অনেকেই লক্ষ্য করেন একই জায়গায় থাকলেও কিছু মানুষকে মশা বারবার কামড়ায়, আবার অন্যরা প্রায় অক্ষতই থাকেন। দীর্ঘদিন ধরে অনেকের ধারণা ছিল, মিষ্টি রক্ত থাকলেই মশা বেশি কামড়ায়।
তবে গবেষকরা বলছেন, এই ধারণার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। বরং মানুষের শরীর থেকে নির্গত কার্বন ডাই-অক্সাইড, শরীরের তাপমাত্রা, ঘামের গন্ধ এবং ত্বকের বিশেষ রাসায়নিক উপাদানই নির্ধারণ করে কে মশার কাছে বেশি আকর্ষণীয় হবে।
গবেষণায় দেখা গেছে, স্ত্রী মশা ডিম তৈরির জন্য রক্তের প্রয়োজন হয়। তাই তারা প্রায় ১০ মিটার দূর থেকেই মানুষের নিঃশ্বাসে থাকা কার্বন ডাই-অক্সাইড শনাক্ত করতে পারে। যেসব মানুষ বেশি কার্বন ডাই-অক্সাইড ত্যাগ করেন, যেমন প্রাপ্তবয়স্ক, বড় শারীরিক গঠনের মানুষ বা ব্যায়াম করার পর, তারা মশার কাছে বেশি আকর্ষণীয় হন।
এ ছাড়া শরীরের তাপমাত্রাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গর্ভবতী নারীদের শরীর তুলনামূলক বেশি উষ্ণ থাকে এবং তারা বেশি কার্বন ডাই-অক্সাইড ত্যাগ করেন। ফলে তাদের মশা কামড়ানোর ঝুঁকি সাধারণ মানুষের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষের ত্বক থেকে নির্গত গন্ধও মশা শনাক্ত করতে পারে। ত্বকের ব্যাকটেরিয়া বিভিন্ন রাসায়নিক যৌগ তৈরি করে, যা বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। যাদের ত্বকে নির্দিষ্ট ধরনের কার্বক্সিলিক অ্যাসিড বেশি থাকে, তারা মশার কাছে অনেক বেশি আকর্ষণীয়।
যুক্তরাষ্ট্রের রকফেলার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় ৬৪ জন মানুষের ত্বকের গন্ধ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সবচেয়ে আকর্ষণীয় ব্যক্তিকে মশা সবচেয়ে কম আকর্ষণীয় ব্যক্তির তুলনায় প্রায় ১০০ গুণ বেশি পছন্দ করেছে। গবেষকদের মতে, এই বৈশিষ্ট্য দীর্ঘ সময় ধরে প্রায় অপরিবর্তিত থাকে এবং অনেকাংশেই জিনগতভাবে নির্ধারিত।
তবে সবাই সমানভাবে মশার কামড়ে প্রতিক্রিয়া দেখান না। কারও শরীরে কামড়ের পর বড় ও চুলকানিযুক্ত ফোলা দাগ হয়, আবার কারও ক্ষেত্রে সামান্য লালচে দাগ দেখা যায়। তাই অনেক সময় যাদের শরীরে বেশি প্রতিক্রিয়া হয়, তারা মনে করেন মশা তাদেরই বেশি কামড়াচ্ছে।
গবেষকদের পরামর্শ, মশা কম কামড়ালেও আত্মতুষ্ট হওয়ার সুযোগ নেই। কারণ মশাবাহিত বিভিন্ন রোগ থেকে সুরক্ষার জন্য সবারই মশা প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
সূত্র: বিবিসি
এমএসএম








