২০২৫ সালের ২১ জুলাই ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়ীতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় ৩৬ জন প্রাণ হারান। তাদের মধ্যে ২৮ জনই শিক্ষার্থী। যুদ্ধবিমানটির পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলামও নিহত হন। আহতদের অনেকে এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি।
ভয়াবহ সেই দুর্ঘটনার এক বছর পূর্ণ হচ্ছে ২১ জুলাই। দিনটি ঘিরে ক্যাম্পাসে নিহতদের স্মরণ ও আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনায় দোয়া ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির আরও ১৬টি শাখায় দোয়া ও স্মরণসভা হয়। এসব অনুষ্ঠানে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা ও আহতদের সুস্থতা কামনা করা হয়।
মাইলস্টোনে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে নিহতদের বেশিরভাগই প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থী, যাদের বেশিরভাগেরই বয়স ১৪ বছরের নিচে। সেই ঘটনার এক বছর পূর্ণ হলেও এখন পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো কোনো আইনি প্রতিকার বা ক্ষতিপূরণ পেয়েছে, এরকম কোনো তথ্য নেই।
দুর্ঘটনার পর প্রতিকার বা ক্ষতিপূরণ চেয়ে পৃথক কয়েকটি রিট করা হলে সেখানেও কোনো প্রতিকার মেলেনি। রিটকারী পক্ষের আইনজীবীরা বলছেন, এখন এসব রিটের বিষয়ে জারি করা রুল শুনানির উদ্যোগ নেওয়া হবে। আইনজীবীদের ভাষ্য, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণের বিধান থাকলেও বাংলাদেশে এর সুনির্দিষ্ট কোনো আইন নেই। ফলে টর্ট আইন প্রয়োগই হতে পারে সমাধান।
প্রতিদিন স্কুলে এসে আরিয়ানের ছবি দেখে বন্ধু নাফিজ/ফাইল ছবি
টর্ট আইনের মূল উদ্দেশ্য হলো কারও বেআইনি কাজ বা অবহেলার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের মাধ্যমে প্রতিকার দেওয়া। এটি অপরাধীকে শাস্তির বদলে ভুক্তভোগীকে তার আগের অবস্থানে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে।
তথ্যানুসন্ধানে দেখা যায়, বিশ্বের কোথাও কোনো বাণিজ্যিক বিমান দুর্ঘটনার শিকার হলে আইন অনুযায়ী হতাহতদের পরিবার ক্ষতিপূরণ পেয়ে থাকে। স্কুলের ওপর এই যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের পর স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠেছে, অপূরণীয় এই ক্ষতির বিপরীতে প্রতিকার কী আছে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো কী আইনি সুরক্ষা বা ক্ষতিপূরণ পেতে পারে?
আরও পড়ুন
দুর্ঘটনা ও অবহেলাজনিত মৃত্যু / ‘টর্ট আইন ও বিধি’ প্রণয়নে লিগ্যাল নোটিশ
আইনজীবী ও বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ ধরনের দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে টর্ট আইন নামক একটা ব্যবস্থা রয়েছে। যেখানে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কৃতকর্মের কারণে অন্য কারও ক্ষতি হলে তার প্রতিকার পাওয়া যায়। বাংলাদেশে টর্ট আইন নামে সুনির্দিষ্ট কোনো আইন নেই। তবে এ ধরনের ক্ষেত্রে প্রচলিত দেওয়ানি বা ফৌজদারি আইনে মামলা করে ক্ষতিপূরণ, বিচার বা প্রতিকার পাওয়া যেতে পারে।
আইনজীবীরা বলছেন, দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তি বা তার পরিবার ক্ষতিপূরণ চেয়ে দেওয়ানি আদালতে মামলা করতে পারেন বা উচ্চ আদালতে রিট করতে পারেন। এখানে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির পেশা, আয় এবং সম্ভাব্য আয়ুষ্কাল বিবেচনা করে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়। যদিও নিহত ও আহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য আইনজীবী ও পরিবারের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু এর কোনো প্রতিকার হয়েছে বা কেউ কোনো প্রকার আর্থিক ক্ষতিপূরণ পেয়েছে তার তথ্য দিতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা।
দুর্ঘটনার পরপরই উচ্চ আদালতে পৃথক তিনটি রিট আবেদন করা হয়েছিল। একটি রিট অভিবাবকদের পক্ষ থেকে করেছিল বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)। জনস্বার্থে দ্বিতীয় রিটটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আনিসুর রহমান রায়হান। তৃতীয় রিটটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আরেক আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউনূছ আলী আকন্দ। যদিও ইউনূছ আলী আকন্দ জাগো নিউজকে জানিয়েছেন, তার রিটের বিষয়ে কোনো আদেশ দেননি হাইকোর্ট।
শিক্ষার্থীরা হারিয়ে যাওয়া প্রতিটি প্রাণের স্মরণে রোপণ করেছে স্মারক গাছ/ছবি: জাগো নিউজ
ব্লাস্ট-এর করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন গণমাধ্যমে প্রকাশ ও ভুক্তভোগীদের অনুলিপি দিতে নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট।
রিটটির প্রাথমিক শুনানি নিয়ে চলতি বছরের ৮ মার্চ হাইকোর্টের বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রুল দেন। ওই দুর্ঘটনায় হতাহতদের পরিবারকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দিতে নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, সে বিষয়ে পৃথক রিটটির ওপর রুল জারি করা হয়।
মাইলস্টোনে বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় নিহত ৩৬ জনের মধ্যে ২৮ জন শিক্ষার্থী, ৩ জন শিক্ষক, ৩ জন অভিভাবক, ১ জন আয়া ও বিমানের পাইলট রয়েছেন।
আরও পড়ুন
স্মৃতির শোক ভুলে সবুজের ছায়ায় নতুন জীবনের পথে মাইলস্টোনের শিক্ষার্থীরা
এ ঘটনার ছয়দিন পর ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ৯ সদস্যের তদন্ত কমিশন গঠন করে। কমিশনকে বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিত কারণ, দায়দায়িত্ব ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং ঘটনা-সংশ্লিষ্ট অপরাপর বিষয় চিহ্নিত করতে বলা হয়েছিল। কমিশন ওই বছরের ৫ নভেম্বর তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়।
তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন গণমাধ্যমে প্রকাশ এবং উত্তরা ক্যাম্পাসের ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে জাতীয় বিল্ডিং কোড অনুসরণ না করে অনুমোদনের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ জানানোয় নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ব্লাস্ট-এর রিটটি করা হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিহত আট ও আহত এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক এবং ব্লাস্ট এ রিট করে।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আমিরুল হক তুহিন, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী বনরূপা রায় ও শারমিন সুলতানা নীলা। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ শফিকুর রহমান।
জানতে চাইলে রিটকারীদের আইনজীবী আমিরুল হক জাগো নিউজকে বলেন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে গত বছরের ২৭ জুলাই তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়। কমিশন তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছে ৫ নভেম্বর। তদন্ত প্রতিবেদন গণমাধ্যমে প্রকাশ ও ভুক্তভোগীদের এর অনুলিপি দেওয়ার জন্য বলা হয়। তবে তৎকালীন সরকার তাতে সাড়া দেয়নি। তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন গণমাধ্যমে প্রকাশের ক্ষেত্রে নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে রুল দিয়েছেন আদালত।
এ আইনজীবী আরও বলেন, মাইলস্টোনের সেই ক্যাম্পাসের ভবনটি জাতীয় বিল্ডিং কোড বহির্ভূত ছিল—এটা যারা অনুমোদন দিয়েছে, দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা জানাতে সরকারের নিষ্ক্রিয়তা এবং হতাহতদের পরিবারকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দিতে নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না—এ মর্মেও রুল জারি করা হয়েছে। কিন্তু এসব রুলের পর কোনো অগ্রগতি নেই।
‘ক্ষতিপূরণের বিষয়েও কোনো অগ্রগতি নেই। কেউ কোনো ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন কি না, আমাদের জানা নেই। তবে আমরা রুলের বিষয়ে শুনানির উদ্যোগ নেবো’—বলেন আমিরুল হক।
আরও পড়ুন
কষ্টগুলো নীল জলে ভাসিয়ে দিলাম, বললো মাইলস্টোনের শিশুরা
মাইলস্টোনে ভয়াবহ এই বিমান বিধ্বস্তে আহতদের দেশে-বিদেশে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে বিমান বিধ্বস্তের কারণ খুঁজতে সাতদিনের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে ৪৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল।
পাশাপাশি দেশের সব স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আইডি কার্ডে তাদের রক্তের গ্রুপ ও অভিভাবকের মোবাইল ফোন নম্বর লেখার বিষয়ে পদক্ষেপ নিতেও নির্দেশ দেন আদালত। জনস্বার্থে দায়ের করা রিটটির প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত বছরের ২২ জুলাই হাইকোর্টের বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি সৈয়দ জাহেদ মনসুরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
গত বছরের ২১ জুলাই মাইলস্টোনে প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়/ফাইল ছবি
আদালতে ওইদিন রিটের পক্ষে শুনানি করেন বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন (বর্তমানে এমপি) এবং জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মহাসচিব ব্যারিস্টার কায়সার কামাল (বর্তমানে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার)। সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজল, অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান রায়হান, অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ মহিউদ্দিন পলাশ, অ্যাডভোকেট মাকসুদ উল্লাহ্ ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শফিকুর রহমান, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তানিম খান, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইকরামুল কবির ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ঈসা।
এর আগে আনিসুর রহমানের করা রিটটির ওপর শুনানি নিয়ে রুলসহ আদেশ দেন আদালত। পরে রিটকারী আইনজীবী জাগো নিউজকে বলেন, ওই আদেশে মাইলস্টোনে আহত শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দেশে-বিদেশে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ছাত্র-ছাত্রীসহ বহু হতাহতের ঘটনায় দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনেরও নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
আরও পড়ুন
‘স্বপ্নে দেখি আরিয়ানের সঙ্গে খেলছি, টিফিন খাচ্ছি, দৌড়াচ্ছি’
এ রিটটির শুনানি নিয়ে বিমান বিধ্বস্তে নিহতদের সবার পরিবারকে এবং আহতদের সবার জন্য পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন আদালত। এছাড়া সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রাখতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না এবং ঢাকাসহ জনবহুল এলাকায় প্রশিক্ষণ বন্ধ করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা-ও জানতে চাওয়া হয় রুলে।
জানতে চাইলে রিটকারী আইনজীবী আনিসুর রহমান রায়হান জাগো নিউজকে বলেন, ক্ষতিপূরণের রিট করা হলে রুল জারি করেন আদালত। কিন্তু কোনো অগ্রগতির তথ্য আমাদের কাছে নেই। কেউ কোনো ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন কি না, সেটাও আমাদের জানা নেই। আমরা রুল শুনানির উদ্যোগ নেবো। রুল শুনানির পর আদালত কী রায় দেন, তার আলোকে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষে রিটের শুনানিতে থাকা তৎকালীন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শফিকুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ক্ষতিপূরণ ও তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য নির্দেশনা চেয়ে রিট আবেদনের পর রুল জারি করেছিলেন উচ্চ আদালত। আমি দায়িত্বে থাকার সময় বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রতিবেদন এসেছিল। ওই ক্ষতিপূরণের বিষয়ে কোনো অগ্রগতি নেই। এখনো রুল শুনানি হয়নি।
জানতে চাইলে বর্তমানে দায়িত্বরত ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মহিউদ্দিন হানিফ বলেন, মাইলস্টোনে বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত ও দুর্ঘটনার বিষয়ে জারি করা রুলের নথিপত্র আমার কাছে রয়েছে। কিন্তু এখনো অগ্রগতির বিষয়ে কিছু জানি না।
এফএইচ/এমকেআর








