২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর অন্যতম আকর্ষণীয় ও হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে সোমবার মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের অন্যতম পরাশক্তি নেদারল্যান্ডস এবং আফ্রিকার সিংহ মরক্কো। গ্রুপ পর্বে অপরাজিত থেকে দুই দলই ৭ পয়েন্ট নিয়ে নকআউট পর্বে পা রেখেছে। একদিকে ডাচদের আগুনে আক্রমণভাগ, অন্যদিকে মরক্কোর লড়াকু মানসিকতা সব মিলিয়ে জিলেট স্টেডিয়ামে একটি ধ্রুপদী লড়াইয়ের অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব।
দুই দলেরই গ্রুপ পর্বের পারফরম্যান্স ছিল দুর্দান্ত। ৩ ম্যাচ থেকে দুই দলই সমান ৭ পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে।
নেদারল্যান্ডস গ্রুপ ‘এফ’ চ্যাম্পিয়ন। জাপানের সাথে ২-২ গোলে ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করার পর সুইডেন ও তিউনিসিয়াকে টানা দুই ম্যাচে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয় রোনাল্ড কোম্যানের দল। মরক্কো গ্রুপ ‘সি’ রানার্স-আপ। শক্তিশালী ব্রাজিলের সাথে ১-১ গোলে ড্র করার পর স্কটল্যান্ডকে ১-০ এবং হাইতিকে ৪-২ গোলে হারিয়ে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করে মোহাম্মদ ওহাবির দল। কেবল গোল ব্যবধানে তারা ব্রাজিলের পেছনে ছিল।
রোনাল্ড কোম্যানের অধীনে ডাচরা তাদের ঐতিহ্যবাহী আক্রমণাত্মক ঘরানার ফুটবল খেলছে। উইংয়ের গতি এবং মিডফিল্ডের নিয়ন্ত্রণের ওপর ভিত্তি করে তারা প্রতিপক্ষকে চেপে ধরে। গ্রুপ পর্বের ৩ ম্যাচেই তারা প্রতিপক্ষের জালে জড়িয়েছে ১০টি গোল। উইং-ব্যাকদের ওভারল্যাপিং এবং বক্সের ভেতর ফিনিশিং দক্ষতা তাদের শিরোপার অন্যতম প্রধান দাবিদার করে তুলেছে।
১৯৭৪, ১৯৭৮ ও ২০১০ সালের রানার্সআপ এবং ২০২২-এর কোয়ার্টার ফাইনালিস্ট ডাচরা এখনো সোনালী ট্রফিটি ছুঁয়ে দেখতে পারেনি। এবার সেই খরা কাটানোর মিশন তাদের।
মোহাম্মদ ওহাবির মরক্কো দলগত সংহতি এবং কাউন্টার-অ্যাটাকের ওপর ভীষণ নির্ভরশীল। ব্রাজিলের মতো দলের বিরুদ্ধে ড্র করা প্রমাণ করে যে বিশ্বের যেকোনো বড় দলের আক্রমণ রুখে দেওয়ার সামর্থ্য রয়েছে তাদের।
দুর্দান্ত রক্ষণভাগ এবং মাঝমাঠ থেকে দ্রুত আক্রমণে ওঠার ক্ষমতা। বিশেষ করে আশরাফ হাকিমি ও ব্রাহিম দিয়াজের মতো বিশ্বমানের তারকাদের উপস্থিতি মরক্কোকে যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার সুবিধা দেয়। ২০২২ বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়া মরক্কো এবারও তাদের সেই রূপকথার পুনরাবৃত্তি ঘটাতে মরিয়া।
ডেনজেল ডামফ্রিস ও ব্রায়ান ব্রবির চোট নিয়ে কিছুটা শঙ্কা থাকলেও তারা পুরোপুরি ফিট হয়ে দলে ফিরেছেন। তিউনিসিয়া ম্যাচের একাদশ থেকে একমাত্র পরিবর্তন হিসেবে নাথান আকের জায়গায় বাঁ-প্রান্তের ফুল-ব্যাক হিসেবে শুরুর একাদশে ফিরতে যাচ্ছেন মিকি ফন ডে ভেন। মেমফিস ডিপাই, জাস্টিন ক্লুইভার্ট ও ক্রাইসেনসিও সামারভিলকে বেঞ্চ থেকে ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবহার করা হতে পারে।
হাইতির বিপক্ষে ম্যাচের একাদশে বেশ কিছু পরিবর্তনের আভাস রয়েছে মরক্কো শিবিরে। শুরুর একাদশে ফিরতে পারেন নুসাইর মাজরাউই, ইসা দিয়প, আয়ুব বুয়াদ্দি এবং আজেদিন উনাহি। আগামী মৌসুমে বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দেওয়ার অপেক্ষায় থাকা ইসমাইল সাইবারি আছেন দুর্দান্ত ফর্মে। ডাচ ডিফেন্স ভাঙতে তিনিই হবেন মরক্কোর মূল বাজি। এছাড়া অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি ও ব্রাহিম দিয়াজ শুরু থেকেই মাঠে থাকবেন। এরআগে, দুই দল মোট ৩ বার মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে স্মরণীয় লড়াইটি হয়েছিল ১৯৯৪ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে, যেখানে মরক্কোকে ২-১ গোল হারিয়েছিলো ডাচরা।








