মোবাইল ফোন আর আড্ডা নিয়ে যখন সবাই ব্যস্ত, সে সময় এক অনন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন গ্রামের কয়েকজন তরুণ। গ্রামে খেলার মাঠ নেই। তাতে কী, নিজেদের উদ্যোগেই জমি লিজ নিয়ে তৈরি করেছেন ফুটবল মাঠ। প্রতিবছর ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয়ে তিন বিঘার বেশি জমি লিজ নিয়ে সেটিকে খেলার মাঠের উপযোগী করা হয়েছে। তরুণরা বিশ্বাস করেন, খেলাধুলার মধ্যেই সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার সুযোগ রয়েছে। দুই বছর ধরে এই মাঠে নিয়মিত ফুটবল, ক্রিকেটসহ বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজন করছেন তারা। আর এ ধরনের অনুকরণীয় ঘটনা দেখা গেছে, রাজশাহীর পবা উপজেলার পারিলা ইউনিয়নের কাঁঠালপাড়া গ্রামে। বিকাল হলেই একটি মাঠে ফুটবল নিয়ে ব্যস্ত থাকছে একদল তরুণ। মাঠের একপাশে ছোট শিশুরা অনুশীলন করছে, অন্য পাশে ‘ওয়ার্মআপে’ মগ্ন বড়রা।

সরেজমিন দেখা গেছে, বিকাল পাঁচটার পর থেকেই খেলোয়াড়দের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। কিছুক্ষণ পর ছোট-বড় সবাই গা গরম (ওয়ার্মআপ) করে নিলেন। এরপর দুই দলে ভাগ হয়ে শুরু হয় ফুটবল ম্যাচ। এটি চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত। খেলা দেখতে আসা গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা আলফাজ উদ্দিন বলেন, ‘এই মাঠ গ্রামের পরিবেশ বদলে দিয়েছে। অন্য গ্রামের তুলনায় এখানকার ছেলেদের আচরণও অনেক ভালো।’

স্থানীয়রা জানান, কাঁঠালপাড়া গ্রামটির চারপাশজুড়ে কৃষিজমি ও ফলের বাগান। খেলাধুলার কোনো মাঠ ছিল না। এ সমস্যার সমাধানে স্থানীয় সংগঠন ‘কাঁঠালপাড়া যুবসংঘ’ একটি পেয়ারাবাগান লিজ নিয়ে জমি সমতল করে খেলার মাঠ তৈরি করে। বর্তমানে প্রতিদিন বিকালে মাঠটিতে ছোট-বড় মিলিয়ে ৫০ থেকে ১০০ জনের সমাগম হয়। কেউ অনুশীলন করেন, কেউ খেলেন, আবার কেউ মাঠের পাশে দাঁড়িয়ে খেলা উপভোগ করেন।

কাঁঠালপাড়া যুবসংঘের সভাপতি তারিক হোসেন বলেন, ‘মাঠটি সম্পূর্ণ আমাদের নিজস্ব উদ্যোগে করা। ক্লাবের সদস্যরা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী অর্থ দিয়েছেন। কেউ ৫০০ টাকা, কেউ ১ হাজার, আবার কেউ ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত দিয়েছেন। সবার সহযোগিতায় লিজের টাকা জোগাড় হয়েছে। আমাদের একটাই লক্ষ্য, গ্রামের ছেলেরা যেন খেলাধুলার মধ্যে থাকে, মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে না পড়ে।’ কাঁঠালপাড়া যুবসংঘের সদস্য বিপ্লব হোসেনের ভাষ্যমতে, গ্রামে ব্যক্তিগত উদ্যোগে এত বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে মাঠ লিজ নেওয়ার ঘটনা বিরল। স্থানীয়দের মতে, মাঠটি এখন শুধু খেলাধুলার জায়গা নয়, সামাজিক বন্ধনেরও কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। যুবসংঘটির সহসভাপতি রনি বলেন, খেলাধুলার পাশাপাশি শীতবস্ত্র বিতরণ, ঈদে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মতো সামাজিক কাজও করা হয়। স্থানীয় তরুণদের খেলাধুলার সার্বিক বিষয় দেখভাল করেন মুকুল হোসেন। তিনি বলেন, ‘ছেলেরা যেন মাদকের সঙ্গে না জড়িয়ে যায়, সেটিই হবে সবচেয়ে বড় অর্জন। কাঁঠালপাড়া যুবসংঘের যাত্রা ২০১১ সালে। ২০১৮ সালে নিবন্ধনের সময় সংগঠনটির নাম রাখা হয় ‘কাঁঠালপাড়া যুবসংঘ’।