রায়পুরে শাহিনুর বেগম ও তার তিন মেয়ে হত্যার ঘটনায় বাসায় থাকা স্বর্ণালংকার বা টাকা খোয়া যায়নি। মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পুলিশ বাসাটিতে তল্লাশি চালায়। ফলে শুধু লুটপাটের উদ্দেশ্যে হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়, এই ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে বলে দাবি পুলিশের। বাসা থেকে বের হওয়ার সময় অন্তর দুটি মোবাইল ফোন সঙ্গে নিয়ে বের হয়েছিল। তদন্তে ফোন দুটি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে রায়পুর থানার ওসি শাহীন মিয়া জানান, মাদকের টাকার জন্যই হত্যাকাণ্ড ঘটায় অন্তর মজুমদার।

দুই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ওসি (তদন্ত) আবদুল মান্নানের মতে, এ মামলার তদন্তে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ঘটনা সরাসরি বর্ণনা করার মতো কেউ সাক্ষী নেই। কারণ খুনি অন্তর মজুমদারও নিহত হয়েছে। এ কারণে আলামত, ফরেনসিক তথ্য ও পারিপার্শ্বিক প্রমাণের ওপর নির্ভর করেই তদন্ত এগিয়ে নিতে হচ্ছে। রায়পুর থানার ওসি শাহীন মিয়া বলেন, খুনির মুঠোফোনের কল রেকর্ড ও অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ঘটনার আগে তাদের মধ্যে কোনো ফোনালাপ বা নিয়মিত যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পরিবারের সঙ্গে পূর্বঘনিষ্ঠতারও প্রমাণ মেলেনি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাউছার বলেন, সিফাতকে প্রাথমিকভাবে এক লাখ টাকা আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও তার পাশে থাকবে প্রশাসন। গত বৃহস্পতিবার সকালে বাসায় ঢুকে মা শাহিনুর বেগম (৩৮) ও তার মেয়ে সায়মা আক্তার (২০), নাফিসা আক্তার ইকরা (১৭), ফাতেমা আক্তার শিফাকে (৯) কুপিয়ে হত্যা করে অন্তর। পরে পালিয়ে যাওয়ার সময় সে জনতার পিটুনিতে নিহত হয়।

মাদকের টাকার জন্যই খুন করে অন্তর : মাদকের টাকার জন্যই রায়পুরে মা শাহিনুর বেগম ও তার তিন মেয়েকে খুন করে অন্তর মজুমদার। মঙ্গলবার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এ তথ্য জানান রায়পুর থানার ওসি শাহীন মিয়া। তিনি বলেন, সে ৭-৮ বছর ধরে মাদকাসক্ত ছিল। ভ্রাম্যমাণ ফল বিক্রির আড়ালে সে মাদক সেবন করত। সভায় উপস্থিত ছিলেন-রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান কাউছার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিগার সুলতানা, হাসপাতালের আরএমও মামুনুর রশীদ পলাশ, কৃষি কর্মকর্তা মাজেদুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি জেড এম নাজমুল ইসলাম মিঠু, উপজেলা জামায়াতের আমির নাজমুল হুদা, প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক তাবারক হোসেন আজাদ, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জিয়াউল কাদের বাবলু প্রমুখ।।

সিফাতের চিৎকার-মা তো দরজা খুলছে না : শাহিনুর বেগমের পরিবারের বেঁচে থাকা একমাত্র সদস্য তার ছেলে জুনায়েদ ইসলাম সিফাত। সে রায়পুর সরকারি ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। মা ও তিন বোনকে দাফন করে আবারও রায়পুরে আসে সিফাত। গতকাল সেই বাসার দরজার সামনে দাঁড়ানো সিফাতের চোখে-মুখে ছিল বিষণ্নতা। মা নেই, ছোট বোন শিফাও নেই। দরজায় ধাক্কা দেয় সে। বেরিয়ে আসে চিৎকার-মা তো দরজা খুলছে না!