চাটমোহরে বন্ধুদের সঙ্গে গাঁজা সেবনরত অবস্থায় পুলিশের হাতে আটক হন যুবক রনি হোসেন। জীবনে প্রথমবারের মতো পুলিশের হাতে আটক হয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি। পুলিশ রাতেই রনিসহ আটক কয়েক মাদকসেবীকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুসা নাসের চৌধুরীর ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করলে তিনি প্রত্যেককে এক মাসের কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা করে জরিমানা করেন। ঘটনা গত রোজার মাঝামাঝি সময়ের। বিষয়টি এ পর্যন্ত খুবই স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করার সময় অন্যরা যখন বিচারকের কাছে সাজা না দেওয়ার আকুতি জানাচ্ছিলেন তখন সাজাপ্রাপ্ত রনি ছিলেন নির্বাক। তিনি কাঁদতে কাঁদতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে বলেন, ‘স্যার, আমার একমাত্র ছেলে খুবই অসুস্থ, বাড়িতেও খাবার নেই। আপনি একটু খোঁজ নিয়েন।’ রনির এমন কথায় মুসা নাসের চৌধুরী আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন। পরদিনই রনির বাড়িতে খাদ্যসামগ্রী নিয়ে হাজির হন তিনি। এখানেই শেষ নয়, ১৫ মাস বয়সি রনির একমাত্র ছেলের হার্নিয়া অপারেশন নিজ উদ্যোগে করান তিনি। করে দেন নতুন ঘর। এক মাস পর জেল থেকে বেরিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের এমন মানবিকতা দেখে মুগ্ধ হন রনি হোসেন। প্রতিজ্ঞা করেন আর কখনোই মাদক সেবন করবেন না। এমনকি সিগারেট খাওয়া পর্যন্ত ছেড়ে দেন এক সময়ে মাদকের নেশায় বিভোর থাকা রনি। কিন্তু জেল থেকে বের হওয়ার পর কর্মহীন হয়ে পড়েন রনি হোসেন। মাদকসেবী ও জেল ফেরত আসামি আখ্যা দিয়ে কেউ তাকে কাজে নিচ্ছিল না। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন তিনি। বিষয়টি জানার পর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ধূলাউড়ি বাজারে একটি চায়ের স্টল করে দেন ইউএনও মুসা নাসের চৌধুরী। কিনে দেন টেলিভিশন, চা পাতা, চিনি, বিস্কুট, কাপ-পিরিচ ও বসার টুল। সপ্তাহখানেক আগে দোকান চালু করেছেন রনি। সে চা-স্টল থেকেই এখন রনির প্রতিদিন আয় হয় ৫-৬শ টাকা। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বেশ সুখেই জীবনযাপন করছেন এক সময় মাদকের নেশায় বুঁদ হয়ে থাকা রনি হোসেন। অন্ধকার জীবন ছেড়ে আলোর পথে আসা রনি যুগান্তরকে বলেন, ‘প্রতিটি মানুষের একবার জেলে যাওয়া উচিত। আমি জেলে না গেলে বুঝতাম না জীবন কত কঠিন। আমি ইউএনও স্যারের ভালোবাসা দেখে মাদক ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিই। ইউএনও মুসা নাসের চৌধুরী বলেন, ‘জেলে না গেলে মানুষের উপলব্ধি হয় না। আর একজন অপরাধ করেছে বলেই যে তাকে দূরে ঠেলে দিতে হবে, বিষয়টা ঠিক নয়। ভালোবাসা দিয়ে যে কোনো অপরাধমূলক কাজ থেকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। রনি মাদক ছেড়েছে জানার পর তাকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। আমি রনির সর্বাঙ্গীন মঙ্গল কামনা করছি।’