প্রায় দুই বছর আটকে থাকা এফবিসিসিআই নির্বাচনের পথ খুলতে যাচ্ছে বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা সংশোধনের মাধ্যমে। তবে পরিচালনা পর্ষদে ১২ জন মনোনীত পরিচালকের বিধান ও একাধিক প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি ভোটের প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীদের মধ্যে মতভেদ দেখা দিয়েছে।
ছোট ও সংস্কারপন্থি ব্যবসায়ী নেতাদের একাংশ সরাসরি নির্বাচনের পক্ষে থাকলেও মনোনীত পরিচালকের বিধান বহালের পক্ষে মত দিয়েছে বড় চেম্বার ও খাতভিত্তিক সংগঠনগুলো। তবে এ বিষয়ে মতভেদ থাকলেও বিধিমালা চূড়ান্ত করে সবাই দ্রুত নির্বাচন চায়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে পরিবর্তন আনা হয় বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালায়। তবে ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার সম্প্রতি বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা-২০২৫ সংশোধনের খসড়া প্রকাশ করেছে। বিধিমালার এ খসড়াটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে চাওয়া হয়েছে মতামত। এ বিষয়ে মতামত দেওয়া যাবে ২৫ জুলাই পর্যন্ত।
নতুন বিধিমালায় বাণিজ্য সংগঠনের নির্বাহী কমিটি বা পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি, সহ-সভাপতিসহ সবগুলো পদ সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)- এর পরিচালনা পর্ষদের সদস্যসংখ্যা ৪৬ থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ৪৮। নতুন করে দুইটি সহ-সভাপতির পদ বেড়েছে। এছাড়া বাণিজ্য সংগঠনের কোনো সদস্যের একাধিক ভোট থাকলেও নির্বাচনে তিনি একটির বেশি ভোট দিতে পারবেন না। এমন বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে।
আরও পড়ুন
এফবিসিসিআইতে বাড়ছে সহসভাপতির পদ, শীর্ষ পদে থাকছে না ভোটের বাধ্যবাধকতা
তবে, দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই- এর পর্ষদে ১২ মনোনীত পরিচালক রাখা ও তাদের নির্বাচনে নতুন প্রক্রিয়া নিয়েও অসন্তুষ্ট ব্যবসায়ীদের একাংশ। আপত্তি থাকলেও এই বিধিমালা দ্রুত প্রকাশের পর নির্বাচন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার পক্ষে তারা।
এফবিসিসিআইয়ে মনোনীত পরিচালক নিয়ে ব্যবসায়ীদের মতভেদ
দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের পরিচালনা পর্ষদে ১২ মনোনীত পরিচালক রাখা ও তাদের নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে ব্যবসায়ীদের একাংশের মধ্যে রয়েছে আপত্তি। তবে কেউ কেউ বলছেন, আগেও মনোনীত পরিচালকের বিধান ছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের আগে এফবিসিসিআই পরিচালনা পর্ষদ ছিল ৮০ জনের। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে করা বিধিমালায় পর্ষদের আকার কমিয়ে ৪৬-এ নামিয়ে আনা হয়। এরপর বর্তমান বিএনপি সরকারের করা খসড়া নতুন বিধিমালায় দুটি সহ-সভাপতি পদ যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
খসড়ায় বলা হয়েছে, ৪৮ জনের পর্ষদে সভাপতি, সিনিয়র সহ-সভাপতি, চার সহ-সভাপতি ছাড়া ৪২ পরিচালকের মধ্যে ৩০ জন চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপ থেকে নির্বাচিত হবেন। চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপ থেকে ৫ জন করে ১০ জন মনোনীত পরিচালক থাকবেন। এর বাইরে নারী চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপ থেকে একজন করে ২ জন মনোনীত পরিচালক পর্ষদে যুক্ত হবেন। এই ১২ জন মনোনীত পরিচালকের জন্য নির্বাচিত পর্ষদ ২২ জনের নাম সরকারের কাছে পাঠাবে। ওই প্রস্তাব পাওয়ার পর সরকার মনোনীত পরিচালক চূড়ান্ত করবে।
এফবিসিসিআইয়ের সব পদেই সরাসরি নির্বাচন বাধ্যতামূলক করা উচিত। এটি শুধু আমাদের নয়, ব্যবসায়ী সমাজের দীর্ঘদিনের দাবি। নির্বাচিত প্রতিনিধিই ব্যবসায়ীদের সমস্যা, চাওয়া-পাওয়া ও বাস্তবতা সবচেয়ে ভালোভাবে বুঝতে পারেন। কিন্তু মনোনীত ব্যক্তি সেই জবাবদিহির জায়গায় থাকেন না।— এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সহ-সভাপতি মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ
চেম্বার বডির মধ্যে ঢাকা চেম্বার, চট্টগ্রাম চেম্বার, রাজশাহী চেম্বার, খুলনা চেম্বার, বরিশাল চেম্বার, সিলেট চেম্বার, এমসিসিআই, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রি, রংপুর চেম্বার, ঢাকা উইমেন চেম্বার, চট্টগ্রাম উইমেন চেম্বার, বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার, ময়মনসিংহ চেম্বার ও চিটাগাং মেট্রোপলিটন চেম্বার থেকে মনোনীত পরিচালকের নাম প্রস্তাব করা যাবে। এছাড়া বাণিজ্য সংগঠনগুলোর মধ্যে বিজিএমইএ, বিটিএমএ, হিমায়িত খাদ্য রপ্তানিকারক সমিতি, পাটকল সমিতি, ওষুধ শিল্প সমিতি, অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস, বিকেএমইএ, বায়রা, প্লাস্টিক পণ্য প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি, রিহ্যাব, বেসিস, সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি ও আসবাব রপ্তানিকারক সমিতি থেকে মনোনীত পরিচালকের প্রস্তাব পাঠানো যাবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সহ-সভাপতি ও সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের আহ্বায়ক মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, এফবিসিসিআইয়ের সব পদেই সরাসরি নির্বাচন বাধ্যতামূলক করা উচিত। এটি শুধু আমাদের নয়, ব্যবসায়ী সমাজের দীর্ঘদিনের দাবি। নির্বাচিত প্রতিনিধিই ব্যবসায়ীদের সমস্যা, চাওয়া-পাওয়া ও বাস্তবতা সবচেয়ে ভালোভাবে বুঝতে পারেন। নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচিত হলে সদস্যদের সঙ্গে তার জবাবদিহি ও যোগাযোগ তৈরি হয়। কিন্তু মনোনীত ব্যক্তি সেই জবাবদিহির জায়গায় থাকেন না। তাই আমরা চাই, সব পদে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচিত হোক। পাশাপাশি দ্রুত নির্বাচন দিয়ে ব্যবসায়ীদের সংগঠন আবার ব্যবসায়ীদের হাতেই ফিরিয়ে দেওয়া হোক।
আরও পড়ুন
নির্বাচনের আগেই এফবিসিসিআইয়ে ব্যবসায়ী প্রশাসক চান ব্যবসায়ীরা
মনোনীত পরিচালকের বিধান বহাল থাকলে কী হবে— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে ব্যবসায়ী সমাজ যে সিদ্ধান্ত নেবে, আমরা সেটিই অনুসরণ করবো। তবে আমার বিশ্বাস, সরকার ব্যবসায়ীদের যৌক্তিক দাবিগুলো বিবেচনায় নেবে এবং এফবিসিসিআইকে একটি গণতান্ত্রিক ও প্রতিনিধিত্বশীল সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
জানতে চাইলে এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে মনোনীত পরিচালকের পক্ষে নই। যদিও আমি নিজেও নমিনেটেড (মনোনীত) হয়ে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলাম। আমার সভাপতির দায়িত্বে থাকাকালেও এই ব্যবস্থা তুলে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। তবে বর্তমান ভোটার কাঠামো অপরিবর্তিত রেখে শুধু মনোনীত পরিচালকের বিধান বাতিল করলে বড় বড় খাতভিত্তিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা এফবিসিসিআইতে আসতে পারবেন না। তাই আগে নির্বাচন ও প্রতিনিধিত্বের কাঠামো সংস্কার করতে হবে।
এ বিষয়ে এফবিসিসিআই সংস্কার পরিষদের সদস্যসচিব জাকির হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, আমরা ২০২৫ সালের বিধিমালার পক্ষে। মনোনীত পরিচালক বাদ দিতে আমরা দীর্ঘদিন আন্দোলন করেছি। সরকারের কাছে আমরা এখন আবার লিখিত জমা দেবো।
তবে মনোনীত পরিচালক নিয়ে আপত্তি না থাকার কথাও জানিয়েছেন অনেক ব্যবসায়ী। এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক ও বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিকেলস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের (বারভিডা) সভাপতি আবদুল হক জাগো নিউজকে বলেন, প্রধান প্রধান খাত বা গুরুত্বপূর্ণ চেম্বার-অ্যাসোসিয়েশন থেকে কিছু মনোনীত পরিচালক আগেও ছিল, ভবিষ্যতেও সীমিত পরিসরে থাকলে সমস্যা নেই। তবে এফবিসিসিআইয়ের কাঠামোগত দুর্বলতা ও অস্পষ্টতা দূর করতে হবে। এসব দুর্বলতার কারণেই সংগঠনটি জাতীয় চেম্বার হিসেবে তার প্রকৃত ভূমিকা পালন করতে পারেনি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এফবিসিসিআই যেন আর কোনোভাবেই রাজনীতিকীকরণের শিকার না হয়।
এসব সংগঠনের নেতৃত্বে সাধারণত অভিজ্ঞ ও যোগ্য ব্যক্তিরাই থাকেন। তাদের মধ্যে থেকে প্রতিনিধি মনোনয়ন দিলে এফবিসিসিআইয়ের সক্ষমতা ও গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়বে। মনোনয়ন না থাকলে অনেক বড় চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশন এফবিসিসিআইয়ের পরিচালনায় অংশ নিতে আগ্রহী হবে না।— বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী
এফবিসিসিআই নির্বাচনে মনোনীত পরিচালকের পক্ষে মত দিয়ে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি ও বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ জাগো নিউজকে বলেন, আমি অবশ্যই মনোনীত পরিচালকের পক্ষে। বিজিএমইএ, ঢাকা চেম্বার, চট্টগ্রাম চেম্বার, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ, বিকেএমইএ, বিটিএমএ-সহ বড় চেম্বার ও খাতভিত্তিক সংগঠনগুলোর নিজস্ব সদস্য ও সরকারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সক্ষমতা রয়েছে। এ কারণে তারা সাধারণত এফবিসিসিআইয়ের পরিচালনা পর্ষদে আসতে আলাদা করে নির্বাচন করতে আগ্রহী হয় না। কিন্তু এফবিসিসিআইকে যদি সত্যিকার অর্থে শক্তিশালী ও প্রতিনিধিত্বশীল অ্যাপেক্স বডি হিসেবে গড়ে তুলতে হয়, তাহলে এসব সংগঠনের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। সে কারণে মনোনীত পরিচালকের বিধান থাকা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন
এলডিসি বিলম্বিত, উত্তরণে টেকসই ও মসৃণ পথ খুঁজছে সরকার
তিনি আরও বলেন, এসব সংগঠনের নেতৃত্বে সাধারণত অভিজ্ঞ ও যোগ্য ব্যক্তিরাই থাকেন। তাদের মধ্যে থেকে প্রতিনিধি মনোনয়ন দিলে এফবিসিসিআইয়ের সক্ষমতা ও গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়বে। মনোনয়ন না থাকলে অনেক বড় চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশন এফবিসিসিআইয়ের পরিচালনায় অংশ নিতে আগ্রহী হবে না।
এফবিসিসিআই নির্বাচন প্রসঙ্গে আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী বলেন, কিছু সংগঠনের জন্য এফবিসিসিআই খুব গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে বড় জাতীয় চেম্বার ও খাতভিত্তিক সংগঠনগুলোর নিজস্ব পরিচিতি ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে। তাদের জন্য এফবিসিসিআইতে পরিচালক হওয়ার চেয়ে নিজ নিজ সংগঠনের দায়িত্বই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে মনোনয়নের সুযোগ রাখাই বাস্তবসম্মত।
একাধিক প্রতিষ্ঠান থাকলেও ভোট একটি
আগে একজন ব্যক্তির যতগুলা প্রতিষ্ঠান ছিল ততগুলো ভোট দিতে পারতেন তিনি। তবে নতুন খসড়ায় এই নিয়মে পরিবর্তন আনা হয়েছে। মূলত সংগঠনগুলোতে একক ব্যক্তি বা শিল্প গোষ্ঠীর প্রভাব কমাতে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ছোট ব্যবসায়ীদের অনেকে এটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও বড় ব্যবসায়ী নেতারা এতে আপত্তি তুলেছেন।
আরও পড়ুন
মানুষের হাতে বাড়ছে নগদ টাকা, তারল্য ও ঋণপ্রবাহে বাড়তে পারে চাপ
এ বিষয়ে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, কোম্পানিই একটি সংগঠনের সদস্য, ব্যক্তি নয়। একজন উদ্যোক্তার ১০ বা ২০টি পৃথক কোম্পানি থাকলে প্রতিটি কোম্পানিরই স্বতন্ত্র আইনি সত্তা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে সব কোম্পানির পরিবর্তে একটি ভোটে সীমাবদ্ধ রাখার প্রস্তাব বাস্তবতার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ- সেটি বিবেচনা করা প্রয়োজন। একইভাবে বিদেশি কোম্পানির প্রতিনিধি ভোট দিতে পারলে দেশীয় বড় শিল্পগোষ্ঠীর ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য হওয়া উচিত।
তবে ভিন্নমত পোষণ করে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি ও বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, একজন উদ্যোক্তার একাধিক প্রতিষ্ঠান থাকলেও ভোট একটি হওয়াই যৌক্তিক। একজনের ১০টি প্রতিষ্ঠানের জন্য ১০টি ভোট থাকার কোনো যুক্তি নেই। এ বিধানটি আমি ইতিবাচক হিসেবেই দেখি।
রিটের ভবিষ্যত কী?
এফবিসিসিআই নির্বাচন নিয়ে হািইকোর্টে রিট রয়েছে। এ বিষয়ে এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সহ-সভাপতি মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, বর্তমান সংশোধনীতে আমাদের অনেক আপত্তির বিষয়ই অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তবে এখনো কিছু সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে। ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে আমরা লিখিত মতামত দেবো। আমাদের প্রস্তাবগুলো জনস্বার্থ ও আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সেগুলো গ্রহণ করা হলে রিটের বিষয়টিও স্বাভাবিকভাবে নিষ্পত্তির পথে যাবে।
এফবিসিসিআইয়ে প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হলে ভোটার তালিকা ও অ্যাসোসিয়েশন কাঠামো পুনর্বিন্যাস জরুরি। বর্তমানে অনেক সংগঠনের কার্যকর অস্তিত্ব নেই, কিন্তু নির্বাচনকেন্দ্রিক কার্যক্রমে তাদের ব্যবহার করা হয়। এতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা নেতৃত্বে আসতে পারছেন না।— এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন
রিটের পেছনে কোনো প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নাকচ করে তিনি বলেন, এটি কোনো ব্যক্তি বা বড় ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর স্বার্থে করা হয়নি। জনস্বার্থে এবং আইনের ব্যত্যয়ের কারণেই রিট করা হয়েছিল। আইনের ভিত্তি না থাকলে আদালত এ ধরনের আবেদন গ্রহণ করতেন না।
এ বিষয়ে এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক আবদুল হক জাগো নিউজকে বলেন, সংগঠন নিয়ে দেশে কেন এমনটি হয়েছে কিংবা হচ্ছে- সেটি খুঁজে বের করতে হবে। এর অর্থ হলো, বিদ্যমান কাঠামোর মধ্যেই কিছু দুর্বলতা রয়েছে। সেই দুর্বলতাগুলো দূর করতে হবে, যাতে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী জাতীয় চেম্বারের কার্যক্রমকে জিম্মি করতে না পারে।
ভোট কেনাবেচার সংগঠনকে অকার্যকর করতে হবে
এফবিসিসিআই নির্বাচনে নামসর্বস্ব বেশ কিছু সংগঠন ও ব্যবসায়ী ভোট কেনাবেচা করে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক আবদুল হক বলেন, যেসব সংগঠনের মাধ্যমে ভোট কেনাবেচার মতো অনৈতিক কর্মকাণ্ড হয়, সেগুলোকে চিহ্নিত করে অকার্যকর করতে হবে। এ ধরনের ঘটনা পুরো ব্যবসায়ী সমাজের জন্য কলঙ্কজনক, সরকারের জন্যও লজ্জাজনক। বিশ্বের সব দেশেই একটি কার্যকর জাতীয় চেম্বার থাকে। সেখানে বাংলাদেশের জাতীয় চেম্বার দুই বছর কার্যত অকার্যকর ছিল, যা দেশের জন্য লজ্জার এবং বেসরকারি খাতের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তাই এমন সংস্কার করতে হবে, যাতে এ ধরনের দুর্বলতা স্থায়ীভাবে দূর হয় এবং আর কোনো সংকট তৈরি না হয়।
আরও পড়ুন
দেশে বিপুল মুনাফা বিদেশি ব্যাংকের, বঞ্চিত স্থানীয় বিনিয়োগকারীরা
এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, এফবিসিসিআইয়ে প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হলে ভোটার তালিকা ও অ্যাসোসিয়েশন কাঠামো পুনর্বিন্যাস জরুরি। বর্তমানে অনেক সংগঠনের কার্যকর অস্তিত্ব নেই, কিন্তু নির্বাচনকেন্দ্রিক কার্যক্রমে তাদের ব্যবহার করা হয়। এতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা নেতৃত্বে আসতে পারছেন না। বর্তমান কাঠামোয় প্রকৃত উদ্যোক্তাদের প্রতিনিধিত্ব দুর্বল হয়ে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ভোটার তৈরির প্রক্রিয়াও প্রশ্নবিদ্ধ। ফলে যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য ব্যবসায়ীদের পরিবর্তে অযোগ্য ব্যক্তিরা নেতৃত্বে চলে আসছেন। এফবিসিসিআইকে শক্তিশালী ও কার্যকর করতে হলে আগে এই মৌলিক কাঠামোগত সমস্যাগুলোর সমাধান করতে হবে।
১৯৬১ সালের বাণিজ্য সংগঠন অধ্যাদেশ বাতিল করে ২০২২ সালে নতুন বাণিজ্য সংগঠন আইন প্রণয়ন করে সরকার। এ আইনের ভিত্তিতে বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা-২০২৫– এর প্রজ্ঞাপন জারি করে বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকার। গত বছরের মে মাসে এই প্রজ্ঞাপন জারির পর এফবিসিসিআইয়ের পাশাপাশি ঢাকা চেম্বার, মেট্রোপলিটন চেম্বারসহ বেশ কয়েকটি বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা নিয়ে আপত্তি জানায়। বিধিমালা সংশোধন না হওয়ায় নির্বাচন প্রক্রিয়াটি থমকে রয়েছে। এমনকি বিধিমালা সংশোধন চেয়ে একাধিক রিট আবেদনও করা হয়। তবে, এই নির্বাচন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে এরই মধ্যে বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালার খসড়া প্রকাশ করেছে বর্তমান সরকার।
ইএইচটি/কেএসআর








