কুমিল্লায় স্কুলছাত্র ইথান আহমেদ প্রেমকে গুলি করার ঘটনায় নগরজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া চলছে। জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ওই শিক্ষার্থী এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বুলেটটি তার পিঠে বিদ্ধ হয়ে ফুসফুসে গিয়ে ঠেকেছে। এ ঘটনায় প্রেমের বাবা ইউনুছ মিয়া সন্ত্রাসী সাব্বির, অপুসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন। এদিকে ঘটনার মূল হোতারা এখনো গ্রেফতার হয়নি। মাদক ব্যবসায়ী এবং এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারে আলটিমেটাম (সময় বেঁধে দেওয়া) দিয়েছেন সংসদ-সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরীর কাটাবিল এলাকায় মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি এবং আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সন্ত্রাসী অপু ও সাব্বির গ্রুপের মধ্যে প্রায়ই সংঘর্ষ হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে দুই গ্রুপ হঠাৎ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। উভয় গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলি হয়। এ সময় স্কুল থেকে বাসায় ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ হয় প্রেম। ওইদিন সকালে মাদকবিরোধী মানববন্ধনে অংশ নেওয়ায় তাকে গুলি করা হয় বলে পরিবার এবং এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়। খবর পেয়ে এদিন ঘটনাস্থলে ছুটে যান কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ-সদস্য (এমপি) মনিরুল হক চৌধুরী। এ সময় তিনি সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে পুলিশকে সময় বেঁধে দেন। মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, গুলিবিদ্ধ স্কুলছাত্রের পরিবারকে সমবেদনা জানাতে বাসায় গিয়েছিলাম। এমপি হিসাবে আমি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ ঘটনার দায় এড়াতে পারে না। জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে রাতেই জরুরি সভা করেছি। ডিআইজিকে ফোন করেছি। অবশ্যই সন্ত্রাসীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করতে হবে।

এদিকে ঘটনায় জড়িত শ্রাবণ নামের এক সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সন্ধ্যায় তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছয় রাউন্ড গুলিসহ একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। তাছাড়া সন্ত্রাসী অপু ও সাব্বিরকে গ্রেফতারে রাতভর অভিযান পরিচালনা করেছে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। প্রেমের বাবা ইউনুছ মিয়া বলেন, আমার ছেলে জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কাতরাচ্ছে। গুলিটি তার পিঠে বিদ্ধ হয়ে ফুসফুসে গিয়ে ঠেকেছে। একবার অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয়েছিল। কিন্তু গুলি বের করা সম্ভব হয়নি। গুলির ক্ষত স্থান থেকে অনেক রক্তক্ষরণ হচ্ছে। আমরা রক্ত দিচ্ছি। তিনি বলেন, জ্যেষ্ঠ সার্জন এলে গুলি বের করতে অপারেশন করা হবে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, এ ঘটনায় ছয়জন এজাহারনামীয় এবং অজ্ঞাতনামা ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। শ্রাবণ নামের একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

কুমিল্লা ডিবির ওসি মোহাম্মদ শামসুল আলম শাহ বলেন, সন্ত্রাসী শ্রাবণের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছয় রাউন্ড গুলিসহ একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। আমরা ঘটনার মূল হোতা সাব্বির ও অপুকে গ্রেফতারে ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছি।