সড়কপথে গাজীপুর শহরের প্রবেশমুখে রেলের লেভেল ক্রসিং। এ লাইন দিয়ে দেশব্যাপী অন্তত ৫২ জোড়া ট্রেন চলাচল করে প্রতিদিন। আর একটি ট্রেন আসা মানেই লেভেল ক্রসিংয়ে কমপক্ষে ১০ মিনিটের অপেক্ষা। এর প্রভাবে দিনব্যাপী আশপাশের সড়কে থাকে অসহনীয় যানজট। এতে নষ্ট হয় হাজারো কর্মঘণ্টা। তাই লেভেল ক্রসিংয়ের ওপর দিয়ে একটি ফ্লাইওভারের দাবি দীর্ঘদিনের।
কিন্তু আজও তা না হওয়ায় ক্ষুব্ধ গাজীপুর নগরবাসী।
গাজীপুর শহরে দিন দিন প্রকট হচ্ছে যানজট সমস্যা। রাজধানী ঢাকার প্রবেশপথ, শিল্পায়ন আর লোকসংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় যানজট সমস্যা সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগ। প্রতিদিন চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীসহ জেলা শহরের সরকারি অফিসে সেবাপ্রত্যাশী হাজারো মানুষকে।
স্থানীয়রা বলছেন, যানজটের প্রধানতম কারণ শহরের মাঝখানে থাকা জয়দেবপুর লেভেল ক্রসিং। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, আদালত ও শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাতায়াতকারী জনসাধারণ ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা এই যানজটের ভোগান্তি পোহাচ্ছে বহু বছর।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলা প্রশাসন, আদালত, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, সরকারি মহিলা কলেজ, কাজী আজিম উদ্দিন কলেজ, তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, রাণী বিলাসমনি সরকারি বালক ও বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, ডায়াবেটিস সেন্টার, রেজিস্ট্রি অফিস, প্রধান ডাকঘরসহ শহরের প্রাণকেন্দ্রে প্রবেশ করতে গেলে লেভেল ক্রসিংয়ের বাধা পার হতে হয়। তার ওপর রেলগেটের
দুই পাশে সড়কে রিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহনের আধিক্য এবং ফুটপাত হকারদের দখলে থাকায় যানজট আরও প্রকট হচ্ছে।
এ ছাড়া লেভেল ক্রসিংয়ের পাশে রেললাইনের ওপর আড়াআড়ি বসেছে দোকানপাট। এগুলো সবই ভ্রাম্যমাণ দোকান। এদের মধ্যে ফল বিক্রেতার সংখ্যা বেশি। ট্রেন কাছাকাছি এলে ফলের ঝুড়িগুলো তুলে নেন বিক্রেতারা। ট্রেন চলে গেলে আবারও বসেন একইভাবে। অনেকে ট্রেন আসার আগে লেভেল ক্রসিংয়ের প্রতিবন্ধক ফেলার পর নিচ দিয়ে যাতায়াত করেন। মোটরসাইকেল আরোহীদের অনেকে সেগুলো উঁচু করে বিপজ্জনকভাবে পার হন। এতে অনেক সময় ঘটে দুর্ঘটনা।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, লেভেল ক্রসিং তাদের বড় সমস্যা। এটা মানুষের দুর্ভোগের অন্যতম কারণ। শহরে প্রবেশের এটি প্রধান সড়ক।
এ সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারিভাবে পদক্ষেপ নেওয়া এবং এখানে জরুরি ভিত্তিতে ফ্লাইওভার নির্মাণ করা দরকার।
বোরহান উদ্দিন অরণ্য নামের এক বাসিন্দা বলেন, রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেন প্রবেশের কমপক্ষে ১০ মিনিট আগে লেভেল ক্রসিংটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ কারণে সড়কের দুপাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এই সড়ক ধরে যেতে হয় শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেলসহ বিভিন্ন হাসপাতাল, স্কুল-কলেজ ও আদালতে। জরুরি রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স অনেক সময় আটকে থাকে। একটি ফ্লাইওভার নির্মাণ খুবই জরুরি। দীর্ঘ বছর যাবত প্রতিশ্রুতি পেয়ে আসছি। কিন্তু বাস্তবায়ন হচ্ছে না।’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গাজীপুরে নির্বাচনী জনসভায় যানজট নিরসনে ফ্লাইওভার নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। তাঁর সেই প্রতিশ্রুতির কথা মনে করিয়ে দিয়ে মনোয়ার হোসেন রনি নামের এক বাসিন্দা বলেন, ‘শুনছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে ফ্লাইওভার নির্মাণকাজ হবে। আসলে কত দিনে তা হবে, তা-ই দেখার অপেক্ষায় আছি।’
জয়দেবপুর জংশন রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার হানিফ আলী আজকের পত্রিকাকে বলেন, নির্দিষ্ট সময়ে নিয়ম মেনে রেলগেট বন্ধ ও খোলা হয়। যেহেতু এটি জংশন এবং প্রতিদিন প্রায় ৫২ জোড়া ট্রেন চলাচল করে, তাই বারে বারে গেট ফেলতে এবং ওঠাতে হয়।
গাজীপুর সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, জাইকার তৃতীয় প্রকল্পের আওতায় গাজীপুরে লেভেল ক্রসিংয়ের ওপর একটি ফ্লাইওভার নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। গাজীপুর মহানগরীর বাসন ইসলামপুর থেকে কাশিমপুর যাওয়ার জন্য দুটি সেতুও এ প্রকল্পভুক্ত আছে। নকশা তৈরিসহ যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘দ্রুত সময়ের মধ্যে জয়দেবপুর লেভেল ক্রসিংয়ের ওপর শিববাড়ী থেকে জেলা পরিষদের সামনে রথখোলা পর্যন্ত একটি ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হবে। এটি বর্তমান সরকারের অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। দ্রুত সময়ের মধ্যে ফ্লাইওভারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে।








