ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, মাদকের ভয়াবহতায় অসংখ্য পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেছে। অনেক পরিবারের স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। মাদক কারবারিরা দেশ, জাতি ও সমাজের শক্র। শুক্রবার রাজশাহীতে মাদকবিরোধী বিভাগীয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে দ্রুত অভিযান শুরুর নির্দেশ দেন। জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক’ দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান আরও বলেন, রাজশাহী অঞ্চলে মাদক পাচার ও মাদকের অবাধ ব্যবহার বেড়েছে। এ প্রবণতা যে কোনো মূল্যে রুখতে হবে। মাদকের আগ্রাসন রোধে সমাজের সব শ্রেণিপেশা ও শুভবুদ্ধির মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, বাইরে থেকে বিশেষ করে সীমান্ত পথে মাদক আসছে। দুই দশকে সীমান্তঘেঁষা এলাকার অনেক মাদক কারবারি অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। তিনি বলেন, শুধু মাদক বহনকারীদের গ্রেফতার করলেই হবে না। এ অপরাধ চক্রের সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে জামিনে বেরিয়ে এসে আবারও যেন কেউ মাদক ব্যবসায় জড়াতে না পারে সে বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় আনতে হবে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনা করতে হবে। সংশ্লিষ্ট সব আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকেও নিজ নিজ অবস্থান থেকে মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে।

সভায় রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আনম বজলুর রশীদ, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি ড. মোহাম্মদ শাহজাহান, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ফয়েজুল কবির, পুলিশ সুপার নাঈমুল হাছান, জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক আলী আসলাম হোসেন উপস্থিত ছিলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি ও রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। সভা শেষে মাদকবিরোধী অভিযান ও প্রচারণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এর আগে নগরীতে মাদকবিরোধী শোভাযাত্রা বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।