মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ রাজধানী কুয়ালালামপুরের জালান আমপাং এলাকার একটি বাণিজ্যিক ভবনে অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশিসহ ১০৯ অভিবাসীকে আটক করেছে।

তারা ভিসার শর্ত লঙ্ঘন, অতিরিক্ত সময় অবস্থান ও বৈধ ভ্রমণ নথি প্রদর্শনে ব্যর্থ হওয়াসহ বিভিন্ন অভিবাসন আইনের অভিযোগে আটক হন।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে স্থানীয় জনসাধারণের অভিযোগের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। তাদের অভিযোগ ছিল, ওই এলাকায় বিদেশি নাগরিকদের সন্দেহজনক উপস্থিতি বেড়ে গেছে।

ইমিগ্রেশন বিভাগ জানায়, তিন সপ্তাহের গোয়েন্দা নজরদারির পর ৫৮ কর্মকর্তার একটি দল ভবনটির টাওয়ার-১-এর ১৮তম এবং টাওয়ার-৩-এর ২৪তম তলায় অভিযান চালায়। সেখানে মোট ১২০ জনের পরিচয় যাচাই করা হয়। তাদের মধ্যে সাতজন মালয়েশিয়ার নাগরিক এবং ১১৩ জন বিদেশি ছিলেন।

অভিযানের সময় দেখা যায়, বিদেশি শ্রমিকরা ভবনের বিভিন্ন ইউনিটে সংস্কারকাজ করছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ভবনটি একটি বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা ও নিয়ন্ত্রিত প্রবেশপথসহ অভিজাত বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে চালুর প্রস্তুতি চলছিল। ধারণা করা হচ্ছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতেই এমন নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল।

আরও পড়ুন

মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টারে আটক ১১৩৩ বাংলাদেশি

ইমিগ্রেশন বিভাগের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, আটক বিদেশিদের অধিকাংশই সামাজিক ভিজিট পাসে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করলেও অনুমতি ছাড়া কাজ করছিলেন, যা তাদের পাসের শর্তের পরিপন্থি। এছাড়া কয়েকজনের বিরুদ্ধে ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পরও অবস্থান এবং বৈধ ভ্রমণ নথি দেখাতে না পারার অভিযোগও রয়েছে।

আটক ১০৯ বিদেশির মধ্যে ৭৮ জন চীনের নাগরিক। বাকি ৩১ জন বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও ভারতের নাগরিক। তাদের বয়স ৩০ থেকে ৪৩ বছরের মধ্যে। মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন আইন এবং ইমিগ্রেশন বিধিমালা অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আটক সবাইকে পরবর্তী তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার জন্য ইমিগ্রেশন ডিটেনশন ডিপোতে পাঠানো হয়েছে।

এছাড়া অভিযানে একজন মালয়েশিয়ান নাগরিককেও আটক করা হয়। তিনি ওই ভবনে বিদেশি কর্মীদের তদারকি ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তদন্তে সহায়তার জন্য ভবনটির যৌথ ব্যবস্থাপনা সংস্থার এক সুপারভাইজারকে সাক্ষী হিসেবে সমনও জারি করেছে ইমিগ্রেশন বিভাগ।

ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা এবং ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পর অবস্থান কিংবা পাসের অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িত বিদেশিদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে অবৈধ অভিবাসীদের নিয়োগ বা আশ্রয়দানকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

একিউএফ/জেআইএম