ শারমিন জহুর বীথি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার গৌতমপাড়া ঘাটুরা উচ্চবিদ্যালয়ে আয়োজিত বিনা মূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার গৌতমপাড়া ঘাটুরা উচ্চবিদ্যালয়ে আয়োজিত বিনা মূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্পে ৬০০ নারী, পুরুষ ও শিশুকে চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি ওষুধ দেওয়া হয়েছে। সকাল ১০টার দিকে দিনব্যাপী এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রদীপ সরকার।

বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবার তথ্য শুনে চিকিৎসক দেখাতে আসেন গৌতমপাড়ার মকবুল হোসেন (৬৫)। তিনি বলেন, ‘কানে কম শুনি ও পায়ে পানি এসেছে। ওষুধ খাচ্ছি; কিন্তু কাজ হচ্ছে না। তাই চিকিৎসক দেখাতে আসছি। বিনা মূল্যে তিন প্রকার ওষুধ পেলাম।’

একই গ্রামের শফিকুল ইসলাম (৫৮) চর্মরোগের সমস্যা নিয়ে ক্যাম্পে আসেন। তিনি বলেন, ‘সারা শরীর চুলকায়। গরিব মানুষ, ডাক্তার দেখাবার টাকা নাই। তাই এখানে দেখাতে আসছি।’

এই মেডিক্যাল ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা দেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিনবিশেষজ্ঞ মামুনুর রশিদ, শিশুরোগবিশেষজ্ঞ হোসাইন মাহবুব শিশির ও গাইনিবিশেষজ্ঞ নুসরাত সিদ্দিকি।