বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে রঙিন হয়ে উঠেছে স্পেন। আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর রাজধানী মাদ্রিদে লাখো সমর্থকের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা। খোলা ছাদের বাসে (ওপেন-টপ বাস) শহরজুড়ে বিজয় মিছিল করে বিশ্বকাপজয়ী দল।

সোমবার স্থানীয় সময় দুপুরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে মাদ্রিদে পৌঁছায় স্পেন দল। বিমানবন্দরে তাদের স্বাগত জানান বিপুলসংখ্যক সমর্থক। এরপর দলের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও কর্মকর্তারা রাজপ্রাসাদ জারজুয়েলা প্যালেসে গিয়ে স্পেনের রাজা ষষ্ঠ ফেলিপে ও রানি লেতিসিয়ার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

রাজপ্রাসাদ থেকে বেরিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা ওঠেন বিশেষভাবে সাজানো একটি খোলা বাসে। সেখান থেকে শুরু হয় বিজয় শোভাযাত্রা। শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ঘুরে বাসটি যায় ঐতিহাসিক প্লাজা দে সিবেলেসে, যেখানে সকাল থেকেই সমর্থকেরা ভিড় জমাতে শুরু করেছিলেন। জাতীয় পতাকা, ব্যানার, গান আর স্লোগানে পুরো এলাকা পরিণত হয় এক বিশাল উৎসবমুখর জনসমুদ্রে।

বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে একে একে সমর্থকদের উদ্দেশে শুভেচ্ছা জানান অধিনায়ক ও সতীর্থরা। খেলোয়াড়দের সঙ্গে উল্লাসে মেতে ওঠেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তেও। সমর্থকদের উদ্দেশে হাত নেড়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তারা।

এর আগের রাত থেকেই স্পেনজুড়ে শুরু হয়েছিল উদ্যাপন। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত ফাইনালের ফল নিশ্চিত হয় স্থানীয় স্প্যানিশ সময় মধ্যরাতের ঠিক আগে। এরপর রাতভর দেশের বিভিন্ন শহরে চলে আনন্দ-উৎসব। রাস্তায় নেমে আসে হাজার হাজার মানুষ। আতশবাজি, গান আর নাচে উদযাপিত হয় স্পেনের বিশ্বজয়।

ফাইনালে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে হারায় স্পেন। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দলই গোলের দেখা না পেলেও অতিরিক্ত সময়ে ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন ফেরান তোরেস। তার সেই গোলেই দীর্ঘ লড়াই শেষে বিশ্বকাপের ট্রফি নিজেদের করে নেয় 'লা রোহা'।

২০১০ সালের পর আবারও বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষে উঠল স্পেন। ১৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জিতে দেশটির ফুটবল ইতিহাসে নতুন এক গৌরবগাথা লিখেছে দে লা ফুয়েন্তের দল। সেই সাফল্যের আনন্দই এখন ছড়িয়ে পড়েছে স্পেনের প্রতিটি শহর, প্রতিটি রাস্তায়।


আইএইচএস/








