বর্ষাকাল মানেই প্রকৃতিতে সবুজের সমারোহ, সঙ্গে বাজারজুড়ে দেখা মেলে নানা রকম দেশি মৌসুমি ফলের। জাম, জামরুল, লটকন, ডেউয়া, আতা, পেয়ারা কিংবা আনারসের মতো ফলগুলো পুষ্টিগুণে ভরপুর। অনেকেই সারা বছর সব ধরনের ফল খেতে চান। কিন্তু পুষ্টিবিদদের মতে, মৌসুমে উৎপাদিত ফল খাওয়াই সবচেয়ে ভালো।

কারণ মৌসুমি ফল স্বাভাবিক পরিবেশে জন্মায়, তুলনামূলকভাবে বেশি তাজা থাকে এবং শরীরের মৌসুমি চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই বর্ষাকালে খাদ্যতালিকায় মৌসুমি ফল রাখা হতে পারে একটি স্বাস্থ্যকর অভ্যাস।

শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি সহজেই মেলে

প্রতিটি মৌসুমের ফলেই সেই সময়ের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান বেশি থাকে। বর্ষার ফলগুলোতে সাধারণত ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, খাদ্যআঁশ, পটাশিয়াম ও বিভিন্ন খনিজ উপাদান থাকে, যা শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

বিশেষ করে বর্ষাকালে সংক্রমণের ঝুঁকি কিছুটা বেড়ে যায়। এ সময় ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল রোগ প্রতিরোধক্ষমতা ভালো রাখতে সহায়ক হতে পারে।

রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে

বর্ষার আর্দ্র আবহাওয়ায় সর্দি-কাশি, ভাইরাল জ্বর ও বিভিন্ন সংক্রমণের প্রবণতা বাড়ে। মৌসুমি ফলে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন সি শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত ফল খাওয়ার অভ্যাস শরীরকে ফ্রি-র‌্যাডিকেলের ক্ষতিকর প্রভাব থেকেও কিছুটা সুরক্ষা দিতে পারে।

jago

হজম ভালো রাখতে ভূমিকা রাখে

বর্ষাকালে অনেকেরই হজমের সমস্যা, গ্যাস বা কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়। মৌসুমি ফলের প্রাকৃতিক আঁশ অন্ত্রের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে এবং হজম সহজ করে। পেয়ারা, আনারস ও লটকনের মতো ফলে থাকা আঁশ নিয়মিত মলত্যাগেও সহায়ক হতে পারে।

শরীরকে রাখে সতেজ ও আর্দ্র

বর্ষাকালে আবহাওয়ায় আর্দ্রতা বেশি থাকলেও শরীরে পানির ঘাটতি হতে পারে। তাই এ সময় পর্যাপ্ত পানি পান করার পাশাপাশি পানিসমৃদ্ধ ফল খাওয়াও জরুরি। জামরুল, আনারস ও অন্যান্য মৌসুমি ফলে প্রচুর পানি থাকে, যা শরীরকে হাইড্রেট রাখতে সাহায্য করে। এসব ফলে থাকা প্রাকৃতিক শর্করা শরীরে দ্রুত শক্তি জোগায় এবং ক্লান্তি কমাতেও সহায়ক হতে পারে।

শরীরের ক্ষতিকর পদার্থ দূর করতে সহায়তা করে

বর্ষার ফলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা শরীরকে ক্ষতিকর ফ্রি-র‌্যাডিকেলের প্রভাব থেকে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে। এটি শরীরের স্বাভাবিক প্রতিরোধব্যবস্থাকে সক্রিয় রাখতে সহায়তা করে এবং সুস্থ থাকতে ভূমিকা রাখে। তবে শরীর থেকে টক্সিন বের করে লিভার ও কিডনিকে ভালো রাখে।

ত্বকের জন্যও উপকারী

ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ ফল ত্বকের কোলাজেন তৈরিতে সহায়তা করে। এতে ত্বক কিছুটা উজ্জ্বল ও সতেজ দেখাতে পারে। পাশাপাশি ফলের বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান ত্বককে ভেতর থেকে পুষ্টি জোগায়, যা ত্বকের সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

আরও পড়ুন

খালি পেটে খাওয়া যাবে না যেসব ফল

তাজা ও স্বাদে ভালো

মৌসুমে উৎপাদিত ফল সাধারণত বেশি টাটকা থাকে। দূর থেকে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করে আনা ফলের তুলনায় এগুলোর স্বাদ, গন্ধ ও পুষ্টিগুণও অনেক সময় ভালো থাকে। এছাড়া মৌসুমে ফলের দামও তুলনামূলক কম থাকে, ফলে কম খরচে বেশি পুষ্টি পাওয়া যায়।

ফল খাওয়ার সময় কিছু বিষয় মনে রাখুন

ফল কেনার সময় টাটকা ফল বেছে নিন। খাওয়ার আগে পরিষ্কার পানিতে ভালোভাবে ধুয়ে নিন। কাটা ফল দীর্ঘ সময় বাইরে না রেখে দ্রুত খেয়ে ফেলাই ভালো।

একসঙ্গে অতিরিক্ত ফল খাওয়ার পরিবর্তে প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণে বিভিন্ন ধরনের ফল খাওয়ার অভ্যাস করুন। ডায়াবেটিস বা কিডনির রোগ থাকলে কোন ফল কতটা খাওয়া উচিত, সে বিষয়ে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

আরও পড়ুন

একসঙ্গে একাধিক ফল খাওয়া কি স্বাস্থ্যসম্মত

বর্ষার মৌসুমি ফল শরীরের প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টেরও ভালো উৎস। সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে প্রতিদিন মৌসুমি ফল খাওয়ার অভ্যাস রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে পারে। তাই এই বর্ষায় বাজারে পাওয়া মৌসুমি ফলগুলো প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখুন।

সূত্র: হেলথলাইন, মেড ইন্ডিয়া, এনডিটিভি ও অন্যান্য

এসএকেওয়াই